x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

বুধবার, জুলাই ০৫, ২০১৭

রিয়া চক্রবর্তী

sobdermichil | জুলাই ০৫, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
রিয়া চক্রবর্তী
সংস্কৃত ধর্ম মানে হল যা ধারণ করে। যেমন অগ্নি ধারণ করে উত্তাপ তাই অগ্নির ধর্ম হল উত্তাপ যা কোন কিছুকে দহন করে বা পুড়িয়ে দেয়। মানুষে যা ধারণ করে তাই হল মানুষের ধর্ম বা মানব ধর্ম ।যা মানুষের মনুষ্যত্ব কে জাগিয়ে তোলে তাই ই ধর্ম।মানুষের যা স্বভাব,যাই মানবতা তাই ই আসলে ধর্ম।

বিধাতা যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার সবকিছুকে তার নিজস্ব ধর্ম দিয়ে রেখেছেন যেমন চুম্বক - তার ধর্ম লোহা কে আকর্ষন করবে। মৌমাছি - তার ধর্ম যে তারা একতাবদ্ধ হয়ে বাস করবে। জল - তার ধর্ম যে বর্ণ , গন্ধহীন তরল পদার্থ হয়ে থাকবে। এখন এই সব পদার্থ বা জীব নিজ নিজ গুন বা নিজ নিজ কর্তব্য কোন অংশেই হারালে তারা তাদের নিজস্ব ধর্ম হারালো, যেমন জল যদি তাতে যদি কোন বর্ণ অথবা গন্ধ থাকে তবে তা আর বিশুদ্ধ থাকল না। ঠিক আমাদের বিশ্ব জোড়া মানুষের একটা সাধারন ধর্ম আছে তা হল - মানবতার ধর্ম বা বিবেকের অনুশাষন।

স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায় , ধর্ম হল মানুষের পশুত্বকে দমন করে আর দেবত্ব জাগিয়ে তোলে ।

ধর্ম নিয়ে হানাহানি দেশ বা জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। মানুষ যেমন একা বসবাস করতে পারে না, ঠিক তেমনি একটি দেশও কখনো একা চলতে পারে না। বলা যায় এই বিশ্বটা একটা সংসার, প্রতিটি দেশ তার সদস্য। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই থাকবে এটাই কাম্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু হিসেব যেন হিসাব মিলছে না। ঠুনকো কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন বাচ্চা ছেলে কি আপলোড দিলো, সেই নিয়ে লাঠিসোটা বেরিয়ে গেলো! যা সাধারণ মানুষের জন্য অস্বস্তিকর, শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে। 

"বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।"

(কবি কাজী নজরুল ইসলাম)

এ পৃথিবীতে মানুষকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। পারস্পরিক ভালোবাসা ও প্রীতির ফ্রেমে বেঁধে দিয়েছেন। একজন ছাড়া অন্যজনকে ভাবাই যায় না। অথচ সমাজের চিত্র আজ ভিন্ন। এ দুরবস্থা ও দুর্গতির প্রধান কারণ আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয়। আমাদের মননে পচন ধরেছে। আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারিনি। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে কিভাবে সবার সামনে মেরে ফেলা হল, তা আমরা দেখেছি। আমরা কি নতুন নতুন শিরোনামে মেয়েদের ওপর নির্যাতনের চিত্র দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যাবো; নাকি ঐক্য গড়ে তুলে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসনের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদেরকে শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো? সে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখনই সময়।

উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা চলেছি দুর্বার গতিতে, এখনই সময় তো আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার। এখন সময় আমাদের, এখন সময় দেশের "আচ্ছে দিন", উন্নয়নের জোয়ার - এমন নানা স্লোগানধর্মী পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে আছে আমাদের চারদিক। আসলেই কি আমরা এগিয়ে যাচ্ছি! এসব স্লোগানের অন্তরালে লুকিয়ে আছে অসংখ্য মানুষের না-বলা কষ্টের ইতিহাস, যা কোনোদিন কোনো পোস্টার, ব্যানার বা মিডিয়ার শিরোনামে আসে না। আর এসবের মূল কারণ দেশে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি। স্বেচ্ছাচারিতায় লাটে উঠেছে মনুষ্যত্ববোধ ও মানবতা। মানবাধিকার সে তো দীর্ঘদিনের নির্বাসন। পাশাপাশি চলছে অন্যদেরকে কোণঠাসা করে অবৈধ ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়ী মালিক হওয়ার ফন্দি।

