x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, মে ০৯, ২০১৭

শিবাশিস চট্টোপাধ্যায়

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
১ মুঠো প্রলাপ
কথায় বলে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে । আমিও তেমনি এক সাহিত্যবাসরে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে উত্তরবঙ্গে উজিয়ে আসা প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক ব্লগার শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় কে মুখোমুখি দেখা হওয়া মাত্রই একটি সাক্ষাৎকারের দাবী জানিয়ে বসি । সেদিন বিস্তারিত আড্ডা হলেও ততটা নয় যাতে মন ভরে । অগত্যা তিনি বাড়ি ফিরে লিখে পাঠালেন আমাদের ‘শব্দের মিছিল’ এর ‘একমুঠো প্রলাপ’ এর মাননীয় পাঠকবর্গের জন্য তাঁর বিস্তারিত সাহিত্য ভাবনা । তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছোট করব না , তাঁর জন্য বাড়িয়ে রাখলাম অনন্ত সখ্যের শ্রদ্ধার হাতখানি ।

যতদূর জানি , আপনার জন্ম বাংলায় হলেও বেড়েওঠা , পড়াশুনো , কর্ম সবই অসমে । অস্বাভাবিক হত না আপনি অসমীয়া ভাষা সাহিত্য চর্চা করলে । কিন্তু আপনার পছন্দ বাংলা । কেন ?





ঠিকই শুনেছেন। আমার জন্ম কলকাতার সন্নিকটস্থ মধ্যমগ্রামে, মামাবাড়িতে। পূর্বপুরুষ যশোর থেকে ভাগ্যান্বেষণে অসমের গৌরীপুরে আসেন ও এখানকার রাজ এস্টেটে চাকুরি নিয়ে থিতু হন। গৌরীপুর বরাবরই বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। তবে স্থানীয়রাও আছেন। এই গৌরীপুর বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চারও কেন্দ্র ছিল এক সময়। যদিও সে চিত্রটা ক্রমেই ধূসর হয়ে যাচ্ছে। মূল প্রশ্নটায় আসি। আমার পড়াশোনা মাধ্যমিক অব্দি বাংলা মাধ্যমে। যদিও চতুর্থ বিষয় হিসেবে অসমিয়াও পড়েছি। অসমিয়া ভাষাটাও আমি মাতৃভাষার মতই জানি ও ব্যবহারও করে থাকি। অসমিয়াকে আমরা বলি ধাতৃভাষা। অসমিয়ায় কোনোদিন কিছু লিখিনি বা লিখি না এমন নয়। তবে সে লেখালিখি প্রবন্ধ-নিবন্ধতেই সীমাবদ্ধ। যেমন ইংরেজিতেও গবেষণামূলক লেখা লিখতে হয়। অসমিয়া ভাষায় কবিতা যা লিখেছি তা অতি সামান্যই বলতে হয়! বাংলাই আমার প্রাণের ভাষা-- আমার কল্পনা, প্রেম-ভালবাসা ও এমনকি চিন্তারও ভাষা। সৃষ্টিশীল সাহিত্য--কবিতা- গল্প লেখার সময় বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা আসে না। ভাবতেও পারি না। বহির্বঙ্গের বাঙালি আমরা। তাই মাতৃভাষা বাংলাই আমাদের জুড়ে থাকার একমাত্র উপায়, আশ্রয়ও নিঃসন্দেহে।

অসমীয়া আর বাংলা অনেকটাই কাছাকাছি । সে ভাষায় সাহিত্যও আপনি পড়েছেন নিশ্চয় । কতটা প্রভাব আছে তার বাংলার ওপর বা উল্টোটা ?





