x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

মঙ্গলবার, মে ০৯, ২০১৭

শিবাজী সেন

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
দাগ
‘হয় পরপর দু-দু’টো শো-এ আমার যা ক্ষতি হয়েছে সেই টাকা শোধ কর---না হয় জেলে যা...’

এই সবেমাত্র মায়ের সৎকার সেরে উঠেছে বাতাবী। এটা যদিও তার আসল নাম নয়; আসল নাম ঝুমুর। চেহারার গড়ন অনেকটা বাতাবীলেবুর মতো গোলগাল বলে দলের লোকেরা তাকে বাতাবী বলে ডাকে। 

‘এই ঝুপড়িটা ছাড়া আমার আর কিছুই নেই কত্তা...আমায় আপনি জেলেই দিন !’

কর্তা মোহন তিওয়ারি গলা চড়িয়ে, আঙ্গুল নাড়িয়ে হুমকি দিয়ে গেল, ‘তাইই দেব। তোকে আমি জেলই খাটাবো। আমায় তুই চিনিস না শালি। আমার নামও মোহন তিওয়ারি...সারা এলাকা আমায় এক নামে চেনে।’

বাতাবী সেই অর্থে লেখাপড়া না জানলেও তার অনুপস্থিতির ফলে শো-এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কত তা আন্দাজ করতে পারে। সার্কাসের একটি প্রদর্শনীতে বারো-তেরো জন বামনের মধ্যে মাত্র একজন সাড়ে তিন ফুটের বামন উপস্থিত না থাকলে যে সেটা কারো চোখেও পড়বে না তা বাতাবী তার এই দু’বছরের কর্মজীবনে বুঝেছে। 

তিওয়ারি চলে যাওয়ার পর আশপাশের শুভাকাঙ্খী-মহলে জোর আওয়াজ উঠল, ‘ঝুমুর, তুই পালা, বাঁচতে চাস তো এই বেলা ভেগে পড় ! ও ভালো লোক নয় রে; থানা-পুলিশ সব ওর কেনা...’

বাতাবী পালায়নি। সারা রাত মা-হারা ঝুপড়িটাতে একা জেগে কাটিয়েছে। সে অশিক্ষিত, মুর্খ---বেশি যুক্তি তার আসে না। তার একটাই কথা, ‘আমি তো অন্যায় করিনি ! পালাবো কেন ?’

একটু বেলায় নড়বড়ে দরজাটায় ঘা পড়ল। হাতের ধাক্কা না, লাঠির ঠক্ ঠক্। বাতাবীকে ধরার জন্য পুলিশকে বেগ পেতে হল না। সে আপন ইচ্ছায় গাড়িতে উঠে গেল। তার চেহারার গঠন ও গলার খ্যানখ্যানে স্বর সার্কাসের দর্শকদের হাসিয়ে এসেছে এত দিন। পুলিশকর্মীরাও আজ হাসছে। বাঁকা মন্তব্য করছে। রেখেঢেকেও নয়। বাতাবী কোন দিকে তাকালো না। পুলিশভ্যানের পিছনের খোলা দরজা দিয়ে একেবারে ভিতরে গিয়ে বসল। 

‘কি রে বাতাবী, তোর ভয় করে না জেলে যেতে...’

‘না গো দারোগা, ভয় কিসের ? আমি তো কোন অপরাধ করিনি !’

‘খবরদার এ কথা আদালতে বলবিনি...বলিছিস কি ঠ্যাঙিয়ে মাজা ভেঙে দেব। তিনফুটি বামন বলে রেয়াত হবে না কিন্তু !’

বাতাবী সেদিন চলন্ত গাড়ির মধ্যেই বুঝে গিয়েছিল তার সাথে ঠিক কি হতে চলেছে...

দুপুরের গনগনে তাপে হাজতের লোনা-ধরা পুরনো ঘরটা বেশ ঠান্ডা। কাল রাত থেকে পেট খালি। দু’টো পোড়া রুটি আর কি একটা সবজি দিয়ে গেছে। সামনেই পড়ে আছে থালাটা। বাতাবী সেদিকে ফিরেও তাকায়নি। এক মনে কি ভাবছিল। 

‘নিজেকে বড় চালাক ভাবিস...না ! ভেবেছিলি আমার দু-দু’টো শো-এর ক্ষতি করে দিয়ে পালিয়ে পার পাবি। রাতারাতি সার্কাস ছেড়ে পালিয়ে এলি মায়ের ছেরাদ্য করতি। এবার দেখি তোর মা তোকে বাঁচাতে আসে কিনা...’

গারদের বাইরে সাদা ফুলহাতা জামা আর সাদা ফুলপ্যান্ট পরা কালো, রোগা, লম্বা, দেহাতি চেহারার তিওয়ারি সদর্পে দাঁড়িয়ে আছে। বাতাবী একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল, ‘আমার মা ছ’মাস ধরে বিছানায় পড়ে ছিল হুজুর, ম্যানেজারবাবু একটা বেলাও ছুটি দিলে না মাকে দেখার জন্য। তার পায়েও আমি ধরিচি। একটা শো-ও আমি বাদ দিইনি। কিন্তু যখন কত্তা, আমার মা মরে গেল তখন মায়ের মরা মুখটা দেখবার জন্যও ছুটি দিলে না ! আমি পালিয়ে না এলে তার সৎকার কে করত। আমার মায়ের যে আমি ছাড়া আর কেউ নেই...’

বাতাবী অনেকক্ষণ ধরে ক্ষীণ আলো থেকে অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে দেখল সাদা জামা আর সাদা প্যান্টটাকে। চোখ মুছে উঠে দাঁড়ালো, শক্ত করে চেপে ধরল গরাদটাকে---চোয়াল শক্ত---দৃষ্টি স্থির...




Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.