x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

শুক্রবার, জুন ৩০, ২০১৭

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | জুন ৩০, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
ঠুলি খুলে দেখ




মানুষ তো জন্মেই মানুষ, মানুষ আবার হবে কি

আরও একবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হল। একনজরে পশ্চিমবঙ্গের আগামী দিনের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের দেখে নেওয়া গেল। সেই সঙ্গে দেখে নেওয়া গেল অভিভাবকদের চোখের স্বপ্নের কাজল। কে কতখানি পুরু করে পড়েছে সেই কাজল।

নতুন কিছু নয়, এবারও দেখলাম বাবা মায়েরা ছেলেমেয়েদের সব উচ্চাসনে দেখতে চান। এটা তো সব বাবা মায়েরাই চায়। ছেলেমেয়েদের মুখে সাফল্যের হাসি না দেখতে পেলে অভিভাবকের ভূমিকাটাই তো মিথ্যে হয়ে যায়। সন্তানকে যদি প্রতিষ্ঠিতই না করতে পারলাম তাহলে বাবা মা হয়ে এলাম কিসের জন্য?

কিন্তু শুধুই প্রতিষ্ঠা? আর কিছুর প্রয়োজন নেই? দু পায়ে দাঁড়ানোর আগে একটা মানুষের ভিত চাই না? প্রত্যেক বছর এই প্রশ্ন যখন অভিভাবকদের কাছে রাখা হয় তখন তারা হাসেন। হ্যাঁ, প্রত্যেকেই হাসেন। যেন এ বড় হাসির প্রশ্ন। এইধরনের একটা প্রশ্ন করা মানে নিজের মূঢ়তাকেই যেন প্রকাশ করে ফেলা।

মানুষ তো হয়েই আছে। সেটা আবার হবে কি? অভিভাবকরা এমন চোখে সাংবাদিকদের দিকে তাকান যেন তাঁরা তাদের সন্তানদের মানুষ বলে স্বীকারে কার্পণ্য করছেন। আসলে আজকের অভিভাবকরা এমন একটা পরিমণ্ডলে মানুষ হয়েছেন যে, মানুষ হওয়াটা তাদের কাছে কোনো ভাবনারই বিষয় নয়। তাদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস এই পৃথিবীতে একজন মানুষ হয়েই জন্মগ্রহণ করে। মানুষ হতে হয় না।

এবার একটু লেখাপড়া বাদ দিয়ে অন্য দিকে তাকাতে বলবো। আমাদের বাড়ির চারপাশের মানুষগুলোর দিকে একবার তাকান। যাদের গড় বয়স ষাটের ওপর। অর্থাৎ টানটান মেরুদন্ড অনেকটাই নুব্জ। সন্তানকে সামনে রেখে স্বপ্নের যে কাজল পরেছিলেন তার পুরোটাই ধুয়ে মুছে সাফ। মুখের ভাষাটাও আমূল বদলে গেছে। এখন শুধু বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ার অপেক্ষায়। এই বাবা মায়েরা কিন্তু এখন "মানুষ" মানেন, মানেন "মানুষ"-ও হয়ে উঠতে হয়। তাহলে কি এরা অন্য বাবা মা? মোটেই না। সেই-ই বাবা মায়েরাই যারা টিভির ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে একদিন "মানুষ" হওয়ার প্রশ্নে হেসে উঠেছিলেন। কেন তাদের আজকের এই বদলে যাওয়া?

যাঁরা ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে চান নি, চেয়েছিলেন বড় বড় পদে বসে সন্তান তাঁর দু'হাতে অর্থ রোজগার করুক। মানুষকে চেনানোর পিছনে সময় দেন নি। তাই যা হবার তাই হয়েছে। অন্য কাউকে দূরের কথা, নিজের বাবা মা-কেই মানুষ বলে চিনতে পারে নি। সেদিনের বড় সাধের "সোনা মানা" বাবা মা-কে বাড়িতে ফেলে বিদেশ। তাদের কাছে বাবা মায়ের অসুবিধা মানেই মাসের বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়া আর না হয় আর একটা অতিরিক্ত আয়ার ব্যবস্থা করা। 

এই আচরণের জন্য একবিংশ-এর ছেলেমেয়েদের দোষ আমি খুব একটা দেব না। তারা যা শিখেছে সেটাই তো তারা ফিরিয়ে দেবে। তাদের বাবা মায়েরা একদিনের জন্যও কি তাদের বলেছেন, এইসব ফলাফল তোমার পরিশ্রমের মূল্য। কিন্তু এর থেকেও বড় পরীক্ষা মানুষ হিসাবে উত্তীর্ণ হওয়া। বলেন নি। তাহলে তারা শিখবে কার কাছ থেকে?

অথচ হাটে মাঠে ঘাটে বাজারে কান পাতুন শুনতে পাবেন, " আর বলবেন না দাদা, আজকালকার ছেলেমেয়েরা সব এক একটা অমানুষ। যারা তোদের মানুষ করল তাদেরই তোরা ভুলে গেলি! " এই বক্তব্যে আপনার মন প্রাণ এতটুকুও গলবে? বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ার রাস্তা তো এরা নিজেরাই তৈরি করেছে। 


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.