x

আসন্ন সঙ্কলন


যারা নাকি অনন্তকাল মিছিলে হাঁটে, তাদের পা বলে আর বাকি কিছু নেই। নেই বলেই তো পালাতে পারেনা। পারেনা বলেই তারা মাটির কাছাকাছি। মাটি দ্যাখে, মাটি শোনে, গণনা করে মৃৎসুমারী। কেরলের মাটি কতটা কৃষ্ণগৌড়, বাংলার কতটা তুঁতে! কোন শ্মশানে ওরা পুঁতে পালালো কাটা মাসুদের লাশ, কোন গোরেতে ছাই হয়ে গেলো ব্রহ্মচারী বৃন্দাবন। কোথায় বৃষ্টি টা জরুরী এখন, কোথায় জলরাক্ষুসী গিলে খাচ্ছে দুধেগাভিনের ঢাউস পেট। মিছিলে হাঁটা বুর্বক মানুষ সেসবই দেখতে থাকে যেগুলো নাকি দেখা মানা, যেগুলো নাকি শোনা নিষেধ, যেগুলো নাকি বলা পাপ। দেশে পর্ণ ব্যন্ড হল মোটে এইতো ক'টা মাস, সত্য নিষিদ্ধ হয়েছে সেই সত্যযুগ থেকে। ভুখা মিছিল, নাঙ্গা মিছিল, শান্তি মিছিল, উগ্র মিছিল, ধর্ম মিছিল, ভেড়ুয়া মিছিল যাই করি না কেন এই জুলাইয়ের বর্ষা দেখতে দেখতে প্রেমিকের পুংবৃন্ত কিছুতেই আসবে না হে কবিতায়, কল্পনায়... আসতে পারে পৃথিবীর শেষতম মানুষগন্ধ নাকে লাগার ভালোলাগা। mail- submit@sobdermichil.com

ভালোবাসার  আষাঢ় শ্রাবণ

অতিথি সম্পাদনায়

সৌমিতা চট্টরাজ

শুক্রবার, জুলাই ২৮, ২০১৭

চারু মজুমদার - এক বিপ্লবীর কথা

sobdermichil | জুলাই ২৮, ২০১৭ | |




চারু মজুমদার
(১৯১৮-১৯৭২)

জানি না আজকের অধুনা প্রজন্মের স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারী কিশোর বা তরুণদের মধ্যে কতজন তাঁর সম্পর্কে জানেন। আমাদের সময়েও বেশি ছেলে মেয়েরা চিনতো না, কারণ ভারতবর্ষে তাঁর নামটা নিষিদ্ধ নাম, তাকে নিয়ে চর্চা করলে রাত্রে বাড়ির দরজায় পুলিশ কড়া নাড়ে, আর জন সমক্ষে তাঁর নাম উঠলেই মধ্যবিত্তরা হা হা করে তেড়ে আসে। 

রোগা পাতলা চেহারার এই মানুষটি এক অদম্য বিপ্লবী বহ্নিশিখা বহন করতেন তাঁর বুকের ভিতর, ভারতের ইতিহাস কে তিনি আমাদের চিনিয়েছেন কৃষকের সংগ্রামের ইতিহাস হিসাবে। দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকের কথা সবচেয়ে ভালো ভাবে তিনিই বুঝেছিলেন। তিনিই বুঝেছিলেন যে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো সামন্ততন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে এক নয়া গণতান্ত্রিক সমাজ গড়া, এবং শুধু বুঝেই ক্ষান্ত থাকেননি, বরং নিজের হাতে ভারতবর্ষের সর্ববৃহত কৃষি বিপ্লবের আগুন জ্বালালেন তিনি। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়েরা নেমে এলেন দেশের জন্যে জীবন দিতে, কৃষকের মুক্তির জন্যে সংগ্রাম করতে, এবং তাঁরা হাসি মুখে দেশের মুক্তির স্বার্থে প্রাণ বিসর্জন দিলেন। গড়ে তুললেন এক নয়া ইতিহাস যা প্রতিনিয়ত দেশের শাসক শ্রেণীকে আজও আতঙ্কিত করে তোলে। সেই আতঙ্কের কারণেই একদিন ইন্দিরা গান্ধীর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং প্রায় ১২ দিন অকথ্য অত্যাচার চালায় লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপে। সেই অত্যাচারের মুখেও এই শীর্ণ চেহারার মানুষটি অবিচল ছিলেন নিজের আদর্শের প্রতি এবং মানুষের মুক্তির জন্যে নিজের প্রাণ বলিদান দিলেন ২৮ শে জুলাই ১৯৭২ এর সকালবেলা।  তাঁর মৃত্যুতে স্বস্তি পায়নি ইন্দিরা ও তার সরকার, তাই তো গভীর রাতে শহরের আলো নিভিয়ে মানুষটাকে নিয়ে গিয়ে নিক্ষেপিত করা হলো কেওরাতলার ঘাটে। 

