x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

রবীন বসু

sobdermichil | জুন ৩০, ২০১৭ |
জামাই ষষ্ঠী
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছে রাধারানি। স্নান করে নিত্যপুজো সেরে এখন মেয়ের ঘরের দরজায় ।

কী ভুলো মেয়ে রে বাবা, ভুলেই বসে আছে আজ কী দিন। কোথায় তাড়াতাড়ি উঠবে, তা না— । এবার তিনি জোরে দরজায় ঘা দিলেন।

—শোভনা, এ্যাই শোভনা, উঠবি তো রে ! আর কত বেলা অবধি ঘুমোবি? এদিকে আজ যে—

মায়ের শোরগোলে ঘুম ভেঙে গেল শোভনার। বাইরে আসতেই মা ঝাঁপিয়ে পড়ে।

—কী বেআক্কেলে মেয়ে রে তুই? আজ না জামাইষষ্ঠী, কত কাজ—তুই নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিস? আমি তোর মেজো মেসোকে বলেছি বাজার করে দিয়ে যাবে। কাল রাত থেকে নিলয়কে ফোন করছি, পাচ্ছি না। এবাড়ি থেকে তো ওকে ষষ্ঠীতে আসার জন্য নিমন্ত্রণ করতে হবে। যাই আর একবার ফোন করি। রাধারানি চলে গেলেন ড্রয়িংরুমের দিকে। 

শোভনা কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। তার আজ আর অফিস যাওয়া হবে না, মাকে চোখে চোখে রাখতে হবে সারা দিন । বিয়ের এক বছরের মাথায় বাবা হঠাৎ চলে গেল। আর তার দু’বছর পর নিলয়ের সঙ্গে তার ডিভোর্স। বাবার চলে যাওয়া মাকে ভেঙে দিয়েছিল, কিন্তু তার ডিভোর্স মাকে সব ভুলিয়ে দিল। মেনে নিতে পারেন নি। অন্তর মহলে জামাই নিলয়কে আজও ধরে রেখেছেন। শোভনা খুব ভয় পেয়েছিল। ডাক্তার বসাকের চেম্বারে নিয়ে যেতে বলেছিল, অকস্মাৎ আঘাতে নার্ভাস ব্রেকডাউন। খুব যত্নে আর সাবধানে এসব পেশেন্টকে ট্রিটমেন্ট করতে হবে। সব ভুলে যাবেন কিন্তু যে কারণে তাঁর এই অবস্থা সেটা অবচেতনে রয়ে যাবে। তাকে ঘিরেই তাঁর জগৎ গড়ে উঠবে। অধৈর্য্য হয়ে সেটাকে ভেঙে দিলে হিতে বিপরীত ফল হবে।

তখন থেকেই শোভনা খুব সতর্ক। কিন্তু আজ তো মা সারাদিন জামাই জামাই করবে। কি করে সে বোঝাবে যে তাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে, নিলয় আর তার জামাই নেই। সে এখন অন্য কোথাও ষষ্ঠী নিচ্ছে। 

চার বছর প্রেম করে তারপর বিয়ে। শোভনা বুঝতে পারেনি নিলয়ের স্বরূপ। অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে তবু নানা অছিলায় সে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিত শোভনাকে। বলত, বাপের একমাত্র মেয়ে তুমি, সব তো তোমারই—আনবে না কেন?

—না পারব না, বলতেই চলত গালাগাল মারধোর, এমন কি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি। কয়েকবার এনেও দিয়েছিল। টাকা হাতে পেয়ে নিলয়ের অন্য রূপ। তিন চার দিন বাড়ি ফিরত না, যখন ফিরত বেহেড় মাতাল। কোন নোংরা জায়গায় যে পড়ে থাকত কে জানে। শ্বশুর শাশুড়িকে বললে বলতেন, ও ছেলেদের ওসব একটু থাকে। মেনে নিতে হবে ।

—আর আমি যদি তিন চার দিন বাড়ির বাইরে থাকি মেনে নেবেন তো আপনারা?

শোভনা উত্তর পেয়েছিল, শাশুড়ির হাতের একটা চড়। সেদিনই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আর না,  এ সম্পর্ক তাকে আর কিছু দেবে না  বরং একা অসহায় মায়ের পাশে ফিরে যাওয়াই ভালো।

ফিরে সে এসেছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বিচ্ছেদ। তারপর শোভনার চাকরি খোঁজা। স্কুলজীবনের এক বন্ধুর সাহায্যে এক কর্পোরেট হাউসে ঢোকা। জীবন তার এখন ভারমুক্ত, কিন্তু বিনিময়ে সে হারিয়েছে মায়ের স্মৃতি। এক আলোআঁধারির ভ্রম আর বিভ্রমে তাঁর অবস্থান। শোভনা চায় যে কোন মূল্যে সে মাকে সুস্থ করে তুলবে । অফিস কলিগ অমৃতকে একটা ফোন করল ...

দুপুরের মধ্যে সব রান্না করে ফেলল শোভনা। রাধারানি চেয়েছিল আজ তিনিই রান্না করবেন জামাইয়ের জন্য । অনেক বুঝিয়ে তাঁকে নিবৃত্ত করে মেয়ে। আসন পেতে হাতে হাতপাখা নিয়ে ফোঁটার সরঞ্জাম সাজিয়ে ড্রয়িং রুমে বসে ছিলেন রাধারানি জামাইয়ের অপেক্ষায়। দুপুর গড়িয়ে যেতে ডোর বেল বাজল ...

—ওই বোধহয় নিলয় এল। দৌড়ে গেলেন দরজা খুলত...।  জামাইকে দেখে এক মুখ হাসি। —এসো বাবা, ভিতরে এসো। বলি ও শোভনা, এদিকে আয়—দ্যাখ নিলয় এসেছে ...

শোভনা দেখল, দরজা দিয়ে তার অফিস কলিগ অমৃত ঢুকছে ...  এক অবরুদ্ধ যন্ত্রণা আর আনন্দে শোভনার চোখ ভরে জল এলো ... 


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.