Monday, July 31, 2017

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

যে টুকু স্মরণ : নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
স্বাধীনতা-উত্তর কালের বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম অগ্রণী কথাকারের মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য । রবীন্দ্রনাথ চলে গেছেন ১৯৪১এ, শরৎচন্দ্র আরো তিনবছর আগে । তত দিনে বাংলা কথাসাহিত্যে প্রবল আবির্ভাব ঘটে গেছে তিন বন্দ্যোপধ্যায় বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর ও মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের । গত শতকের চল্লিশ দশকের মধ্যভাগে বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর, মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে কথাসাহিত্যের অনন্য ঔজ্বল্য নিয়ে আর একজন এলেন। তিনি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়,স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাসাহিত্যের অগ্রগণ্য কথাকার । নারায়ণ তার পিতৃদত্ত নাম নয়, পিতৃদত্ত নাম তারকনাথ। অতীত যুগে আর এক প্রখ্যাত সাহিত্যিক ছিলেন স্বর্ণলতা খ্যাত তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৪৫-১৮৯১)। সুতরাং সাহিত্যক্ষেত্রে প্রবেশ করে বরিশালের তারকনাথ ছদ্মনাম নিলেন নারায়ণ। জন্ম ১৯১৮’র ৪ঠা ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জিলার বালিয়াডিঙ্গিতে । পিতা ইংরাজ জমানার দাপুটে পুলিশ অফিসার প্রমথনাথ গঙ্গোপাধ্যায় । নারায়ণের পৈত্রিক নিবাস ছিল বরিসাল জিলার বাসুদেব পুরের নলচিরা গ্রামে । 

উজ্বল ছিল তাঁর শিক্ষাজীবন । পুলিশে চাকুরির সূত্রে পিতাকে নানা স্থানে বদলি হতে হত, নারায়ণের শিক্ষাস্থলেরও বদল হয়েছে বারবার – দিনাজপুর, ফরিদপুর, বরিশাল ও কলকাতায় । ১৯৩৩এ দিনাজপুর জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তির্ণ হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজে । কিন্তু দু বছর পরেই রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় রাজরোষে পড়ে তাকে ফরিদপুর ত্যাগ করতে হয় কলেজের পরীক্ষা না দিয়েই । পরের বছর বরিসালের বি এম কলেজ থেকে আই এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন বহিরাগত পরীক্ষার্থী হিসাবে । ঐ কলেজ থেকেই ১৯৩৮এ কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তির্ণ হলেন । বরিশালের বি এম কলেজে তাঁর শিক্ষক ছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ । তারপর ১৯৪১এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন ‘ব্রহ্মময়ী স্বর্ণপদক’ নিয়ে ।

ছাত্রজীবনের মত নিজের শিক্ষক জীবনও ছিল সমান উজ্বল । জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজে তার শিক্ষতা জীবন শুরু হয় তারপর জলপাইগুড়ি (১৯৪২-৪৫) ও সিটি কলেজে ১৯৪৫-৫৫) অধ্যাপনার পর ১৯৫৬তে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপক পদে যোগ দেন । মনীষা ও পান্ডিত্যের মিশ্রণের ফলে বাংলাসাহিত্যের নানা বিষয়ে তার ভাষন তরুণ আমাদের কাছে ছিল মস্ত আকর্ষণ তাঁর ছাত্রদের কাছে খুবই প্রিয় ছিলেন তাদের ‘নারায়ণ স্যার’ । নিজের কলেজ জীবনে দেখেছি কলেজের অনেক ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারায়ণ স্যারের লেকচার শুনতে যেতে । প্রিয় ছাত্ররা তাঁর পটলডাঙ্গা স্ট্রীটের বাড়িতেও যেতেন তাঁর কথা শুনতে কিংবা লেখালেখির খাতা নিয়ে স্যারকে একবার পড়ানোর জন্য । একবার সিটি কলেজে ছাত্রদের এক নাট্যানুষ্ঠানে স্যারের লেখা সেদিনের নাটকে পার্ট করা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর স্যারকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেমন হয়েছিল তাঁর অভিনয় । নারায়ণ স্যার সৌমিত্রকে আশির্বাদ করেছিলেন একদিন সে খুব বড়ো অভিনেতা হবে বলে । আবার স্যারের সামনে, সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেলে তিনি বাধা দিয়েছিলেন, না না ও আগে পড়াশোনা শেষ করুক বলে । নারায়ণ স্যারের সেই আশির্বাদ ব্যর্থ হয়নি এখন তা আর কে না জানে ! (তথ্যসূত্রঃ২০নম্বর পটলডাঙ্গা স্ট্রীট / বিনোদ ঘোষাল – আনন্দবাজার ‘পত্রিকা’, ২৯ অক্টোবর ২০১৬ ) ।

