Header Ads

Breaking News
recent

অনুপ ঘোষাল

অনুপ ঘোষাল
মোবাইলটার রিংটোনটা বড্ড আস্তে ......শোনাই যায় না । সারাদিনে অনেকের ফোন ধরাই হয় না । রাগ করে .......হয়তো ভাবে avoid করছি......বোঝাতেই পারিনা অনেক সময় । শব্দ তো অনেক কিছুরই কম, তবু শোনা যায় - বোঝা যায়, আমলকি গাছটার পাতা খসা-র শব্দ ....... মিতুলের দুষ্টুমি হাসি..... সাগ্নিকের ট্রেন থেকে নেমে বাড়ি দৌড়ে আসা .... শুধু মিতুলের জন্যই হয়তো .....হয়তো না....তবুও শোনা যায় সে বাঁশির সুরের আত্মসমর্পণ । 

বহুবার শুনেছি অর্কিডের শরীর বেয়ে নেমে আসা, টুপ করে ঝরে যাওয়া কুয়াশার রং ....সাগ্নিকের শরীর থেকে । প্রদীপের আলিঙ্গনের উষ্ণতা, প্রেমাতুর চুম্বন ....এমনকী সুঠাম গ্রীক শরীরও অতিক্রম করেনি সে বাঁশির চৌকাঠ। তবু ...... "মিতুল তোর জন্য কি এনেছি দ্যাখ্"-সাগ্নিক দুটো খেলনা এনেছে .....দামি নয় । ও জানে অনেক আছে .....ঘর বোঝাই ....তবু । আমার জন্য?  ...."এক আকাশ ভালবাসার রামধনু রং । আমার বুক পকেট .....ক্লান্ত ব্যাগটা .....এঁটো টিফিনবক্স ......সভ্যতায় ......অসভ্যতায় .....সবেতেই তো তুমি লেপ্টে আছো আর আছে তোমার নামে চিলেকোঠােয় রেখে দেওয়া সেই ভাঙা বাইনোকুলার.....সেদিন দেখি ঝাপসা হয়েছে খানিকটা ।" 

বুকটা কেমন করে উঠলো----"সাগ্নিক কি কিছু বুঝতে পারে? বোঝার তো কথা নয়। প্রদীপ তো ১০টা থেকে ৫ টা ....তারপর নয় ....তবে ? নারকেল গাছটা য় আটকে থাকা মুখপোড়া ঘুঁড়িটা আবারও চেষ্টা করে জট খোলার ......বৃথা .....সব বৃথা .....আরও জড়িয়ে যায় । ফাংশন শুরু হবে ......রবীন্দ্রজয়ন্তী ......

"যাবে একবার মিতুলকে নিয়ে ?"

"আকাশ জুড়ে শুনিনু ঐ বাজে......"---গান-টা সেই সকাল থেকে বেজে চলছে ।

সাগ্নিক মিতুলকে জাপ্টে ধরে আদর করতে করতে বলে ওঠে "বরং মিতুলকে নিয়ে খেলি। বহুদিন গোটা সন্ধ্যা ওকে নিয়ে খেলা হয়নি.....আমার। রবিঠাকুর রাগ করবেন না তাতে ......তুমি বরং ঘুরে এসো"

একা? সাগ্নিক কোনদিন বলেনি একথা। কোনওদিনও নয় ......তবে আজ....

এই প্রথম সারাদিনে একবার মাইকে বেজে উঠলো ......."ধায় যেন মোর সকল ভালবাসা ........"।


কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.