x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

শুক্রবার, জুন ৩০, ২০১৭

সায়ন্ন্যা দাশদত্ত

sobdermichil | জুন ৩০, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
ক্যালেন্ডার
এই আজকের তারিখটাই ধরো। কিছু একটা জুন। চৌঠা...বাইশে...অথবা আঠাশে জুন। মৌসুমী বায়ু এসে পড়েছে। বর্ষাকাল। দারুণ সব ইলিশের গন্ধে রান্নাঘর একেবারে সমুদ্রসৈকতের মতো রঙিন। যখন তখন ইচ্ছে করছে প্রেমিকের কোলে চেপে পড়তে। হেডফোনে ফেলে আসা প্রেমের বিগতযৌবনা রোম্যান্টিক গান শুনতে। অথবা কে প্রথম কাছে এসেছি ধরনের একটু খুনসুটি মেসেঞ্জার মেসেঞ্জার খেলায় ! আহা বর্ষাকাল তো ! আটকাচ্ছেটা কে ?

সেই মেঘদূতম...কুমারসম্ভব...কালিদাস। যক্ষরাজ বহুবছর ধরে একপায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে চিঠি আনবে ভেবে। কিন্তু তোমার হালকা সিফন শাড়ি ,ন্যাচরল লিপস্টিক আর এইট সি বাসের শেষে সময় বাড়তি হয়না। টুংটাং ,খুচখাচ শব্দে হেসে ফেল তুমি। একবার ওপেন করেই ইচ্ছেকৃত আনরিড বানিয়ে ফেললে ওকে। ঘুরেফিরে সেই সেই অপেক্ষা। অপেক্ষার আর নবীকরণ হয়না। কি আগেও ,কি পরে !

মুঠোভর্তি কাঞ্চন নিয়ে ফিরে দাঁড়াল ছেলে। মেয়ের তখন ইন্টিগ্রেশেনের তাড়া। দশটা পাঁচটার স্কুল। চারচারটে ট্যুইশনি। দিনে কমবেশি আঠারো ঘন্টা পড়েছিল এবারের জেলাভিত্তিক প্রথম । এসব মনে রাখতেই হয় ;নইলে তো আর এগোনো যায়না। দিনকাল তো তেমন আর নয়। রবিঠাকুর , শিশু ভোলানাথ , শ্রীকান্ত -ইন্দ্রনাথ ,এক্কাদোক্কা দুপুর ,আচারের বয়াম ,পাশের বাড়ির ফুলদি !

এক দুপুরে তখন আকাশে ভারিভরকম মেঘ। এই বৃষ্টি হয় হয় । দিনেও যেন ঝিঁঝিঁ ডাকছে দূরে । পুকুরপাড়ে আম জামের ছায়া। বাজ পড়া তালগাছেটার মাথায় প্রথম চিরিক করে উঠল বিদ্যুত্। দেখবনা দেখবনা করেওদেখেই ফেললাম আষাঢ় এবং প্রথম বর্ষাকাল । ফুলদি ওর বরের সাইকেলে চেপে ঘুরতে যাচ্ছে কোথাও ;আর হাওয়ায় ওর ওড়না উড়ে গেছে....দুঃস্বপ্নটা অনেক বয়স অব্দি পিছু ছাড়েনি আমার। ফলাফল কি আর ?! সেই একঘেঁয়ে ,প্যাচপেচে রবীন্দ্রনাথ আর জীবনানন্দের  বনলতা। ছুটিতে হনলুলু না। হানিমুনে প্যারিস না । বার্থডে তে মি আমর না....দুর্ দুর্ !চাল , কলা ,নুন , তেলে টোটাল মধ্যবিত্ত জেবন।

তা বলে প্রকাশ্যে সে ফাস্টু আমরা খাইনে। প্রকাশ্যে আমরা বাড়াবাড়ি রকমের সেন্টিমেন্টাল। কথায় কথায় প্রণাম ঠুকি। শ্রদ্ধায় না স্পন্ডলাইসিসে কে জানে ! মোট কথা মাথা তুলতেই পারিনে। আষাঢ় পড়লেই যক্ষ খুঁজি। ভেতরে ভেতরে শত যক্ষা ফুসফুস গুঁড়িয়ে দেয় ওসব আমরা ইগনোর করি। গাছ লাগাব বলে বারান্দায় দশটামণি পুঁতে খাসা একখান সেল্ফি টাঙ্গিয়ে রাখি দেয়ালে। খিস্তি দিলে বুক দেখিয়ে বলি...দেওয়ালটা কি তোর বাপের ?

কি জানি কি বলতে কি লিখে ফেলেছি স্যার !ম্যাডামরা নাহয় মুখে জুতো ঘষে দেবেন একদিন। আপতত পুকুর বোজানো নতুন আবাসনে যাই গে বর্ষামঙ্গলের অ্যারেঞ্জমেন্ট করি ! উঁহু বাবা , রবীন্দ্রনাথের উত্তরপুরুষ বলে কতা ! পিছিয়ে থাকতে পারবনা । আমারও একটা স্টেটাস আছে বই কি !


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.