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্য চর্চার শুরু ছাত্রাবস্থায় কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে । ১৯৩৪এ ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা ‘অবরুদ্ধ’ । সাহিত্যজগৎ আলোড়িত হয় ১৮৪২ থেকে ভারতবর্ষ পত্রিকায় তাঁর তিন খন্ডে সমাপ্ত উপন্যাস ‘উপনিবেশ’ ধারাবাহিক প্রকাশ শুরু হলে । উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় মে ১৯৪৪এ ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় উপনিবেশের প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হবার পরই তখনকার বাংলার শ্রেষ্ঠ কথা সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন নবীন কথাকার নারায়ণকে । অনবদ্য গদ্যভাষায় উপন্যাসের পটভূমি ‘চর ইসমাইল’এর বর্ণনা দিয়েছেন এইভাবে – পৃথিবী বাড়িতেছে ।

“দিনের পর দিন নদীর মোহনা-মুখে পলিমাটির স্তর পড়িতেছে আর ক্রমে ক্রমে সেই স্তরের উপর দিয়া সুন্দরবন প্রসারিত হইয়া চলিয়াছে । কিন্তু তাহাতেই শেষ নয় । প্রয়োজনের ধারালো কুঠার দিয়া লোভী মানুষ বনভূমিকে করিতেছে সমভূমি – অরণ্যকে করিতেছে উপনিবেশ । ... তারপর সেই অথই জল ঠেলিয়া অতকায় তমির মতো একটা প্রকান্ড চর জাগিয়া ওঠে । রৌদ্রে বৃষ্টিতে চড়ার নোনা ক্ষয় হইতে থাকে, আগাছা জন্মায়, তারপরে আসে মানুষ । অমনি সোনার কাঠির ছোয়াচ লাগিয়া যায় যেন । পৃথিবী বিস্তৃত হয় – নতুন মাটিতে নতুন নতুন ফল ও শস্য জন্মিয়া প্রয়োজনের ভান্ডারটিকে পূর্ণতার দিকে লইয়া চলে ।
ইহাই উপনিবেশ । জাতিভেদে নয়, দেশভেদেও নয় । সমগ্র পৃথিবী, সমগ্র সৌর জগৎ, মহাকাশ ও মহাকাল ব্যাপিয়া এই উপনিবেশ রচনা হইয়া চলিয়াছে” ।

সেই সময়টা অর্থাৎ গত শতকের চল্লিশের দশকটা ছিল এক উত্তাল সময় - বাঙালির মননভুমির এক অনন্য সৃজনকালও বটে । দ্বিতীয় সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ শুরু হয়েছে ১৯৩৯এ । যুদ্ধের অনিবার্য পরোক্ষ ফল নিষ্প্রদীপ বাংলায় কালোবাজারি, মজুতদারি আর সাধারণ মানুষের হতাশা, বেকারি, দারিদ্র, মনুষ্যত্বের লাঞ্ছনা । বিয়াল্লিশে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায় ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়েছে । ১৯৪৩এ দেখা দেয়েছিল মানুষের তৈরি ভয়ঙ্করতম মন্বন্তর । কলকাতার রাস্তায় একটু ফ্যানের জন্য মৃত্যুমুখী মানুষের হাহাকার । এই আবহে, মূল্যবোধের ক্ষয়, কালোবাজারী, মজুতদারীর নিকৃষ্টতম আস্ফালন আর সারা বাংলা জুড়ে খাদ্য ও বস্ত্রের জন্য মানুষের হাহাকার । এই নরক গুলজার থেকেই তাঁর কথা সাহিত্যের উপকরণ সংগ্রহ করেছিলেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় । অধ্যাপক জগদীশ ভট্টাচার্য ছোটগল্পের অনন্য কথাকার নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের মূল্যায়ন করেছেন এইভাবে – “একথা অবশ্য অনস্বীকার্য যে, উৎকৃষ্ট কলাবিৎ কথাকোবিদের গুণসমুচ্চয় তাঁর রচনায় পরিষ্ফুট হয়ে উঠেছে । শ্রেষ্ঠ সাহিত্য যুগপৎ ‘ক্লাসিক’ ও ‘রোমান্টিক’ – মহৎ শিল্পের এই মিশ্র লক্ষণ তাঁর লেখাতেও পরিদৃশ্যমান । রূপ দর্শনের সঙ্গে সঙ্গে ভূয়োদর্শনের ক্ষমতাও তাঁর আয়ত্বাধীন । গল্পের শিল্পায়ন সম্পর্কেও তাঁর কবিকর্ম যেমন ক্লান্তিহীন, শীল্পের জীবনায়ন সম্পর্কেও তাঁর সৃষ্টিধর্ম সদা জাগ্রত” (শ্রেষ্ঠ গল্পের ভুমিকা/ জগদীশ ভট্টাচার্য) । 

