x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

সোমবার, জুলাই ৩১, ২০১৭

রোজমেরী উইলসন

sobdermichil | জুলাই ৩১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
পরিচয় দান
-আজকে সব ঘর জ্বালিয়ে দেব শালা। দেখ একটাও যেন পালাতে না পারে। জ্যান্ত পুঁতে ফ্যাল সবকটাকে। 
জামাল আলীর মত তারস্বরে চীৎকার করছে তার দলের ছেলেরাও। আগুন জ্বলছে গ্রাম জুড়ে। রাস্তায় টায়ার পুড়ছে। বেশ কয়েকদিন ধরে অসহিষ্ণুতার হাওয়া বাতাস ভারী করে তুলেছে। পুলিশ জলকামান চালিয়েছে। রাস্তায় স্পেশাল ফোর্সের অস্বস্তিকর আসা যাওয়া। অনেকেই গ্রাম ফাঁকা করে এদিক ওদিক আত্মীয়স্বজনের বাড়ি অথবা অস্থায়ী আস্তানায় উঠে গেছে।

-কি রে অবস্থা কি বুঝছিস?

-চিন্তা করবেন না স্যার। এই জামাল যখন কথা দিয়েছে তা নড়চড় হবার না..

বারেবারে ফোন আসছে। চাপা স্বরে নির্দেশও, সঙ্গে চলছে অবস্থার আপডেট দেওয়া। ঠিক এইসময় একটা বাচ্চা ছেলের কান্না পুরোনো রাধাকৃষ্ণের মন্দিরের পাশ থেকে শোনা গেল। জামাল বীভৎস মুখভঙ্গি করে চীৎকার করে উঠল। ছেলের দলও জান্তব উল্লাসে অস্ত্র উঁচিয়ে ছুটল শব্দের অভিমুখে।

এক সদ্যজাত শিশুপুত্র নোংরা কাপড়ের মধ্যে শুয়ে হাত পা ছুঁড়ছে। তার কান্নায় বোঝার উপায় নেই তার ধর্ম, পিতৃপরিচয়। জামাল এখনো পিতৃসুখ থেকে বঞ্চিত। নিঃসন্তান বৌয়ের মুখটা মনে পরায় এক অপত্যস্নেহে জামাল আলীর উদ্যত হাতদুটি শিশুপুত্রটিকে তুলে বুকের কাছে নিয়ে আসে।

চারিদিকে খুঁজেও শিশুটির মাকে পাওয়া গেল না। শিশুটিও খিদেতে অস্থির হয়ে উঠেছে। কান্নার আওয়াজ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ছেলের দল কি করবে বুঝতে না পেরে জামালের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রইল।

দলের সকলকে চমকে দিয়ে অকস্মাৎ জামাল আলীর গলা শোনা গেল - হাঁ করে কি দেখছিস? সাবিনাকে খবর দে তাড়াতাড়ি একটু দুধ ফুটিয়ে আনতে। বলবি এতদিনে আল্লা আমাদের কথা শুনেছেন।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.