মানুষটার নাম, চারু মজুমদার, এবং তাঁর নাম আজও মুখে আনা মানা।  কারণ তাঁর হাত ধরেই তো জন্ম নিল এই দেশের কৃষক বিদ্রোহ, তাঁর চোখ দিয়েই তো জনগণ চিনলেন যে সমস্ত ভোট পার্টিগুলি জোতদার - জমিদার আর পুঁজিপতিদের দালাল, তাদের রং আলাদা, ঢং আলাদা, কিন্তু ভিতরে সব ভোট পার্টিই এক।  তাই তো তার কথা উঠলে এক ঘাটে আজও জল খায় অনান্য রাজনৈতিক দলগুলি। কারণ সবাই তাঁর বিরোধী, কারণ তিনি যে বিদ্রোহী, তাঁর কথা জানলে মানুষ যে বিদ্রোহ করতে চায়, ভেঙ্গে ফেলতে চায় পঁচা সমাজ ব্যবস্থা কে এবং প্রতিষ্ঠা করতে চায় এক নতুন সমাজ।  তাই চারু মজুমদার এক নিষিদ্ধ নাম, কারণ তার নামে যুক্ত আছে বিদ্রোহ আর বিপ্লব। 

চারু মজুমদার ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি নিজের জীবন উত্সর্গিত করেছিলেন বামপন্থী শ্রমিক -কৃষকের জঙ্গী বিপ্লবী সংগ্রামে এবং ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বহু মত বহু পথের মধ্যে তিনিই প্রথম খুঁজে বার করেন মুক্তির একমাত্র পথকে, যে পথ কৃষি বিপ্লবের পথ।  চারু মজুমদার অধুনা সিপিআই এবং সিপিআই (এম) এর ভিতর আদর্শগত দুই লাইনের সংগ্রাম চালান সংসদীয় সুবিধাবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে যা তাঁর শহীদ হওয়ার প্রায় চল্লিশ বছর পরে সাধারণ মানুষের কাছে জলের মতন স্পষ্ট হয়ে গেছিল। 

চারু মজুমদার দেখান যে একমাত্র সশস্ত্র কৃষি বিপ্লবের পথে চলেই ভারতের কৃষক জনসাধারণ মুক্তি লাভ করতে পারেন সমস্ত শোষণ অত্যাচার থেকে এবং ভারতবর্ষকে প্রকৃত ভাবে স্বাধীন করা সম্ভব শুধুমাত্র গণ বিপ্লবের মাধ্যমে। মাও জেদং এর নীতির ভিত্তিতে তিনি তুলে ধরেন গ্রামে গ্রামে জোতদার -জমিদার ও তাদের পেটোয়া রাষ্ট্র শক্তির বিরুদ্ধে কৃষক যুদ্ধের লাইন, যা ষাটের দশকে লিন বিয়াও এর দ্বারা "জনযুদ্ধের জয় দীর্ঘজীবি হউক" পুস্তিকায় প্রকাশিত হয়। এই লাইনের ভিত্তিতে তিনি রচনা করেন আটটি ঐতিহাসিক দলিলের যা সিপিএমের নির্লজ্জ রাজনীতির স্বরূপ সেই সময় কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে প্রকাশ করে, এবং এই আটটি দলিলের ভিত্তিতেই তিনি নিজে লেগে থেকে গড়ে তোলেন দার্জিলিং জেলার তিনটি থানা অঞ্চলে কৃষকের সশস্ত্র সংগ্রাম। 