প্রথম উপন্যাস গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৪এর মে মাসে তিন খন্ডে । তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হল সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী (১৯৪৪), মন্দ্রমুখর (১৯৪৫), শিলালিপি (১৯৪৯), লালমাটি (১৯৫১), কৃষ্ণপক্ষ (১৯৫১), বৈতালিক (১৯৫৫), অসিধারা (১৯৫৭) প্রভৃতি । রবীন্দ্রোত্তর যুগের অন্যতম সেরা গল্পকারের মর্যাদা পেয়ে থাকেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় । সাহিত্যে ছোটগল্প গ্রন্থে নারায়ণ আধুনিক ছোটগল্পের সংজ্ঞা দিয়েছিলেন যে “ছোট গল্প হচ্ছে প্রতীতিজাত একটি সংক্ষিপ্ত গদ্যকাহিনী যার একতম বক্তব্য কোন ঘটনা বা পরিবেশ বা কোন মানসিকতাকে অবলম্বন করে ঐক্য-সংকটের মধ্য দিয়ে সমগ্রতা লাভ করে” । নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলি হল বীতংশ, ট্রফি, জন্মান্তর, ভাঙ্গা বন্দর, ভাটিয়ালী, দুঃশাসন, একজিবিশন, ছায়াতরী, ঘুর্ণি, আলেয়ার রাত প্রভৃতি । এছাড়া প্রবন্ধ গ্রন্থ সাহিত্য ও সাহিত্যিক (১৯৫৬), সাহিত্যে ছোটগল্প (১৯৫৬), ‘কথাকোবিদ রবীন্দ্রনাথ’ (১৯৬৫) এবং ছোটগল্পের সীমারেখা (১৯৬৯) উল্লেখযোগ্য । কথাকোবিদ রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের মননশীল আলোচনা করেছেন । তিনটি নাটক ও রচনা করেছেন ‘রামমোহন’ , ‘ভাড়াটে চাই’ ও ‘আগন্তুক’ । ষাটের দশকে আমাদের কৈশোরে লঘু রসের ‘ভাড়াটে চাই’নাটকটির বহু অভিনয় হয়েছে ।

সময়ের স্রোতে, আধুনিক ও নবীন সাহিত্যের ভীড়ে তাঁর জীবন সচেতন উপন্যাস ও গল্পগুলি যদি হারিয়েও যায়, কথাশিল্পী নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তাঁর পটলডাঙ্গার টেনিদার গল্পসমূহ এবং অন্যান্য কিশোর সাহিত্যের জন্য । আজও টেনিদার গল্পগুলির নবনব সংস্করণ হচ্ছে এবং প্রকাশক মুনাফা করছেন । ‘টেনিদা’ শুধু তাঁর গল্পের চরিত্র নয়, ‘২০ নম্বর পটলডাঙ্গা স্ট্রীট’ আর ‘টেনি দা’ চিরদিন বাঙালি গল্পপাঠককে স্মৃতিকাতর করে রাখবে ।