অসমিয়া ও বাংলা একই গোত্রের ভাষা হওয়ায় দুটো ভাষায় মধ্যে প্রচুর মিল। তবে অমিলের জায়গাও আছে। অসমিয়া সাহিত্যের রয়েছে সমৃদ্ধ এক ইতিহাস। আধুনিক অসমিয়া সাহিত্যও যথেষ্ট ঐশর্যশালী। বিশেষ করে কবিতা ও ছোটগল্পের কথা বলতে হয়! বাংলা সাহিত্যের ওপর(পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ) অসমিয়া সাহিত্যের প্রভাব নিয়ে আমি সন্দিহান। মূল ভূখণ্ডের বাঙালি, এমনকি বহির্বঙ্গের বাঙালিও, প্রতিবেশী সাহিত্যের খোঁজ কতটুকু রাখে? তবে সঙ্গীতের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গানে, এমনকি স্বপন বসুর গানেও সে প্রভাব লক্ষ করি। কামরূপী, ও গোয়ালপাড়িয়া লোকসঙ্গীতের প্রভাব তো অবশ্যই কিছু পড়েছে। ভূপেন হাজারিকা তো একটা ঘরানাই সৃষ্টি করেছিলেন প্রায়! ইদানিংকার জুবিন গার্গ বা সদ্যপ্রয়াত কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের মাধ্যমেও সেটা হয়েছে। তবে বাংলা সাহিত্যের ওপর অসমিয়ার প্রভাব খুঁজতে গেলে অসমের ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকায় সৃষ্ট সাহিত্য-কবিতা-গানের কথাই প্রথমে ভাবতে হবে। অসমের প্রধান-অপ্রধান বাঙালি কবি-লেখকদের কবিতা-গল্প-উপন্যাসে অসমের পাহাড়-সমতল-বনভূমির, অর্থাৎ প্রকৃতি-পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে; জাতিসত্তাসংকট আদির প্রভাব রয়েছে। সে তুলনায় আমাদের সাহিত্যে স্থানীয় অসমিয়া সাহিত্যের প্রভাব সেভাবে পড়েনি বলেই আমার মনে হয়। অমলেন্দু গুহর কবিতায় 'রিহামেখলা' জাতীয় অনেক অসমিয়া শব্দের অনুপ্রবেশ দেখতে পাই। এ জাতীয় প্রভাব রবীন্দ্র সরকার( অসমিয়া কবিতায় সাহিত্য অকাডেমি প্রাপ্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী, তপন মহন্ত, অভিজিৎ চক্রবর্তী, অর্জুন দাস পর্যন্ত প্রায় সকল কবির কবিতাতেই খুঁজলে পাওয়া যাবে। তবে সে প্রভাব শুধু ভাষায়---শরীরের আবরণ ভেদ করে অন্তর ছোঁয়নি সেভাবে। স্থানীয় শব্দের ব্যবহার অনেক সময় আরোপিতই মনে হয়েছে আমার। তবে তরুণ প্রজন্মের অর্জুন দাসের কবিতায় কখনো কখনো একটা অসমিয়া পরিমণ্ডল লক্ষ করি। হয়তো কবি অসমিয়া মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন বলেই। তবে সাধারণভাবে অন্যান্যদের অবচেতনেও কিছু প্রভাব কি পড়েনি!! পূর্বের ছিন্নমূল মানসিকতা বর্তমান প্রজন্মে আর তেমন নেই। সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস প্রলম্বিত হলেও সহাবস্থানও চলছে। সামাজিক আদান-প্রদান, বৈবাহিক সম্পর্ক আদিও নিকটে আনছে দুই জনগোষ্ঠীকে। ফলে বাঙালির শেকর এই মাটির অভ্যন্তর স্পর্শ করতে শুরু করেছে। হয়তো ধীরে ধীরে নীলমণি ফুকন থেকে নীলিম কুমার, জীবন নরহ, অনুভব তুলসী, সমীর তাঁতী, সনন্ত তাঁতীর মতো কবির কবিতা আমাদের কারো কারো রক্তেও কিছু পরিমানে সঞ্চরণশীল হবে। অসমের বাঙালি কবিদের মধ্যে অমলেন্দু গুহ, রবীন্দ্র সরকার, ও তরুণ প্রজন্মের অর্জুন দাস অসমিয়া ও বাংলা দুটো ভাষাতেই লিখেছেন ও লিখছেন। তবে সাধারণভাবে দেখলে অসমিয়া কবিতার লিরিকধর্মীতা, গ্রাম্য সরলতা, বিস্ময় ও জীবনবোধ এখানকার বাংলা কবিতাকে পরোক্ষভাবে হলেও কিছুটা প্রভাবিত করএইও হয়তো। তবে তা ঢেউয়ের মতো ভেঙে পড়েনি এখানকার মন ও মননে। একই কথা গল্প-উপন্যাসের ক্ষেত্রেও খাটে। লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়া, ভবেন শইকীয়া...অপূর্ব শর্মা, মৌসুমী সহরীয়া ছোটগল্পের ক্ষেত্রে অনেককেই নাড়া দিয়েছেন হয়তো। কিন্তু এখানকার বাংলা গল্প-উপন্যাসও কবিতার মতই স্বতন্ত্র ধারার। ভিন্নসুরীও। দেবীপ্রসাদ সিনহা, কান্তারভূষণ নন্দী, সমর দেব আদি গল্পকার- ঔপন্যাসিকদের লেখা গল্প-উপন্যাস পড়লে সহজেই বোঝা যায় এগুলো অসমে বাস না করলে লেখা যেত না। বিশেষ করে একটি ছোটগল্পের কথা আমার মনে পড়ছে এই মুহুর্তে। কান্তারভূষণ নন্দীর 'গরর'। গল্পটি মূলত নবপ্রজন্মের অসমবাসী বাঙালির আহত মননের গল্প! মাটি আঁকড়ে ধরে ভয়কে জয় করার গল্প। কণ্ঠ ভেদ করে বেরিয়া আসা স্পর্ধা ও প্রতিরোধের গল্প! উল্টো দিক দিয়ে অসমিয়া সাহিত্যের ওপর সেই বঙ্কিমচন্দ্রের আমল থেকেই বাংলা সাহিত্যের গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে। প্রথম যুগের কবিতায় রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ ও নজরুল, উপন্যাসে শরৎচন্দ্র, তারাশংকর ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপক প্রভাবের কথা সর্বজনবিদিত। এ প্রভাব গল্প-নাটক-সিনেমা ও গানেও পড়েছে অবশ্যম্ভাবীরূপে। সাহিত্যের অঙ্গনে বাঙালিরা তো এগিয়ে ছিলেনই চিরকাল; আজো আছেন। কমবেশি সব আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের ওপরেই বাংলার প্রবল প্রভাব বিদ্যমান। অসমিয়াও এ ক্ষেত্রে একদমই ব্যতিক্রম নয়।

