Monday, July 31, 2017

পাতাল নগরী কুবের পেডি

sobdermichil | July 31, 2017 |
 পাতাল নগরী কুবের পেডি
আদীমকালে মানুষ গুহায় বসবাস করতেন। কালের আবর্তনে আজও আমরা সেই অভিজ্ঞতার সাক্ষী। এ যেন কল্পবিজ্ঞানেরই বাস্তব রূপ!১৮৬৪ সালে জুলেভার্নের লেখা, 'journey to the center of the earth ' উপন্যাসে মানুষের অজানা কত কিছুর সন্ধান দিয়েছেন লেখক। কল্প বিজ্ঞানের শহর ছিল সেটি। কিন্তু কাল্পনিক সে গল্পের শহরের মতো শহর যে বাস্তবেই আছে, এটি অনেকেই জানে না। সেটি যেন পৃথিবীর গভীরে আরেক পৃথিবী। নাম কুবের পেডি।অস্ট্রেলিয়াতে আছে এ শহরটি। পুরো শহরটিই। কুবের পেডিটির জন্ম ১৯১৫ সালে। শহরটির মূল বৈশিষ্ট হল বহুমূল্য রত্নের খনি। opal নামক রত্নটি বিশ্বের ৯৫ শতাংশই পাওয়া যায় কুবের পেডি এলাকা থেকে। শহরটি গড়ে উঠেছে মাটির নিচে। অ্যাডিলেড থেকে ৮৪৬ কিলোমিটার উত্তরে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল কুবের পেডি এক সময় শতভাগ জনমানবশূন্য ছিল। এখনও এটি মানুষের বসবাস উপযোগী নয়। কারণ গ্রীষ্মে এখানকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়। আবার শীতকালে তাপমাত্রা নেমে আসে শূন্য ডিগ্রিরও নিচে। এমন অবস্থায় মানুষের পক্ষে মানিয়ে নেয়া সত্যি কঠিন।এতো কিছুর মধ্যেও ধুলিঝড়, জলের কষ্ট তো ছিলই। তাই পাতাল নগরী কুবের পেডিতে মানুষ বসবাস করবে, তা ছিলো কল্পনাতীত। উল্লেখ্য, শতবছর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চলে তীব্র গ্রীষ্মের দাপট। গ্রীষ্মকালে কুবের পেডি এলাকায় তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বসবাস শহরটিতে। শহরটি বাইরে থেকে দেখলে চমকে যেতে হয়। চারিদিক জনমানব শূন্য। মাঝে মধ্যে দু/একটি স্থানে স্থানে গুহা। সেই গুহাগুলো থেকে নেমে গেছে সুড়ঙ্গের মতো সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি চলে গেছে গভীরে।সিঁড়ি ধরে নীচে নামলেই আদিম যুগের রুপকথার মতো নয় অত্যাধুনিক বাসস্থান দেখতে পাওয়া যাবে। রয়েছে উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম, দামি হোটেল, সুইমিং পুল, রেস্তোরাঁ, বইয়ের দোকান, গির্জা, বিনোদন কেন্দ্র, ক্লাব, ব্যাংক, আর্ট গ্যালারি, মার্কেট কমপ্লেক্স। পৃথিবীর যে কোনো আধুনিক শহরের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মতো সবই আছে সেখানে। মোটকথা একটি শহরে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকে প্রায় সবধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে শহরটিতে।তবে এখানকার এই জাঁকজমক একদিনে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে রয়েছে মজার এক গল্প। ....

আধুনিক নগরীর সুবিধা সংবলিত কুবের পেডিতে রয়েছে এই কুবের পেডির পাথুরে জমির সঙ্গে মিশে ছিল বিশেষ এক ধরনের রত্ন। এই রত্নের নাম- ওপাল। এই জায়গাটার বিশেষত্ব প্রথম আবিষ্কার করে উইল হাচিসন নামের চৌদ্দ বছরের এক কিশোর। ঘটনাটা ছিল ১৯১১ সালের। এই মজার আবিষ্কারের আগে এখানকার বাসিন্দা বলতে ছিল মরুভূমির সাপ, বিষাক্ত পোকামাকড়, টিকটিকি আর এমু পাখি। কিন্তু ওপালের অস্তিত্ব আবিষ্কার বদলে দিতে শুরু করল কুবের পেডিকে।

ওপাল আবিষ্কারের পর বহু রত্নলোভী পাড়ি জমাল এখানে। রত্নের সন্ধানে শুরু হল খোঁড়াখুঁড়ি। আস্তে আস্তে কুবের পেডির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়তে লাগলো। কুবের পেডি নামকরণের পেছনেও রয়েছে ছোট্ট একটি ইতিহাস। এখানকার অধিবাসীরা মাইনারদের খোঁড়াখুঁড়ি দেখে তাদের ভাষায় জায়গার নাম দিয়েছিল "কুপা সিটি"। যার অর্থ মাটিতে সাদা মানুষের গর্ত। কালের বিবর্তনে সেটাই বদলে গিয়ে কুবের পেডি হয়ে যায়। সব মরুভূমিতেই দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম আর রাতে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা থাকে। মাটির নিচে কিছুটা গেলেই অন্যরকম হয়ে যায় সবকিছু। পৃথিবী নিজেই যেন একটা প্রাকৃতিক এয়ারকন্ডিশনার। তাই মাটির নিচে গড়পড়তা সহনশীল একটা তাপমাত্রা পাওয়া যায় সারা বছরই। অন্য দিকে খোঁড়াখুঁড়ির জন্য মাইনারদের দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটাতে হয় মাটির নিচে। তাই সেখানে থাকার ঘরটাও বানিয়ে নিলে মন্দ কি!

মাটির নিচে থাকলে ধূলিঝড় থেকেও বাঁচা যাবে। শুরু হল মাটির নিচে বসতি বানানো। এভাবেই গড়ে উঠেছে কুবার পেডি। শুধু থাকার জায়গা নয়, তৈরি হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জলের সমস্যার সমাধান। জলের ব্যাপারে কুবের পেডির জনগণ ভীষণ সচেতন। মরুভূমিতে জলের অভাবের কারনে তারা স্নান ও ধোয়া মোছায় ব্যবহার করা জল রিসাইকেলের মাধ্যেমে সদ্ব্যবহার করে অন্যান্য কাজে। তবে এসব অসুবিধা সত্ত্বেও আজকের কুবের পেডি এতটাই জমজমাট যে অস্ট্রেলিয়ার অনেক ট্যুরিস্টই এক ঝলক দেখে যান জাগয়াটি। আর স্থানীয় বাসিন্দাদের তো কথাই নেই। বেশ কয়েকজন কুবার পেডিবাসী অন্যত্র বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েও কিছুকাল বাইরে কাটিয়ে আবার ফিরে এসেছে কুবার পেডিতে। অদ্ভুত সুন্দর এই পাতাল নগরী যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

অডিও / ভিডিও

Search This Blog

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Powered by Blogger.