সুনন্দ ছদ্মনামে সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় ১৯৬৩ থেকে প্রতি সপ্তাহে লিখতেন রম্য গদ্য ‘সুনন্দর জার্নাল’ । সুনন্দর জার্নালে সমকালীন যুগের বাঙ্গালিরসুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, তার সংস্কৃতি মনস্কতা, তার জীবনের নানান ওঠাপড়া, আশা, হতাশা, নৈরাশ্য, তার আদেখলাপনা, দ্বিচারিতা, সমকালীন নানান ঘটনাবলী, প্রখ্যাত মানুষের স্মরণ এই সমস্তই ধরা পড়েছিল সুনন্দর জার্নালে । সেই সময়কার বাঙালির সামাজিক জীবন ও সমাজের দর্পণও বলাচলে এই মননশীল রম্য গদ্যগুলিকে । অক্টোবর ১৯৬৩ থেকে নভেম্বর ১৯৭০ পর্যন্ত টানা ৮৫ মাসে ১৭৯ টি ‘জার্নাল’ বাংলা রম্যগদ্যের ভান্ডারে চিরকালীন সম্পদের মর্যাদা পায় । ‘সুনন্দর জার্নাল’ বহুপঠিত সংশয় নেই । তবুও তা থেকে দু একটি উদ্ধৃতি দেওয়ার লোভ সামলানো গেল না । আমরা জানি ষাটের দশকে শুরু হয়েছিল শারদ সংখ্যার পত্রিকাগুলিতে কে কতগুলি উপন্যাস পাঠককে দিতে পারে তার প্রতিযোগিতা । একএকটি পূজা সংখ্যা ৭/৮টি উপন্যাস ছাপা হত । সুনন্দ তাঁর ১৯শে অক্টোবর ১৯৬৩র জার্নালে লিখছেন –
“... সুতরাং বঙ্গের গঙ্গোদকে অভিষিক্ত এই বিচিত্র নামের সঙ্গে বাঙালির উপন্যাসও তার বিচিত্র সৃষ্টিকূশলতার উদাহরণ । বিশেষ করে এই শারদীয় উপন্যাসমালা এক অপূর্ব সামগ্রী এবং শুনেছি – অপূর্ববস্তু – নির্মাণক্ষমপ্রজ্ঞাই হল প্রতিভার পরিচায়িকা । পৃথিবীর কোন দেশে এর তুলনা আছে কিনা সন্দেহ ।শ্রদ্ধেয় কথা সাহিত্যিকেরা মার্জনা করুন – তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র কটাক্ষ ক্ষেপন সুনন্দর অভিপ্রায় নয় । আমি আমার বিমূঢ় বিষ্ময় নিবেদন করছি মাত্র ।
... লেখকের নিন্দা করে লাভ নেই, সম্পাদকের বকলমে এই নাকি পাঠকের দাবি ।সে দাবি মেটাবার জন্য তারা উপন্যাস রচনায় অকুতোভয় । তিনমাসে তিনখানা উপন্যাস । মস্তিষ্কের ভূমিকা গৌণ । আঙুলের পেশীশক্তি থাকলেই কয়েকটা সিচুয়েশন এবং কিছু চরিত্র জুড়ে দিয়ে পূজা সংখ্যার আশি পৃষ্ঠা আলোকিত করা চলে ... পূজো সংখ্যার সাতখানা উপন্যাসের চাহিদা মিটিয়ে কার উদ্যম অবশিষ্ট থাকে সিরিয়াস বই লেখবার ? উপন্যাসের ফাটকাবাজিতেই যদি বরাত ফেরে, কার মাথাব্যথা পড়েছে সমস্ত মন ও মননকে সংহত করে একটি নিটোল মুক্তোর মত ছোট গল্প গড়ে তোলবার” ।

১৮৭৯এর অক্টোবর মাসে অসুস্থতা বোধ করেন । ৭ই নভেম্বর প্রকাশিত সুনন্দর জার্নালের শিরোনাম ছিল ‘অসুস্থ শরীরের ভাবনা’ । কালিপূজোয় কয়েকদিন ব্যাপি পটকা আর মাইকের আস্ফালন সম্পর্কে লিখেছিলেন – “ ...একদিনের পূজোয় পাঁচ দিন ধরে হৃৎস্পন্দনরোধকারী এই পৈশাচিকপ্রায় উৎসব, এই সঙ্গীতের বিভীষিকা, এই পাড়া কাঁপানো, কানফাটানো হার্ট-অ্যাটাক জাগানো বোম পটকা,...আমাদের গৃহের অদূরে যে সঙ্গীতসুধা ও বোমাধ্বনি উৎসারিত হচ্ছে, তা নাকি আরো তিনদিন চলবে । সুতরাং অসুস্থ শরীরে জার্নাল লিখতে লিখতে ভাবছি, পরের সংখ্যায় সুনন্দের পাতাটি যদি না থাকে, তাহলে জানবেন, আর একটি কমনম্যান বাঙালির অবলুপ্তি বা আত্মবিসর্জন ঘটল” । পরের দিন ৮ই নভেম্বর সত্য সত্যই চিরদিনের জন্য চলে গেলেন ‘সুনন্দ’- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় মাত্র বাহান্ন বছর বয়সে ।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

অডিও / ভিডিও

Search This Blog

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Powered by Blogger.