বরাক ভাষা আন্দোলন এর প্রত্যক্ষ প্রভাব কি পড়েছে উত্তর পূর্বের সাহিত্য চর্চায় ?






অসমের বরাক উপত্যকায় মাতৃভাষার অধিকারের দাবিতে যে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল, যার ফলস্বরূপেই আমাদের রক্ত-ঝরা, আত্মবলিদানের 'উনিশে মে', তার প্রভাব এতটাই ব্যাপক ছিল যে আজো হয়তো এতদঞ্চলের, বিশেষ করে, অসমের বরাক উপত্যকার বাঙালি সে প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তবে সে প্রভাব অসমিয়া-প্রধান ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় শুধুমাত্র শিক্ষিত বাঙালিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ছিন্নমূল সাধারণ বাঙালিদের মধ্যে এর তেমন প্রভাব কোনোদিনই পড়েনি। উগ্রজাতীয়তাবাদের দাপটে এতদঞ্চলের সাধারণ ছিন্নমূল বাঙালি বরাবরি কোণঠাসা। শরৎ সিংহ মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বেশির ভাগ বাংলা স্কুলই অসমিয়া মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়ে যায়। ফলে বাঙালি ছেলেমেয়েরা মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে শিক্ষিত শ্রেণীর বাঙালিরা সে রক্তাক্ত ইতিহাস ভোলেনি। আমাদের সাহিত্যে তার প্রভাব তো আছেই। দুটো জিনিষ লক্ষনীয়--(এক) হারানো দেশের বাড়ির জন্য হাহাকার (দুই) বারেবারে পুড়ে যাওয়া এ পারের নতুন বসত, প্রিয়জনহানি, সাথে ঘৃণা ও বিদ্বেষ। বারংবার বাস্তুহারা এই মানুষগুলির চাপাকান্না, রুদ্ধস্বর, অবরুদ্ধ, অবদমিত সংলাপ থেকে শুরু করে নয়া প্রজন্মের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ ও মিলনাকাঙ্ক্ষা--এই সবই আমাদের গল্প-কবিতা-উপন্যাসে নিঃশ্বাসের মতো মিশে রয়েছে।

