x

প্রকাশিত | ৯২ তম মিছিল

মূল্যায়ন অর্থাৎ ইংরেজিতে গালভরে আমরা যাকে বলি ইভ্যালুয়েশন।

মানব জীবনের প্রতিটি স্তরেই এই শব্দটি অবিচ্ছেদ্য এবং তার চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জানি পাঠক্রম বা সমাজ প্রবাহিত শিক্ষা দীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রতিটি মানুষের মধ্যেই গঠিত হতে থাকে বহুবিদ গুন, মেধা, বোধ বুদ্ধি, ব্যবহার, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি। এর সামগ্রিক বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা থেকেই এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি যে সিদ্ধান্তে বা বিশ্বাসে উপনীত হয়, তাই মূল্যায়ন।

স্বাভাবিক ভাবে, মানব জীবনে মূল্যায়নের এর প্রভাব অনস্বীকার্য। একে উপহাস, অবহেলা, বিদ্রুপ করা অর্থই - বিপরীত মানুষের ন্যায় নীতি কর্তব্য - কর্ম কে উপেক্ষা করা বা অবমূল্যায়ন করা। যা ভয়ঙ্কর। এবং এটাই ঘটেই চলেছে -

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, মে ০৯, ২০১৭

জিনাত রেহেনা ইসলাম

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৭ | | | মিছিলে স্বাগত
আন্সারস্ক্রিপ্ট- ফোবিয়া
নামটা অচেনা। সিমটম চেনা শুধু অসুখটার নাম অনির্ধারিত ।  প্রতি বছর নিয়মকরে এইঅসুখের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় প্রায় মাসখানেক ধরে কিছু নিরুপায় মানুষদের, যারা একসময় ছাত্রজীবনের নিয়ম,শৃঙ্খলা, অধ্যাবসায় কে মাথায় নিয়ে চিরাচরিত পথধরে সামনে এগিয়ে ছিলেন। কর্তব্যপালনে্র দায়ভারে মরিয়া তারা বলে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। কিন্তু নিয়মের ফাঁদ বড় নির্মম। শব্দ সেখানে আইন। লঙ্ঘন সেখানে আদালতের বিচার্য। রোগভোগকারীরা হলেন বোর্ড নির্বাচিত পরীক্ষক। ছাত্রদের প্রথম বড় পরীক্ষার মূল্যায়নকারী বিদ্যালয় শিক্ষক। একবার নির্বাচিত হলে লাইফটাইম পদ। নানা যৌক্তিক ও অযৈক্তিক নির্দেশিকার বাহন। ছাত্রদের জন্য প্রশ্নপত্রে নির্দেশিকা, বানান ভুলে নম্বর কাটা যাবে,অন্যদিকে উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের নির্দেশিকা, বানান ভুলে নম্বর কাটা যাবে না। জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ।এমন সেলফ কণ্ট্রাডিকটারি নির্দেশিকা বিগত দিন থেকে চলেই আসছে।

প্রতিবছর বোর্ড পরীক্ষার মরসুম নিয়ে নানান নির্দেশিকা,আদেশ,উপদেশ নিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হয় কাগজ,দেওয়াল,বোর্ড । খুব স্বাভাবিক সেটা।একটা টেনসন কাজ করে পরিবার,পরীক্ষার্থী ও আশপাশের সকলের মধ্যে। প্রশ্ন হল টানা ১০বছর শিক্ষাঙ্গনে একাধিক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে যাওয়ার পরেও কেন ছাত্র তথা পরিক্ষার্থীদের শেখার মাত্রা এক বিরাট প্রশ্ন চিহ্নের মুখে।আর সেই এক ধারাবাহিক ভুল জিনিষের প্রতিফলন পরীক্ষকের সামনে বারবার খুব অসহায়ভাবে ফুটে উঠছে। মুল্যায়ন পদ্ধতির সরলতায় পাশের হারে তেমনকরে প্রকাশ পাচ্ছে এইঅজ্ঞতাবা অকৃতকার্যতা কিন্তু শিক্ষা ও অজ্ঞতার বিভেদরেখাটা অস্পষ্ট হয়ে আসছে। যেমন ইতিহাস খাতায় ছাত্র লিখছে বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠাতা বিবেকানন্দ/ বানান ভুল সহ বিদ্যাসাগর পঞ্চম শ্রেনী বা তার আগে থেকেই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর তাদের জানার কথা। আবার নারী ইতিহাস নিয়ে লিখছে নারীদের উল্লেখযোগ্য ইতিহাস নেই। শেষ করছে এই বাক্য দিয়ে-আজকাল নারীরা বিচিত্র পোশাক পরে যেমন শাড়ী ও মাথায় টুপি। সর্বশিক্ষার চাইল্ড ট্রেকিং ও মিড ডে মিলের দৌলতে ছাত্রদের স্কুলে আসার দিনসংখ্যা কিছুটা বাড়ানো গেছে সুতরাং তাদের বেসিক কিছু প্রশ্নের উত্তর শ্রেনীকক্ষেই পেয়ে যাওয়ার কথা। দেশের ইতিহাস সে জানছে না । তার কাছে সিপাহি বিদ্রোহ,নীলও সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতাদের নাম গুলিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ংকর দেশের ম্যাপ টা ও তাদের কাছে একটি কাগজমাত্র।গুজরাট গিয়ে মায়ানমারে আর হায়দ্রবাদ গিয়ে শ্রীলঙ্কায় চিহ্নিত হচ্ছে। । এই অভ্যাস সে বা তারা রপ্ত করেছে দিনে দিনে। না পড়াশুনা করে ও লেখাপড়া ব্যাপারটায় টিঁকে থাকা যায়। এইদম তারা অর্জন করেছে বিদ্যালয়চত্বর থেকেই। এই নিরেট ভুল চর্চা কিছু সংখ্যক ছাত্রদের খাতায় তা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। এদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রথম পাতার আরেকদিক ছেড়ে লেখার নির্দেশিকা ও পালন করে নি তারা যথার্থ ভাবে।

