x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

সোমবার, জুলাই ৩১, ২০১৭

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | জুলাই ৩১, ২০১৭ | | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
আলোক সরকারের "শ্রেষ্ঠ কবিতা"-র বইটা আমার বিছানার ওপরে সব সময় রাখা থাকে। কেনার পর থেকে বইটা আর আলমারিতে রাখি নি। বিছানায় রাখা বই বাদ দিয়ে যে সামান্য অংশটুকু আমার শোওয়ার জন্য নির্দিষ্ট তার মধ্যেই আলো করে থাকে আলোক সরকারের কবিতা। এরকম এক একটা বই থাকে যে বইকে সময়ে অসময়ে হাতে তুলে নেওয়া যায়।

বইয়ের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে "আলোকিত সমন্বয়" কাব্যগ্রন্থের "শ্রাবণ" কবিতাটার দিকে নজর চলে যায়। কবি লিখেছেন ----- " ভিড়ের মধ্যে যাবো না। তুমি যাও / আমি তোমায় দেখি। " কোনোদিন আমরা তাঁকে ভিড়ের মধ্যে দেখি নি। তিনি কি নির্জনে একাকী জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন? কথাটা সত্য আবার সত্য নয়। তিনি নিজেই এর উত্তর দিয়েছেন ------ " আমি সকলের সাথে থাকতে চেয়েছিলাম। .......... আমার আজীবনের নিয়তিই এইরকম। আনন্দ কলরোল সবসময় দূর থেকে দেখলুম, কাছে যেতে পারলুম না।

"বর্ষশেষ" কবিতায় "অনেকদিন যেন একলা আছি / এখানে। হঠাৎ মনে হলো যখন হাওয়ার সময় / হলুদ পাতা জানলা দিয়ে উড়ে উদাস ঘরে এলো। / কোথায় যেন ভীষণ ঝড় হচ্ছে আমি শুনছি শব্দময় / উপস্থিতি তোমার। তুমি আমার বাড়ি, শ্যাওলা-পড়া উঠোন শিশু বটের বন্ধুতায়।" গতিশীল হাওয়ার সাপেক্ষে মনে আসা তার একলা থাকার অনুভূতি। তা না হলে এতদিন তো তাকে কেউ জাগায় নি। উদাস ঘরে জানলা দিয়ে উড়ে এলো হলুদ পাতা। যেন নতুন কোনো বার্তা নিয়ে এলো। কোথাও যেন একটা ভীষণ ঝড় হচ্ছে। এও এক গতি। এর মধ্যে দিয়েই অনুভূত হচ্ছে তার উপস্থিতি। আবার "পরিণয়" কবিতায় দেখি "সেদিন তো নদীর ভাষা বুঝতে পারোনি। / কিংবা সেদিন / একবারো নদীর দিকে ফিরেও চাওনি। / অবশ্য নদীর ভাষা সেইদিন এমন প্রেমিক / ছিল না। চারিদিকে কী রকম আলো দেখো / আম কুড়োবার গন্ধ একেবারে নয়। বৈশাখী ঝড়ের / মধ্যে যেন ফুলে-ওঠা সংহতির অশথ কি আম জাম গাছ।" এখানেও যেন একটা অন্যরকম বার্তার সন্ধান পাই। তাই তো চারিদিকে আলো দেখতে পাই যা আম কুড়োবার গন্ধের মতো একেবারে নয়। বৈশাখী ঝড়ের মধ্যে তাই সংহতির সংকেত। এখানেও যেন আমরা অদ্ভুত এক গতিশীলতাকে লক্ষ্য করি।

"স্তব্ধলোক" কাব্যগ্রন্থের "সুপ্তি" কবিতায় আমরা এক অন্য আলোক সরকারকে আবিষ্কার করি। সূর্যোদয়ের মুহূর্তের চরাচর জুড়ে যে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা দিনের শেষে তা যেন স্তিমিত হয়ে আসে। নতুন দিনের উল্লাস ভরা মুহূর্তে প্রতিটি ফুল, ফল, পাখি নিজের পরিচয় দানে ব্যস্ত। সমস্ত বাগান জুড়ে এক অপূর্ব মুখরতা ------ "ভোরবেলা যখন পাখিরা উড়ে এসেছিল সমস্ত বাগান / কলরব। লাল জবা এমনকি স্মিত গন্ধরাজ পাপড়ি মেলে / বলে দিল এই আমি ----- এই জবা, এই গন্ধরাজ, এই সপ্রমাণ / লাল শ্বেত। বিকেলবেলায় সমস্ত বাগান রিক্ত নিরবতা। / এখনো তো রয়েছে রক্তিম জবা, শুভ্র গন্ধরাজ! চারিদিকে প্রীতবর্ণ জ্বেলে / বলতে পারতো এই আমি, এই গন্ধরাজ, এই জবা। / চারিদিকে কেবল নিস্পৃহ দূর, ম্লান নিঃস্ব আত্ম-অপসৃতি।" প্রত্যেকটি অস্তিত্বের মধ্যেই আছে একটা সুপ্তি। এটাই তো স্বাভাবিকতা। সেখান থেকেই জাগরণ। পুনরায় সুপ্তির বৃত্তে ফিরে যাওয়া। দ্যুতিহীনতাটাই সেই কেন্দ্র যেখান থেকে আমাদের উৎসপথ। প্রবহমান ধারায় কখনও তা আড়ম্বরকে ছুঁয়ে চলে যায়। তখনই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে আলোর ঝলকানি। কিন্তু সে আর কতক্ষণ? ক্ষণিকের জন্যই এইরূপ পরিগ্রহের প্রসঙ্গ আসে ------- "বাগানের রক্তের ভিতরে এক সুপ্তি আছে, নিয়ত বিষন্ন অন্যমন / ফিরে যেতে চায় এক কেন্দ্রে এক দ্যুতিহীনতায়। / সবসময় সবুজ পাতার অন্তরালে নদীর পাড়ের ধু-ধু বালি / থাকে মাঘনিশীথের সমাহিতি।"

আমাদের এইজীবন আমৃত্যু হেঁটে যাওয়া। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনায় ভরা এইজীবনের নিয়ত পথ চলা। প্রতিটি মানুষের জীবনে এই পর্ব অমোঘ। এই ব্যাপারে আমাদের কাউকে কিছু বলার থাকতেই পারে না। জীবনের যে দুঃখ-কথা আমার বক্তব্যে উঠে আসে, আরও এক গভীর দুঃখে অটল আমার প্রতিবেশী। প্রতিজন প্রতি মুহূর্তের সংগ্রামে সদা ব্যস্ত থাকুক। প্রকাশের কোনো অবকাশ নেই ------- "সেই লোক যে আজ সন্ধ্যেবেলায় এসেছিল / বর্ষার কাদা মাড়িয়ে হাঁটু পর্যন্ত জল ডিঙিয়ে / সে আমাকে বলল / তার বলার মতো কিছুই নেই। .......... এসেই ঘুমিয়ে পড়ল চা-টুকু পর্যন্ত খেল না ------ / তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলুম কত গভীর আর নিরুদ্বেগ ঘুম। / এই জন্যই এসেছিল? ধাক্কা দিয়ে তুললুম জাগিয়ে ------ / জড়ানো গলায় বলল বলার মতো কিছুই তো নেই।" ( নেই )

আলোক সরকারের কবিতা আমাদের জীবনের পথে প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গী। প্রতিটি পথ চলায় তাঁর কবিতা আমাদের পাথেয়। 



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.