আপনার কাব্যচর্চার বয়স অনেক হলেও কাব্যগ্রন্থদুটি প্রায় নাবালক । গতবছর পরপর প্রকাশিত হয়েছে গৌহাটি এবং ত্রিপুরা থেকে । কেন ?





1997-99 এই সময়কালে লেখা কবিতাগুলি নিয়ে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'পার্থিব করাত' প্রথম প্রকাশিত হয় 2010 সালে। গৌহাটির 'ফিনিক্স' পত্রিকাগোষ্ঠীর চেষ্টায় ও অর্থানুকুল্যে সেটা আলোর মুখ দেখে। সেই বইটিরই দ্বিতীয় সংস্করণ এবছর আবার বের হয়েছে 'যাপনকথা' থেকে। এটাকে যাপনকথা সংস্করণ বলাই ভাল হবে। আমার পুরনো কবিতা নিয়ে দ্বিতীয় বইটি সম্প্রতি বের হয়েছে ত্রিপুরার স্রোত পাব্লিকেশন থেকে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত আমাদের নিজস্ব কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ছিল না। এখন আস্তে আস্তে কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে('ভিকি পাবলিশার্স)। বই করার কথা আমরা কেউ তাই সেভাবে কোনোদিন ভাবিইনি। সুদূর কলকাতায় ছুটে গিয়ে বই করার অনেক হ্যাপা। তায় গাঁটের কড়ি খরচ করে বই করা তো মুখের কথা নয়! গৌহাটিই আমাদের কেন্দ্র এখন। ত্রিপুরা অনেক দূর হলেও কাছের। বহির্বঙ্গের কেন্দ্রচ্যুত মানুষ আমরা। আমাদের সেই বিশেষ আত্মীয়তা তো আছেই! তবে কলকাতার প্রতি অভিমান আছে হয়তো অনেকের। আমার সে সব ছিল না কোনোদিন। আজো নেই। এই সবই কারণ হিসেবে বলতে পারি। আমার ব্লগ করাও এই একই কারণে। আর একটা কথা। আমার এখনকার সব কবিতা, অণুগল্প ও অন্যান্য লেখাই রয়েছে আমার নিজস্ব ব্লগে('ডুবসাঁতার'/ 'বকুলবাগানে,একা)। ব্লগ থেকে তুলে এনে বইও করব অদূর ভবিষ্যতে।

বাংলা আর বাংলাদেশের বাইরে অসম এবং ত্রিপুরা ধরে রেখেছে বাংলা সাহিত্য চর্চার মূল ধারাটিকে । এদের পরস্পরের কি আরো দৃঢ় সংযোগ স্থাপন করা দরকার নয় ?





অবশ্যই আরো দৃঢ় সংযোগ দরকার। তবে ত্রিপুরার সাথে আমাদের একরকম ভাবগত নৈকট্য কিন্তু বরাবরই আছে! ভৌগলিক ভাবেও আমরা উত্তর-পূর্ববাসী। বরাকের লেখক-কবিদের কথা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয়। অসমের বরাক উপত্যকা ভৌগলিকভাবেও ত্রিপুরার সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চল। তবে বরাক বাদ দিলেও, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কবি-লেখকদের সাথেও ত্রিপুরার কবি লেখকদের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। আর এটা দরকারও। বাংলা সাহিত্যের তৃতীয় ভুবনের ধারণাটাও এর সাথে সম্পৃক্ত।


আপনি তো ব্লগার । ছাপাখানার ভবিষ্যৎ কি বুঝছেন ? ব্লগারদের হাতেই কি নিয়ন্ত্রিত হবে এরপর সাহিত্য ?