ছাত্রদের নম্বর পাওয়া একটি জরুরী কথা কিন্তু তা তো প্রাপ্য শিক্ষার গুনাগুন নির্ধারক। সেটিই চুড়ান্ত সত্য । সেখানে তারতম্য থাকবে কিন্তু নিরেট মুর্খের চেয়ে ১০বছরের জানার দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়াটি এগিয়ে বেশী থাকবে এইটি কাঙ্খিত। শিক্ষণ শিখন প্রক্রিয়ার এক মৌলিক দুর্বলতা পরীক্ষকদের সামনে উঠে আসছে তাতে তারা রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে উঠছেন। অঙ্ক ও ইংরাজী তে ছাত্রদের অজানা ও শিখে না উঠতে পারার মাত্রা কে সামনে রেখেই নির্মিত হয় পরীক্ষকদের নির্দেশিকা তাতে নমনীয়তার আলাদা আবেদনও রেখে থাকেন প্রধান পরীক্ষক তাদের প্রাপ্ত নির্দেশানুসারে।

প্রশ্নপত্রে নিজের ভাষায় লেখা মানে যা খুশি লিখে পাতা ভরানো এমন শিক্ষা ছাত্রদের কেউ দেয় না বলেই ধরে নেওয়া যেতে পারে। যদি কেউ তা দিয়ে তাকে যার জন্যই ছাত্র যা খুশি লিখে দিচ্ছে এবং বিগত দিনের বিদ্যালয় পাশের অভিজ্ঞতা থেকে মনে মনে ভাবছে একটা নম্বর সে পাবেই কেননা সে খালি খাতা জমা দিয়ে আসেনি তবে পরীক্ষা পদ্ধতিই প্রশ্নচিহ্নের মুখে। এই ভিত্তিহীন দলিল ও মনগড়া গল্প দেখে পরীক্ষক তাদের ধৈর্য হারাচ্ছেন নিয়ত ও পরবর্তীতে অনিচ্ছুক হয়ে উঠছেন। খাতা দেখা তার কাছে একরকম ফোবিয়া বা আতঙ্কের মত হয়ে উঠছে তখন তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। মুল্যায়ন যখন হিজিবিজি কাগজ কে শুধু লাল লাল দাগ দিয়ে ভরিয়ে শুন্যের কেজিং তখন ছাত্র-শিক্ষক সব একসাথে কাঠগড়ায়। চাপ শুধু পরীক্ষকের। এক বিরাট সংখ্যক ছাত্র এমন অধরা,ভুল ধারনা নিয়ে উত্তীর্ন হচ্ছে শ্রেনীর পর শ্রেনী এবং বোর্ড যার ক্ষতিয়ান বাঁধা থাকছে পরীক্ষকদের কাছে। ছাত্র রা নিজের দেশের রাজ্য কে সীমানা পার করে ফেলে আসছে অন্য ভুখন্ডে, নিজের দেশের ইতিহাসে-ভুগোলের বেসিক ধারনাটুকু তার তৈরী হচ্ছে না কিন্তু পরীক্ষকদের জাগতে রহো এমন অতন্দ্র প্রহরীর মত শব্দের পাহাড় অতিক্রম করে খুঁজে খুঁজে বের করতে হচ্ছে ছাত্রদের টুকরো টুকরো জানা। অন্যদিকে এক বিকৃত মনগড়া ভাবনা ও চিন্তার দুর্বলতা থেকে মুক্তি মিলছে না ছাত্রদের'। স্কিলবা পারফরম্যান্স বাদ দিয়ে ও নিজের দেশের মাটি,ইতিহাস, সংগ্রাম জলহাওয়া তার কাছে বিশেষ হয়ে উঠতে পারছে না যা একজন সুনাগরিক হয়ে ওঠার প্রাথমিক শর্ত।

যুক্তির শিক্ষার প্রয়োজনে অজানা প্রশ্নের উত্তরপরিবেশন থেকে ছাত্রদের রেহাই দেবার নির্দেশিকা খুব জরুরী। নইলে শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন কিছু পরিক্ষার্থীর কাছে ছেলে খেলার সমতুল। ছাত্রদের আজ বোঝানো খুব জরুরী শিক্ষা জীবনের জন্য,পরীক্ষককে ফাঁকি দেওয়ার জন্য নয়।শিক্ষক জাতির মেরুদন্ডের ভুমিকায় আজ কতখানি তা নিয়ে বিতর্ক উঠলেও দেশের ভবিষ্যত ছাত্রসমাজ এ নিয়ে কোনো দ্বিধার স্থান নেই।তাই ছাত্রদের রাইট ভিউজ তৈরী খুব জরুরী। কেননা তারাই পুনর্নির্মান করবে দেশের ভবিষ্যত। সেটা এমন দগ্ধ আর অর্ধসত্য বা নিখাদ ভুল হলে সেটি বর্তমান মেধাভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজিক বিন্যাসের পক্ষে একটি অশনি সংকেত।




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

�� পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ শব্দের মিছিলের সর্বশেষ আপডেট পেতে, ফেসবুক পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.