x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

সোমবার, জুলাই ৩১, ২০১৭

মৃণালিনী

sobdermichil | জুলাই ৩১, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
 "সদ্যোস্নাত বর্ষার সুর"
স্বপ্নের টুকরোগুলো জড় করবার ব্যর্থ অভিপ্রায়ে শরীর মেদ রক্তশূণ্য হয়েও পৃথিবীর বিচিত্র অথচ অভ্যস্ত বৈচিত্র্যের বৈশিষ্ট্যগুলো ভেসে আসে। বৃষ্টির সুর ঝমঝম শব্দে ডাকে, চেয়ে থাকে সুদূরের ভেসা আসা মুরলির সুর- সদ্যোবর্ষাস্নাত মেঠো বুকে পালক ঘাসের কার্পেট বিছিয়ে অনন্ত কালের প্রতীক্ষার সঙ্গে ভেসে আসা মুরলীর সুরের সঙ্গে নূপুরের তালে তালে রাধিকার ঝমঝম ধ্বনি পাহাড়ের চিবুক চুঁইয়ে শুভ্র ফেনা শিরচূরোয় রেখে সদ্য স্নান করিয়ে নেমে আসে নীচে... নীচে আরও নীচে... কদমের গন্ধ মাখা হাওয়া সাদার চামর মেখে আকাশী মেঘের ঘাগরা জড়িয়ে মেঘবালিকা ঘুরে বেড়ায় দিক- দিগন্তে, ঝড়ে পড়ে আকাশ ঝর্ণা। পদ্মের পাতায় ক্ষণস্হায়ী বিন্দু আন্দোলিত হয়ে হিল্লোল তোলে আর ময়ূয়ীর পেখমের বিচিত্র রঙের আভায় আমার পিয়াসী চোখদুটো পদ্ম পাতায় জল বিন্দুর মতোই চকচক করে ওঠে। মনে ভেসে বেড়ায় আবার কখনও নদীর স্রোতের মৃদু মৃদু ধ্বনি জলবিন্দুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, কখনও প্রজাপতির বিচিত্র বর্ণোচ্ছটায় ফুলে ফুলে পাপড়িকে চুম্বন করে ঝরে পড়ে মাটির বুকে। রুক্ষ মাটি বর্ষার আগমনে মুগ্ধ হয়ে শোনে নাচের সুর- পিপাসার্ত শরীরে দেহের অভ্যন্তরে মিলেমিশে একাকার দুটো সত্তার মিলনে সুপ্ত বীজ অঙ্কুরোৎগমের নেশার মেতে উঠলে জননী বৃক্ষ তার ডালপালা ছড়িয়ে অভিষেক করে- বর্ষার জল ঝিমঝিম ঝম ঝম সুরে কিশোরী বালিকার মতো পাতায় পাতায় লেপ্টে থাকা আদর মেখে নেমে পড়ে পিচ ঢালা কালো রাস্তায়--কালোর ওপর হীরক বিন্দুর খেলা দেখে দেখেই আমার বয়ে যায় সারাবেলা, কত সুর কত গান গুণগুণ করে মাতাল করা বর্ষারানীর শরীর জুড়ে-মন গেয়ে ওঠে নিজের সুরে-

আমি চলেছি আমি চলেছি বৃষ্টির বুক চিরে
জমে থাকা জল টলমল
টলমল
ধুয়ে দিয়ে যায় কাদা পিচ্ছল।
টলমল।।
ঝমঝম সুরের কত বায়না
শ্রী রাধিকা ঘরে কেন!
বর্ষা ডাকে, মুরলি হাঁকে
না চলে রে তোর কোন বাহানা।
টলমল
টলমল।।

কখনও নিজের মনেই কবিতা আবৃত্তি করে দিশেহারা মন—

বর্ষা এলেই সবুজ শাড়ি পড়ে রুক্ষ মাটি
অভাবী সংসার। ঢেকে রাখে উপবাসী হৃদয় 
প্রাণ ভরে দেখে নদী নালা পুকুরের হৃদয়ে স্পন্দন 
কেউ মাঠে কেউ ঘাটে ভিজে বেড়ায় সারাক্ষণ।
বর্ষা মেটাতে পারে না চাহিদা শহরে শহরে 
চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে ঋতুদের ভ্রমণ 
তবুও বর্ষার সুরে মেতে ওঠে কপোত- কপোতি
নব দম্পতি সুরে সুর মিলিয়ে হয়ে ওঠে রাগ- রাগিনি...
কত ভাব কত ভাষা কত আশা কত নিরাশার সুর
ঝমঝম রিমঝিম সুরে বেজে উঠে ভাঙ্গা হৃদয়ের অলিগলি...।

         সারাদিন- সারারাত আমার মনে বর্ষার সুর রূপ রঙ যেন মোহিনী মন্ত্র ঢেলে দেয় আর মন উদ্বিগ্ন হয়ে বেরিয়ে পড়ে চেনা সুরের খোঁজে অচেনা অলিগলি মাঠ-ঘাট শহর -বন্দর পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে সেই সুরে মোহে তার উৎস খুঁজে পেতে, তার পিছু পিছু... আজও সেই মন মাতানো সুর খুঁজে চলেছে মন ... ঝমঝম ঝমঝম গম্ভীর সুর থেকে রিমঝিম রিমঝিম...।              
                                                                           

Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.