ব্লগার হিসেবেই বলি কাগজ-কলম-বই-ছাপাখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন ইতোমধ্যেই উঠতে শুরু করে দিয়েছে। আমি নিজেই লেখার সময় কাগজ-কলম আর ব্যবহার করি না। বই প্রকাশের জন্য ছাপাখানার দ্বারস্থ হবার তাগিদটা হয়তো এখনো আছে! কিন্তু যেভাবে দ্রুত দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে সে পরিপ্রেক্ষিতে কতদিন ছাপাখানানির্ভরতা টিকে থাকে সেটাই আপাতত ভাবাচ্ছে। ব্লগজিন, ওয়েবজিন, অনলাইন জার্নালের যুগ এখন। আন্তৰ্জালে ই-বইয়ের ছড়াছড়ি। ই-লাইব্রেরি গড়ে উঠছে দেশে দেশে। নগদবিহীন লেনদেনের মতো কাগজবিহীন শিক্ষাব্যবস্থাও চালু হয়েছে কোনো কোনো দেশে। ফলে, এটা বলার অপেক্ষাই রাখে না যে ছাপাখানার পরিসর ক্রমে সংকুচিত হবে।

ফেসবুক লেখকদের আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন ? এখানে কি সাহিত্য বিকশিত হবার সুযোগ পাচ্ছে নাকি অবমূল্যায়ন ঘটছে এর ?





দেখুন ফেসবুকের ভাল-মন্দ দুটো দিকই আছে। ফেসবুকে এমন অনেক কবিতা, অণুগল্প, ছোটগল্প পড়ছি, গম্ভীর আলোচনা পড়ছি যা চমকে দিচ্ছে। পাশাপাশি একটা বটতলাও আছে। জোলো লেখা সব। হয়তো সেটারই পাল্লা এ মুহুর্তে বেশি ভারি। হোক না! নতুন অনেকেই লিখছেন, অন্তত চেষ্টা করছেন। আমি তো একে সাধুবাদই দিই। অনেক ভাল কবি, গল্পলেখকরা, যাঁরা পাঠকের দরবারে আসার সুযোগই পেতেন না, তাঁদের সে সুযোগ করে দিয়েছে ফেসবুক। এখন আর কোনো পত্রিকা অফিসে লেখা পাঠিয়ে বসে থাকতে হবে না। অমুকদা তমুকদাকে ধরারও আর প্রয়োজন নেই। অবশ্যই ফেসবুকের মাধ্যমে সাহিত্য বিকশিতই হচ্ছে। জোলো, বটতলামার্কা লেখাগুলো বুদবুদের মতো ভেসে উঠে পরমুহুর্তেই মরে যাবে। উৎকৃষ্ট লেখা ও তাঁর লেখকদের যে আমরা আবিস্কার করতে পারছি, এটা মোটেও কম বড় কথা নয়!

আপনি পেশায় ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক । আপনার ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে কি চেষ্টা করেন সাহিত্য সৃষ্টির আগ্রহ তৈরির ?





হ্যাঁ, সেটা প্রতিনিয়তই করি। কলেজে প্রায়ই ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে স্বরচিত কবিতাপাঠের অনুষ্ঠান করি আমরা। সে সব অনুষ্ঠানে পঠিত স্বরচিত কবিতাগুলোর মধ্যে কিছু ভাল কবিতারও সন্ধান পাই। ভাল কবিরও। কলেজ ম্যাগাজিনের জন্য কবিতা আহ্বান করেও অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সুফল লাভ করেছি। তবে যেখানে আমার কলেজ সেখানে বাঙালি প্রচুর কিন্তু একটিও বাংলা মাধ্যম স্কুল নেই। ফলে বাঙালি ছাত্র-ছাত্রীরাও পড়াশোনা করতে বাধ্য হয় অসমিয়া মাধ্যম স্কুলে। আজকাল আবার গ্রাম-মফস্বলেও ব্যাঙের ছাতার মতন গজিয়ে উঠছে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল। অনেকেই ছেলেমেয়েকে ইংরেজি মাধ্যমে পাঠাচ্ছে। এইসব স্কুলে অসমিয়া বিষয় থাকলেও বাংলা নেই। তাই অবাক হই না যখন দেখি বাঙালি ছাত্র-ছাত্রীরাও শুধু অসমিয়াতেই সাহিত্য চর্চা করছে।

