x

আসন্ন সঙ্কলন


যারা নাকি অনন্তকাল মিছিলে হাঁটে, তাদের পা বলে আর বাকি কিছু নেই। নেই বলেই তো পালাতে পারেনা। পারেনা বলেই তারা মাটির কাছাকাছি। মাটি দ্যাখে, মাটি শোনে, গণনা করে মৃৎসুমারী। কেরলের মাটি কতটা কৃষ্ণগৌড়, বাংলার কতটা তুঁতে! কোন শ্মশানে ওরা পুঁতে পালালো কাটা মাসুদের লাশ, কোন গোরেতে ছাই হয়ে গেলো ব্রহ্মচারী বৃন্দাবন। কোথায় বৃষ্টি টা জরুরী এখন, কোথায় জলরাক্ষুসী গিলে খাচ্ছে দুধেগাভিনের ঢাউস পেট। মিছিলে হাঁটা বুর্বক মানুষ সেসবই দেখতে থাকে যেগুলো নাকি দেখা মানা, যেগুলো নাকি শোনা নিষেধ, যেগুলো নাকি বলা পাপ। দেশে পর্ণ ব্যন্ড হল মোটে এইতো ক'টা মাস, সত্য নিষিদ্ধ হয়েছে সেই সত্যযুগ থেকে। ভুখা মিছিল, নাঙ্গা মিছিল, শান্তি মিছিল, উগ্র মিছিল, ধর্ম মিছিল, ভেড়ুয়া মিছিল যাই করি না কেন এই জুলাইয়ের বর্ষা দেখতে দেখতে প্রেমিকের পুংবৃন্ত কিছুতেই আসবে না হে কবিতায়, কল্পনায়... আসতে পারে পৃথিবীর শেষতম মানুষগন্ধ নাকে লাগার ভালোলাগা। mail- submit@sobdermichil.com

ভালোবাসার  আষাঢ় শ্রাবণ

অতিথি সম্পাদনায়

সৌমিতা চট্টরাজ

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৭

পলাশ কুমার পাল

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০১৭ |
সেলাই
ফোঁড়ের পর ফোঁড়ে জুতোটা গোটা হয়ে উঠছে। অথচ তন্ময়ের মনটা খচখচ করতে থাকে। কেটে যায় যেন। বৃদ্ধ পাঁচুজেঠু বড় হয়ে তার জুতোটা হাতে করেছে। জীবিকা এমনই? নিজেকে বড্ড ছোটো মনে হচ্ছে। সে নিজে কেন পারেনি, কেন নিজে সারিয়ে নেয়নি। আবার মনে হয় সে নিজে সারিয়ে নিলে পাঁচুজেঠু কীভাবে উপার্জন করবে। ওনাকেও তো রোজগার করতে হবে।

"আটটাকা দেবে!"

জুতোটা তন্ময়ের বামপায়ের দিকে বাড়িয়ে, অন্য জুতো পালিশ করতে শুরু করে দেয়।

তন্ময় খুচরো দশটাকার নোট পাঁচুজেঠুকে দিয়ে প্রণাম করবে কিনা ভাবতে থাকে। বাজারের মধ্যে মুচির পায়ে ব্রাহ্মণ হয়ে হাত দেবে? প্রণাম না করলেও যে মানুষটাকে অপমান করা হবে। ছোটো থেকে শিখেছে বড়োদের গায়ে পা লাগলে প্রণাম করতে হয়। আর পাঁচুজেঠু তো তার জুতো হাতে করছে।

"এই নাও!" কাঁপা কাঁপা হাতে দু'টাকা ফেরত্ দেয়। টাকা নেওয়ার সময় তন্ময় দুহাতে পাঁচুজেঠুকে প্রণাম করে।

"এই, এই, কী করলে?" বলেই অবাক পাঁচু তন্ময়ের মাথায় হাত রাখে।

কোঁচ খাওয়া চামড়ার মাঝে চোখ দুটো খুশিতে ছলছল করে ওঠে। এতটা সম্মান আগে কেউ দেয়নি। মনটা জুড়ে যায় পাঁচুর।

"আশীর্বাদ করি বাবা, বড়ো হও! সুখী হও!"

কেউ কখনো এমনভাবে তো বলেনি। মনটা অনেকটা হালকা হয় তন্ময়েরও। সাথে মনের কাটা অংশটাও জুড়ে যায়। সে চোখ নামিয়ে দেখে জুতোর নিপুণ সেলাই।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.