x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, মে ০৯, ২০১৭

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
ঠুলি খুলে দেখ
 মানুষের চোখের সামনে মানুষ এসে দাঁড়াক 

ত মার্চের শেষে (২৭ মার্চ ) দিল্লি গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বৃন্দাবন হয়ে মথুরা। ১ মার্চ সকালে মথুরা থেকে বাসে আগ্রা আসছি। পথে কংসের কারাগার দেখানোর জন্য বাস থামলো। আর সকলের মতো আমিও নামলাম। বাঁদরের নজর এড়িয়ে জুতো জমা দিয়ে গলদঘর্ম হয়ে কংসের কারাগার চত্বরে পা রাখলাম। বৃন্দাবনের পরিবেশের উপযোগী মানুষ আমি একেবারেই নই। আমার পৃথিবীর রঙ আলাদা ------- সেখানে শুরু হয় মানুষ দিয়ে আর শেষও হয় মানুষকে সামনে রেখে। 

তাই টানা তিনদিন বৃন্দাবন যাপন যখন একেবারে চরম বিরক্তির জায়গায় চলে গেছে তখন কংসের কারাগার আমার কাছে যে নতুন কিছু বয়ে আনবে না তা বলাই বাহুল্য। তাই ওই চত্বরে পা রেখে একটা ব্যাপার দেখে আমি রীতিমত বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম। যত না মানুষ তার থেকে বেশি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে পুলিশের দল। কী এমন মহার্ঘ্য বস্তু এখানে আছে যে এত প্রহরা! 

অনেককেই জিজ্ঞাসা করলাম কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারল না। শেষকালে থাকতে না পেরে আমি এক পুলিশকে জিজ্ঞাসা করে ফেললাম। তিনি কথা না বলে একহাত দিয়ে তার অস্ত্রটি সামলে অন্য হাতটি তুলে যেদিকে দেখালেন তা দেখে সবকিছু আমার চোখের সামনে জলের মতো স্পষ্ট হয়ে গেল। দেখলাম একটা মসজিদ ( নামটা বলেছিল কিন্তু মনে রাখতে পারি নি )। আর কি চাই! মন্দির মসজিদের মর্যাদা রক্ষায় এটুকু তো আমাদের করতেই হবে। হাজার হোক আমরা ধর্মনিরপেক্ষ দেশের বাসিন্দা না! 

মনে পড়ে যায় সেই দিনটার কথা। রাম জন্মভূমি বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমস্ত সরকারি অফিসে হাফ ছুটি ঘোষণা করে দিলেন। আর সারাদিন সমস্ত টিভি চ্যানেলগুলো দেখিয়ে গেল --------- " সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই ", " জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর "। মানুষ হিসেবে সেদিন মাথা নিচু হয়ে গিয়েছিল। এই তাহলে আমাদের ধর্মের বাতাবরণ! কবি শিল্পী, বিভিন্ন সমাজসংস্কারকের এগিয়ে আসা সত্ত্বেও আমরা আমাদের অবস্থান থেকে একবিন্দুও সরি নি। 

বিজ্ঞানের নাকি বিরাট উন্নতি হচ্ছে, আমরাও নাকি অনেক এগিয়ে যাচ্ছি -------- এই তার নমুনা! মন তো পড়ে আছে সেই মধ্যযুগে। নিজে মানুষ ( দৈহিকভাবে ) হয়েও আর একটা মানুষকে এতদিনেও চোখের সামনে এনে দাঁড় করাতে পারলাম না! এর পরেও আমাদের দাবি, আমরা নাকি শিক্ষিত! এমন শিক্ষা আগুনে পোড়ে না কেন!জলেও তো ডুবতে পারে!





Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.