এই সংগ্রামের স্ফুলিং পরে সারা ভারতে দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পরে যখন যুক্ত ফ্রন্টের গৃহ মন্ত্রী জ্যোতি বোসের পুলিশ ২৫ শে মে ১৯৬৭ তে গুলি চালায় নকশালবাড়ি গ্রামের কৃষক রমণীদের উপর। ১১ জন কৃষক রমনী, কৃষক ও শিশুর রক্তে সিক্ত নকশালবাড়ির মাটি সারা ভারতবর্ষে নকশালবাড়ির পথে কৃষি বিদ্রোহের আগুন জ্বেলে দেয়, যাকে মাও জেদং এর নেতৃত্বাধীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি - ভারতে বসন্তের বজ্র নির্ঘোষ বলে অবিহিত করে। 

ভারতবর্ষ ব্যাপী সশস্ত্র কৃষক সংগ্রামের মধ্যেই মার্কসবাদ -লেনিনবাদ মাও জেদং এর চিন্তাধারার ভিত্তিতে গড়ে তোলেন এক বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি - সিপিআই (এম-এল) এবং সমগ্র ভারতবর্ষের শাসকশ্রেণীর কাছে এক আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠেন চারু মজুমদার, অন্যদিকে দেশের গরীব খেটে খাওয়া মানুষের জন্যে তিনি হয়ে ওঠেন মুক্তির অগ্রদূত। সিপিআই (এম - এল) এর নেতৃত্বে সারা ভারতে গড়ে ওঠে তীব্র সশস্ত্র সংগ্রাম, এবং এই সংগ্রামকে সঠিক ভাবে সার সংকলন করে চারু মজুমদার অতি বাম ও ডান দুই বিচ্যুতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন।  কিন্তু অত্যাধিক ভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর প্রতিনিধিরা নানা জায়গায় পার্টির নেতৃত্ব দখল করে বসে এবং সৃজনশীল ভাবে মার্কসবাদী রাজনীতি প্রয়োগ করে জনগণকে বিপ্লবী সংগ্রামে যুক্ত করার জায়গায় গড়ে ওঠে হঠকারী সামরিকবাদী রাজনীতি।  এই লাইনের ফলে তীব্র বিচ্যুতির শিকার হয় নকশালবাড়ির পথে গড়ে ওঠা সংগ্রাম।  গরীব - ভূমিহীন কৃষকদের রাজনীতির মাধ্যমে জাগ্রত করার জায়গায় বেশি প্রাধান্য পায় অ্যাকশন এবং চারু মজুমদারের কথা কে বিকৃত করে পরিবেশন করে সিপিআই (এম-এল) এর এক বড় অংশ। 

চারু মজুমদার এত সত্বেও সঠিক পথে বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ার লাইনের পক্ষে সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি সমরবাদী হঠকারী লাইনের সমালোচনা করে লিখেছিলেন রাজনীতি কে প্রাধান্য দেওয়ার কথা, বলেছিলেন অ্যাকশন বন্ধ থাকলেও ক্ষতি হবে না কিন্তু কৃষকদের রাজনৈতিক ভাবে শিক্ষিত করে জাগিয়ে তোলার কাজ বহু বেশি জরুরি। 

তাঁর কথার বিরুদ্ধে চলে সিপিআই (এম-এল) ৭১ সালের মাঝে এক বড়সর ধাক্কা খায়। বহু বিপ্লবীর প্রাণ যায় এবং শহীদের মৃত্যু বরণ করেন চারু মজুমদারের ঘনিষ্ঠ সহ যোদ্ধা সরোজ দত্ত।  এই সরোজ দত্তের মৃত্যুর পর চারু মজুমদারের বিরুদ্ধে আক্রমণ তীব্র করে ডান ও বাম দুই বিচ্যুতির উকিলরা, কিন্তু তার মধ্যেই চারু মজুমদার একাই সংগ্রাম চালান সমস্ত রকম সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে, গড়ে তোলা শুরু করেন পার্টিকে কৃষকের মাঝে, সবার উপরে স্থান দিতে বলেন রাজনীতিকে, এবং সেই রাজনীতির ভিত্তিতে গরীব - ভূমিহীন কৃষকের মধ্যে সংগঠন গড়ে তোলার শিক্ষা দেন বিপ্লবীদের। 

চারু মজুমদারের শেষ প্রবন্ধ - "জনগণের স্বার্থই পার্টির স্বার্থ" ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের এক অনবদ্য রচনা, যা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের স্তরে কমিউনিস্ট কর্মীদের প্রচন্ড ভাবে সাহায্য করবে নীতি ও কৌশল বোঝার জন্যে।  