আপনার গল্পগ্রন্থ কবে প্রথম প্রকাশিত হয় ? গল্প আর কবিতার মধ্যে একটাকে বাছতে হলে কাকে বেশি চাইবেন ?






এখন পর্যন্ত আমার একক কোনো গল্পগ্রন্থ নেই। তবে 'আণবিক' নামে একটি অণুগল্প সংকলনে আমার অণুগল্প স্থান পেয়েছে। 'যাপনকথা' ও অন্য একটি পত্রিকাতেও বেরিয়েছে। 'যাপনকথা' ব্লগে আমার অণুগল্পগুলি তোলা আছে। আমার নিজের ব্লগেও আছে। ছোটগল্পও যা লিখেছি তার অধিকাংশই এখন অব্দি অপ্রকাশিত আছে। কবিতাই আমার প্রথম প্রেম! তাই গল্প আর কবিতার মধ্যে যদি একটিকে বেছে নিতে বলা হয় তাহলে আমি কবিতাই বেছে নেব। যদিও গল্পের জন্যও হয়তো আমার মন কেমন করবে!


কখনও মনে হয় নি সাহিত্যের কারণে বাংলায় আসার কথা ? বিশেষত কোলকাতার কথা ? নাকি মনে করেন সাহিত্য নিজগুণে বিকশিত হয় স্থান ব্যতিরেকে ?





সাহিত্যের কারণে বাংলায় চলে যাওয়ার কথা কখনো মনে হয়নি এ কথা যদি বলি তো মিথ্যে বলা হবে। অনেকবার এমন ইচ্ছে হয়েছে। মনে হয়েছে চলে যাই। কারণ এখানে লেখালিখি শুরু করে সেটা ধরে রাখা কঠিন। স্থানীয় পর্যায়ে পাঠকের সংখ্যা অত্যন্ত কম এখানে। যে ক'জন আছেন তাঁদের কাছে এতোদিন লেখা পৌঁছে দেয়া ছিল এক অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ! তার ওপর প্রধানত যা লিখেছি বা লিখি এখনো , তা কবিতা। এ ছাড়া অন্য কিছু বাধাও আসে। লেখা প্রকাশের জায়গাটাও আবার নিজেদেরকেই করে নিতে হয়! সেটা করতে গেলেও তো একার চেষ্টায় হবে না। যা করার পাঁচজনে মিলে সাংগঠনিক ভাবেই করতে হবে! আবার সাহিত্য-সংস্কৃতিমূলক সংস্থা করতে গেলেও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়! রাজনৈতিক কিছু করছি কি না বা সংখ্যালঘু(ভাষিক) হিসেবে সংগঠিত হচ্ছি কি না এমন সন্দেহের শিকার হতে হয়! দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে একাধিক বার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে এ জীবনে। যদিও আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে তখনো জড়িত ছিলাম না। এখনো নই। এরকম বাধা ছিল। তবে সবদিক দিয়েই পরিস্থিতি তো এখন দিনকে দিন বদলেই যাচ্ছে! যেমন ধরুন, পত্রিকা বা প্রকাশনার অভাব ফেসবুক, ব্লগ পুষিয়ে দিচ্ছে অনেকটাই। আর একটা কথা, ফেসবুক আমাদের অর্থাৎ বহির্বঙ্গের বাঙালি কবি-সাহিত্যিকদের কী দিয়েছে, সে শুধু আমরাই জানি!



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.