x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

সায়ন্তনী বসু চৌধুরী

sobdermichil | আগস্ট ৩১, ২০১৭ | |
স্ব এর অধীন.. স্বাধীন
আমার এক চীনা বান্ধবী ইনস্টাগ্রামে তিনরঙা ভাতের ছবি দিয়েছে। গেরুয়া সাদা আর সবুজ। গর্বে আমার বুক ফুলে উঠেছে। ওর দেশের প্রতিও সম্মান জেগেছে। একটা নোংরা ছেলে বস্তির মুখে দাঁড়িয়ে আমায় আমিষ উক্তি করেছে। আমি ক্ষেপে লাল হয়ে গেছি। লজ্জায় নয়, রাগে বিরক্তিতে আমি ফেসবুক কাঁপিয়ে দিয়েছি পোস্ট করে। আমার ধর্ম নিয়ে খিল্লী করেছে ওরা। দপ্ করে জ্বলে উঠেছি আমি। সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি ওদের ওপর। ভোজালি, ছোরা, চাকু, তরোয়াল চলেছে ঘ্যাঁচাঘ্যাঁচ আর তারপর বেরিয়ে এসেছে লাল স্রোত। যার মধ্যে আমি আঁশগন্ধওয়ালা "স্ব"কে খুঁজে পেয়েছি। বারেবারে হাতড়ে বেরিয়েছি, কিন্তু নাহ্, আত্মাহংকারে নিমজ্জিত আমার বোধ তার অধীন হতে পারেনি।

পার্ক স্ট্রীট মোড়ে দাঁড়ানো একজন শিমেইলকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম, 

-"টাকার জন্য শরীর বেচে ঠিক কতটা আনন্দ পাওয়া যায়?"

উত্তরে সে বলেছিলো, 

-"আমি সুখী কারণ আমি নিজেকে বেচি। কোনও জাল জুয়াচুরি করে রোজগার করি না।" 

ওর কথাতে আমি আত্মমর্যাদা বোধ সম্পন্ন "স্ব" কে খুঁজে পেয়েছিলাম আবার। 

আমার যে বন্ধুরা সমকামী তারা সমকামের কথা বলে কবিতায়, গানে, কথায়। তারাও স্বশাসিত একটা জগৎ চায়। আমার যে বন্ধুরা ফেমিনিস্ট তারা শাড়িতে, ব্লাউজে, নখে, চুলে নারীত্বের ওম নিয়ে ঘোরে। পাছে কোনও বরফকঠিন অস্ত্র অবলা নারীকে বিদ্ধ করে! কেউ কেউ স্মোক করে। ভীষণ মাত্রায় গার্লি এবং গর্জাস রঙীন ধোঁয়া উড়ে যায়। কেউ কেউ নেশাতে বুঁদ হয়ে বাড়ী ফেরে এবং ফেসবুকে স্ট্যাটাস লেখে "আমি স্বাধীন"। কিন্তু হায় রে পোড়া কপাল, আমি "স্ব" কে পলায়ন করতে দেখি তাদের ছেড়ে যারা স্বাধীনতার মর্ম এতোটুকুনি বোঝে না।

আমার পঞ্চাশ পেরোনো মা সংসারের কোলের কাছে বসে কুটনো কাটে বাটনা বাটে আর ভাবে, এজীবনে তো ডীপ রঙ পরিনি, সমস্ত শাড়ি মেয়েটার জন্যই তুলে রাখি। 

কাউকে কাউকে কপিরাইটের জন্য লড়তে দেখি। কাউকে প্রেমের জন্য। শিক্ষার জন্য লড়াই, পশ্চিমী পোশাকের জন্য লড়াই, ব্লাড সুগারের চোখে ধুলো দিয়ে একটুকরো কাজু বরফির জন্য লড়াই অবিরাম চলতেই থাকে। 

কিন্তু লক্ষ্ণৌ দিল্লী হাইওয়ের ধারে একটা মেয়ে নগ্ন হয়ে পড়ে থাকলে সমস্ত লড়াই কেমন যেনো উবে যায়। তেড়েফুড়ে নিজের ব্যাগে "স্ব"টুকু পুরে আমরা প্রাণে এবং মানে বাঁচি। বয়সের ভারে ঝুলে পড়া এলো শরীর নিয়ে যে পাগলীটা মিত্রদের রোয়াকে বসে মাথা চুলকোয়, মিত্র বাড়ীর আঁতেলেকচুয়াল ছেলেও তাকে এড়িয়ে চলে। তবে পাগলীটাকে নিয়ে কবিতা লেখে রোজ। সে কবিতা ম্যাগাজিনে ছাপিয়ে মধ্যিখানে "স্ব" এঁটে ঘোরে। 

তিন সাড়ে তিনের ছোট্ট কচি শরীরের খালি গা মেয়েকে দেখলে আবার লোভ ফণা তুলে দাঁড়ায়। কীভাবে ঘটেছে, কোথা থেকে কতোটা রক্তপাত হয়েছে এসব তারিয়ে তারিয়ে পড়ার পরেও আমরা বুঝিনা আমাদের সবকিছুই তো গচ্ছিত। তবে কার অধীন আমরা? আমি, আপনি, সে... ঠিক কার অধীনে টেনে নিয়ে চলেছি এই জীবন? যে জীবন শোষণ করছে রিপু তা নিয়ে আর কতদূর এগোবো বলতে পারেন? যে জীবন শাসন করছে শুধুই অন্ধের মতো অনুকরণ কী করে সেখানে একটু নিজস্বতার ছাপ রেখে যাবো, সেই ভাবনার বীজ রোপণ করতেই আজ আমাদের স্বাধীনতা উদযাপন। আমি তেরঙ্গার আড়ালে আমার সমস্ত ভারতীয় বোনকে লুকোতে চাই, পাপচোখ যাদের ঝলসে দিয়ে গেছে, অ্যাসিডে যাদের চামড়া পুড়ে গেছে, শ্যাওলা ওয়ালা নখ যাদের সম্মান ছিনিয়ে নিয়েছে। আশা করি এই তেরঙ্গার ছায়াতেই আবার একদিন হিন্দু মুসলমান গরীব বড়োলোক নামী অনামী সক্কলে এক হয়ে আমরা নিজেদের প্রাণকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করতে পারবো। সেদিনই হবে প্রকৃত মাতৃ বন্দনার দিন।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.