x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

কোয়েলী ঘোষ

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৭ |
কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি --
অনুপমাদেবী তরকারি কুটতে কুটতে বললেন --তাড়াতাড়ি রান্না সেরে নাও বৌমা । সৌম্যর জন্য মেয়ে দেখতে যাব । সুজাতা মনে মনে বিরক্ত হল ।দুদিন অন্তর শাশুড়ির পাত্রী দেখতে যাওয়া , তারপর ফিরে এসে সেই অপছন্দ । এই মেয়ে কালো তো ওই মেয়ে বেঁটে । আর সৌম্য হয়েছে তেমনি । নিজে পছন্দ করে আনতে পারে তা না ! তবুও মনে মনে এই দেওরটিকে সে পছন্দ করে । দেওর না বলে ভাই বলাই ভাল । প্রায় একই বয়সী সৌম্যর যত আবদার সব বৌদির কাছে। কিছুক্ষণ পর পরই --বৌদি এক কাপ চা হবে ? 

সুজাতা পাশ কাটাতে চাইল --আমি না গেলে হয় না মা ? 
শাশুড়ি বললেন --কেন কাছেই তো , দুপুরে তোমারই বা কি কাজ ?

ছোট বাড়ি । সামনের গেট পেরিয়ে ঢুকতেই মেয়ের বাবা আসুন- আসুন বলে এগিয়ে এলেন । খুব নিরীহ মা হাতজোড় করে নমস্কার করে দাঁড়ালেন ।তারপর চা বিস্কুট মিষ্টি জল এল বোনের হাতে । অবশেষে মেয়ে এল । গায়ের রঙ কালোই বলা যায় কিন্তু খুব স্নিগ্ধ মুখ ।নজরে পড়ল কালো দুটো গভীর চোখ ।শান্ত মেয়েটি এসে প্রনাম করে সামনে বসল । শাশুড়িমার দিকে তাকাল । এই কালো মেয়ে মায়ের পছন্দ হবে না তা সে ভাল করেই জানে । তবুও তার পড়া ,রান্না জানে কি না --ইত্যাদি প্রশ্ন চলল । সুজাতা কি এই কারনেই আসতে চায় না । মেয়ের মা মেয়ের হাতের কাজ ভেতর থেকে নিয়ে এল। কি সুন্দর ক্রুশের কাজ ,টেবিল ক্লথ ।মেয়েরা আর কতদিন এইভাবে পরীক্ষা দেবে ? পাত্রী দেখা শেষ । এবার উঠি তবে --ফিরে গিয়ে জানাব । হাতজোড় করে মেয়ের বাবা সামনে দাঁড়িয়ে । শাশুড়ি মা এগিয়ে গেছেন ।সুজাতা প্রনাম করে বলল --আসি । মেয়ের বাবা বললেন -দেখো মা তুমি --

কেউ কি শুনবে তার কথা ? এ বাড়িতে তার মতের কি কোন মুল্য আছে ? বাড়ি ফেরার পথেই শাশুড়ি মা বললেন --মেয়েটা খারাপ ছিল না তবে অই যে গায়ের রঙ --এ তো জানাই ছিল, তবে কেন বার বার অমন সুন্দর কালো গভীর চোখ দুটোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে । একরাশ মন খারাপ নিয়ে ঘরে এসে সুজাতা ঘরে এসে সিডি চালিয়ে দিল । যখনই মন খারাপ করে সে গান শোনে । গমগম করে বেজে উঠল সুচিত্রাদির গলায় --কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক .....কালো ? তা সে যতই কালো হোক দেখেছি তার কালো হরিন-চোখ । মন হারিয়ে গেছে কখন --আকাশে কালো কাজল মেঘ --উড়ছে সে মেয়ের খোলা কালো চুল --ময়না পাড়ার মাঠ --

সম্বিৎ ফিরল সৌম্যর ডাকে । বৌদি চা দাও --সুজাতা উঠল সবার জন্য চা তৈরি করে ঘরে ঘরে দিয়ে এল । তারপর আস্তে আস্তে সৌম্যর ঘরে ঢুকে চা রেখে বেরিয়ে আসছিল । কি হল গো বউদি ? এমন আষাঢ় ঘন মুখ ! আন্যদিন তো বকবক করে মাথা খেয়ে ফেল । আচ্ছা --আজ তো তোমরা মেয়ে দেখতে বেড়িয়েছিল ! তা কি হল সেই না --বলে হাহা করে হেসে উঠল ।

না --পছন্দ আমার হয়েছে । আচ্ছা সৌম্য সৌন্দর্য কি শুধু রঙে ? অন্তরের রূপ কি রূপ নয় ? একই রক্ত কি বইছে না ? সাদায় কালোয় ? অনেক সুন্দরীর সাথে তো কথাই বলা যায় না --এত অহঙ্কার !

সকালের খবরের কাগজ মুখে --ওদিক থেকে মুখ দেখা গেল না ।উত্তর ও এল না ।

রাতে টেবিলে খাওয়া চলছিল । সুজাতা রুটি তরকারী বেড়ে দিচ্ছিল । সৌম্য খেতে খেতে মুখ তুলে বলল --শোন মা --আজ যে মেয়েকে তোমরা দেখে এসেছ সেই মেয়েকেই বিয়ে করব । অনুপমা বিশ্বাস করতে পারছিল না --সে মেয়ের রঙ কালো --তাছাড়া তুই তো তাকে দেখিস নি ! এবার সৌম্য যা বলল তাতে সুজাতা চমকে গেল --হুবহু সুজাতার কথাগুলো গড়গড় করে বলে গেল ।

একপশলা বৃষ্টির পর ধুয়ে গেছে সব ক্লেদ ,মাটিতে সোঁদা গন্ধ । কামিনী ফুলের গাছটায় একরাশ ফুল সুবাস ছড়িয়েছে । বুকভরে নিঃশ্বাস নিল সুজাতা । মনের কোনে বেজে উঠল --''কালো ? তা সে যতই কালো হোক --------


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.