x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

শুক্রবার, জুন ৩০, ২০১৭

বনবীথি পাত্র

sobdermichil | জুন ৩০, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
বনবীথি পাত্র
সামনের সপ্তাহ থেকে খালপাড়ের বস্তিতে একদিন করে চ্যারিটি ট্রিটমেন্ট করবো। রিমোটে এসির ঠাণ্ডাটা অ্যাডজাস্ট করতে করতে আলগা ভাবেই কথাটা বলে কুন্তল । টাকাগুলো আলমারির লকারে গুছিয়ে রাখতে রাখতে একটু থমকে দাঁড়ায় মিঠু ।

ডাঃ কুন্তল লাহিড়ীর হঠাৎ কি হলো যে এসি চেম্বার ছেড়ে খালপাড়ের বস্তিতে ..... মিঠুর কথা শেষ করার আগেই খেঁকিয়ে ওঠে কুন্তল, দেশের খবর-টবর রাখো না নাকি কিছু !

মুখভার করতে গিয়েও রাগটা সামলে নেয় মিঠু ।

- কি হলো কি , শান্ত স্বরেই জানতে চায় ।

যেভাবে ভুয়ো ডাক্তারদের ধরাধরি চলছে, একবার ধরা পড়লে কি অবস্থা হবে বুঝতে পারছো। গরীবদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করলে হয়তো শকুনের নজর থেকে বাঁচা যাবে । সমাজসেবা করলে হয়তো ....

- কতবার বলেছি , যত টাকা লাগে লাগুক, নিজের পাশের সার্টিফিকেটটা পাকাপোক্ত করো ; গজগজ করে ওঠে মিঠু ।

- এতো বছর তো ঐ সার্টিফিকেটেই চলছিল, অভাব তো কিছু ছিল না ।

- কি হবে গো যদি ধরা পড়ে যাও । সামনে এখন কতো খরচ। মেয়েটাকে এইবছর-ই একটা ভালো ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি করতে হবে । গাড়ির ই.এম.আই.টা এখনো শোধ হয়নি .....

- বাহ্ বাহ্ তোমরা নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবছো । ধরা পড়লে আমার যে জেল হয়ে যাবে এটা ভেবেছ একবার!

- সেকি গো, জেলও হতে পারে ? কুন্তলের কথায় আকাশ থেকে পড়ে মিঠু । ওসব কোন ব্যাপার নয়, এখন থেকে একটা ভালো ল-ইয়ারকে ফিট করে রাখো । টাকার অঙ্কটা মোটা হলে উনিই সব সামলে দেবেন ।

মিন্তি কখন ঘরে ঢুকেছে খেয়াল-ই করেনি ওরা দুজনে। মেয়েকে দেখে দুজনেই যেন চমকে ওঠে । মেয়ে সব কথাই তবে শুনে ফেলেছে !

- কদিন পরে পরীক্ষা, আর তুমি পড়া ফেলে লুকিয়ে লুকিয়ে বাবা-মায়ের কথা শুনছো ? এতটুকু ম্যানার্স জ্ঞান নেই তোমার ? মেয়েকে একটু জোর গলায় শাসন করতে যায় মিঠু ।

- শোনো তোমাদের কথা শোনার কোন ইচ্ছা নেই আমার । কালকে আমার পনের হাজার টাকা লাগবে , সেটাই বলতে এসেছিলাম ।

- পনের হাজার টাকা কি করবে , জানতে চায় মিঠু ।

- একটা ফিজিক্স সাজেশন কিনব , 95% সিওর কমন আসবে ।

- তোমাকে ভালো স্যারের কাছে পড়ানো হচ্ছে , টাকা দিয়ে সাজেশন কিনে পরীক্ষা দিতে হবে ?

- এর আর নতুন কি ! বাবাও তো......

মিন্তির শেষ না করা কথাটা বুঝতে অসুবিধা হয় না কারো । সমস্ত প্রাচুর্য-ঐশ্বর্যকে ভেদ করে নিজেদের কঙ্কালসার সত্যিটার সামনে নির্বাক তিনজনেই .......


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.