ইসলাম, খৃষ্ট, বৌদ্ধ, হিন্দু, ইহুদি, থেকে মানবতার ধর্ম অনেক উপরে। সমস্ত ধর্মের মাঝে এই মানবতার ধর্ম নিহিত রয়েছে। এক এক মহাপুরুষ মানবতার ধর্ম কে অর্জন করার জন্য এক এক পথ দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন, তাই বলে ধর্ম আলাদা হয়ে গেছে বললে ভুল হবে, এটি আলাদা হয়ে যায়নি। সমস্ত ধর্মই এক কথা বলে তা হল - বিশ্ব শান্তি ও মানবতার কল্যাণ। কিন্তু আজ আমরা আসল মানবতার ধর্মকে বাদ দিয়ে আদিম যুগের মতোই হিংস্র হয়ে যাচ্ছি। ঈশ্বর আমাদের অনেক থাকতে পারে, গ্রন্থ থাকতে পারে, কিন্তু সমগ্র মানব জাতির জন্য ধর্ম একটাই - মানবতার ধর্ম। সব ধর্মের মূল উদ্দ্যেশ্য সবার মাঝে মানবতা বোধ জাগ্রত করে পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করা।

মানুষ যখন ধর্ম ভীরুতা একেবারে অন্ধ হয়ে যায়, তখন সে ধর্মীয় কোন সংস্কার মানতে চায় না। চিন্তাশীল সুষ্ঠ বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া সমস্ত লোকই প্রচলিত অন্তঃসার শুন্য অনুষ্ঠান গুলোকেই ধর্ম বলে ধারন করে। যদিও তা মানব কল্যানের বদলে মানব অকল্যান বয়ে আনছে। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। এমনকি বিধাতা মানুষকে বিবেক দিয়ে উন্নত করে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের উচিৎ ছিল আমরা নিজেদের আচরণ সংযত করে বিবেক মত চলি ও পৃথীবিতে শান্তি স্থাপন করি। কিন্তু আমরা তা করি না , এখনও করি না।কেন আমরা এতো অসহিষ্ণু হয়ে যাচ্ছি? তবে কি ধর্মের পথ ধরে চলতে চাইছি না?

কিছু রাজনৈতিক কাজ চরিতার্থ করার জন্য, যে দেশভাগের চেষ্টা চলছে আমরা কতজন তার বিরুদ্ধে বলেছি?রাজ্য ভাগের চেষ্টা কতজন রুখে দাঁড়িয়েছি? হয়তো আমাদের নাতি, নাতনীরা পড়বে, দার্জিলিং, সিকিম আলাদা রাজ্য। কিংবা আলাদা স্বাধীন দেশ। আচ্ছা বলুন তো, এই যে আমরা এক ধর্মের মানুষ আর এক ধর্মের মানুষকে মারতে উদ্যোত হচ্ছি, এতে কতটুকু এগোবো আমরা? যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে দাঙ্গায় মদত দিচ্ছে, আমরা কি মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, এক জোট হয়ে রুখে দিতে পারিনা এই কুমতলববাজ মানুষদের?


“ হিন্দু না ওরা মুসলিম এই জিজ্ঞাসে কোন জন, কাণ্ডারি বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র ”

(কাজী নজরুল ইসলাম)

দয়া করে হিন্দু মুসলমান --- কেউ কাউকেই উস্কানী দেবেন না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখুন। আমরা যারা তথাকথিত শিক্ষিত বলে নিজেদেরকে দাবী করি,তাদের ভূমিকা অনেক বেশি,তাই এমন কথা, কাজ আমরা করবো না বা করা উচিত হবে না যা পরোক্ষ বা প্রত্যোক্ষভাবে উস্কানীমূলক।

আসুন আমরা সবাই মিলে হিংসা, বিদ্বেষ, ধর্ম, বর্ণ ভুলে গিয়ে মানুষ হিসেব মানুষের পাশে দাঁড়াই, উস্কানীমূলক কথা, দ্বন্দ্ব, আরও দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়, মানুষের মনে আরো ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাই এখনই সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার। মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ করার।


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.