x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

মঙ্গলবার, মে ০৯, ২০১৭

শুক্লা মালাকার

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
শুক্লা মালাকার
 শেষচিঠি 

ম্ভবত আর একটি রাত থাকবো তোমাদের এই জেলখানায়
দুটোদিন থেকে যাবার কথা বলবে না কেউ
বহুদিন তো হল আর কেন?
শব্দ, খেলাপাতি বিচারসভা, অনুরোধ উপরোধ সবই তো হল
শেষ চিঠিটিও লেখা হয়ে গেছে রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে
আর কেন?
আর ভালো লাগেনা যাওয়া-না-যাওয়ার এই খেলা
ফাঁসি হলে হোক
যেতে যখন হবেই
এই দ্বি-মুখতার শেষ হোক।

বহুদিন এ মনে বৃষ্টি নেই
ভিতরে গভীর এক ফাটল
হীম নেই তবু মাঝে মাঝে শিরশির করে উঠতো বুক
ভুস করে জেগে যেতো খন্ড বিশ্বাস
বাবুদের দামী পর্দার ফাঁক দিয়ে হয়তো
সেদিনের সত্য দেখে ফেলবে কেউ
আমি ফিরে যাব
কুঁচো চিংড়ি দিয়ে পুঁই-চচ্চড়ি কতদিন খাই নি।

মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে আমার মতো লোক কী-বা ভাবতে পারে-
কখনো কখনো মনে হয় পৃথিবীর সব কিছু চলমান
আমিই শুধু স্তব্ধ হয়ে আছি
বাস্তব এবং অলীকের মাঝে নিঃশব্দতার যে জটিল ব্যবধান
মায়াময় রেখার ওপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ইশ্বর
তাঁর আঁচলে সবটুকু জড়ো করে নিচ্ছেন না কেন?

প্রথম প্রথম কত কেঁদেছি,
যন্ত্রণায় হেঁটেছি এই চৌখুপ্পির মেঝে
প্রহরের পর প্রহর
হাতে পায়ে ধরেছি বাবুদের
গালাগাল ছুঁড়েছি বড়লোকি সমাজটাকে
চষে ফিরেছি স্মৃতি,
তন্নতন্ন করে খুঁজেছি আমার ভুল
কখনো কি কথা বলে ফেলেছিলাম সেই মেয়ের সাথে
যার বীভৎস মৃত্যু আমাকে নষ্ট করেছে,
বাবা মা ভাইবোনেদের পোড়া পোড়া মুখ আর
উথাল পাথাল জীবনের কাছে মাথা খুঁড়েছি-
বিশ্বাস করো, কোনো নর্দমার জলে আমি কদর্য হই নি,
আমি খুনি নই,
আমার জীবন খুন হয়েছে নিয়তির কাছে।

নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা আর মুক্তির অপেক্ষায়
গড়িয়েছে বেলা,মাস,বছর
তারপর একদিন পচা দুর্গন্ধের মধ্যে নিলাম হয়ে গেল
মানবতার আইন, চড়া দামে,
আমার চারপাশে শূণ্যতার ঝলসানো উল্লাস
ঝিনুকের খোলে সেঁধিয়ে গেলাম আমি।
আচ্ছন্ন চেতনার মাঝে উদভ্রান্ত মন জেনেছিল
বাইরের পৃথিবী আমার জন্য নয়, এ জীবনে
বিধির ইচ্ছেই পূর্ণ হোক তবে।

কালের ঘড়ি অজান্তেই কখন শান্ত করেছে
বুকের ভিতরের দাউদাউ আগুন,অস্থীরতা কমিয়েছে,
শেষ হয়েছে অবান্তর প্রলাপ,
বাড়ির কেউ দেখা করতে এলে আর বাঁধ ভাঙে না,
চলমান এক মৃতদেহ  দেখে তারা ফিরে যেত, যার
পাথরের চোখ,পাথরের শরীর।

তবুও আমার এই চারদেয়ালে মাঝেমাঝেই গড়িয়ে নেমে আসতো
ইচ্ছা, কান্না, একাকীত্ব
কী আশ্চর্য!  ঠিক তখনই গুড়ি গুড়ি পিঁপড়ের দল
লাইন করে বয়ে নিয়ে যেতো
আমার টুকরো টুকরো বেঁচে থাকা,
ছেলেবেলা, আলপথ, স্কুল দালান, মায়ের মুখ
আর্মি হওয়ার স্বপ্ন, বাবার হুঁশিয়ারি
বন্ধুদের চুলোচুলি, কাদামাখা ফুটবল মাঠ
বিয়ে, ফুলসজ্জ্যার রাত সব, সব-
ছবিগুলো বড় হতে হতে মস্ত পদ্মফুল হয়ে সুবাস ছড়াতো
আমি কাটা ঝিলের জল হয়ে দুলতাম।

কষ্ট একটা হয়, এখনও,
মাত্র কয়েকদিনের বিবাহিত জীবন জড়বৎ এই সময়ের আকাশে
আধখানা চাঁদ হয়ে উঁকি দেয়,
মনে পড়ে যায়-
শাঁক উলুধ্বনি হইচইয়ের মাঝে
জড়োসড়ো সরল একটা মুখ, আবার
পুলিশ যেদিন ধরে নিয়ে এল
সেই মুখের অকৃত্রিম ভয় মেশানো আকুলতাও মনে পড়ে,
ফুলের গন্ধে মিশে যাওয়া রাতে
ভবিষ্যতের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম
রক্তে লাল মেঝেতে তার কুঁচি ছড়িয়েছে কবে
এতগুলো বছরেও সেগুলো জড়ো করা গেল না।

বাতাসে চন্দনের গন্ধ
হোমের আগুণে কর্পূর ছড়িয়েছে সুবাস
এবার আমি থামব
অসহায়তার নির্যাস মেখেমেখে স্নান করবো
তারপর উন্মাদের মতো গলা ছেড়ে গাইব গান
একটা ঝকঝকে আত্মপ্রবঞ্চনার গান,
সবশেষে অনন্ত ঘুমের মালা গলায় জড়িয়ে
নিশ্চিন্তে হেঁটে যাব লাশকাটা ঘরের অন্ধকারের দিকে।

হাত পাত বউ,
এইবেলা তোকে দিয়ে যাই আমার মেঘছায়া জীবন
আর এক বুক সত্যের উত্তাপ,
যদি পারিস তুলে আনিস
মৃত সময়ের গভীরে তলিয়ে যাওয়া
আমার শুদ্ধতা।

     

Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.