১৬ই জুলাই দক্ষিন কলকাতার এক শেল্টার থেকে গভীর রাতে এক রাজনৈতিক দলবল উঠিয়ে নিয়ে যায় চারু মজুমদার কে, এবং তীব্র অত্যাচার চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে ২৮ শে জুলাই।  এর পর থেকে তাঁকে মুছে ফেলতে, তাঁর সৃষ্টি নকশালবাড়ির আন্দোলনকে ধ্বংস করতে ৪০ বছরের উপর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের শাসকশ্রেণী, তবুও চারু মজুমদারের আত্মা তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে।  

চারু মজুমদারের নাম নেওয়া এই দেশে নিষিদ্ধ।  চারু মজুমদার কে স্মরণ করা এই দেশের আইন মোতাবিক বিপদজনক। চারু মজুমদারের নীতিতে বিশ্বাস করা এই দেশের শাসকশ্রেনীর সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।  তবুও প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ চারু মজুমদারের নাম প্রতিদিন নেন, তাঁর জীবন উত্সর্গ করা কে স্মরণ করেন এবং প্রতিবছর প্রচুর নতুন নতুন মানুষ চারু মজুমদারের নীতিকে সঠিক মেনে ক্ষেতে খামারে খেটে খাওয়া মানুষদের সংগ্রামের সাথে যুক্ত হচ্ছেন রাষ্ট্র ও তার প্রভুদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে। আজ তাঁরা আর বিচার চান না চারু মজুমদারের হত্যার, কারণ হত্যাকারীর কাছে কখনোই হত্যার বিচার আশা করা যায় না। এই নতুন সংগ্রামীরা বুঝেছেন যে শুধু মাত্র চারু মজুমদারের স্বপ্নের ভারত গড়েই তাঁর হত্যার সঠিক বিচার সম্ভব, কারণ চারু মজুমদার এই শাসক শ্রেনীর করুণা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন তাদের উত্খাত করতে। 

চারু মজুমদার মধ্যবিত্তদের নায়ক হতে চাননি, তিনি কৃষককে - শ্রমিককে নায়ক তৈরী করার লড়াই করে গেছেন। তিনি ছিঁড়ে দিয়ে গেছেন সুবিধাবাদী সংসদীয় রাজনীতির মুখোস, যার ফলে আজ আর ভোট বাদী বাম ও ডান কেউই জনগণকে নির্বাচনী টোপ দিয়ে বেশিদিন ভাঁওতা দিতে পারছে না।  চারু মজুমদারের ফলেই পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত 'বাম' সরকার ঠেলায় পরে নম: নম: করে ভূমিসংস্কারের কাজ সারে এবং কৃষকদের বিদ্রোহ ঠেকাতে তিন স্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বানায়।  এই সব করা হয় জোতদার ও জমিদারদের কৃষকের বর্ষা মুখ থেকে বাঁচাতে। 

অন্যদিকে চারু মজুমদারের নামেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আজ কৃষক ও শ্রমিক উঠে দাঁড়াচ্ছেন মার্কিন একচেটিয়া পুঁজির বিরুদ্ধে, বহুজাতিক কর্পোরেটগুলির শোষণের বিরুদ্ধে, জোতদার জমিদারদের বিরুদ্ধে।  রুখে দাঁড়াতে শিখছেন মহিলারা, আদিবাসীরা এবং দলিত জাতির মানুষেরা। তাই আজ চারু মজুমদার মৃত্যুর ৪৩ বছর পরেও শাসক শ্রেনীর কাছে 'আতঙ্কের বস্তু'।          

আজ ২৮শে জুলাই, চারু মজুমদারের শহীদ দিবস উপলক্ষে, এই মহান বিপ্লবীকে বিশ্লেষকের পক্ষ থেকে সেলাম জানাই আমরা সবাই। তুমি বেঁচে আছো তোমার রাজনীতিতে, তোমার স্বপ্নের ভারত গড়ার সংগ্রামে, যা আজ অসংখ্য মানুষের স্বপ্নে পরিণত হয়েছে, এবং তুমি মানুষের মুক্তির ধ্রুবতারা হয়ে বেঁচে থাকবে চিরকাল।              




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.