x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, মে ০৯, ২০১৭

দেবজিৎ

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
চিহ্ন দাগের
পুরোহিতের বাড়িতে কাজ থাকলে ঠাকুর খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। সে ঘুম থকে উঠে আসে, পুরোহিতের কাজের সময় অনুসারে। তবে পুরোহিত কি ঠাকুরের ঘুম নির্ধারন করে? না ঘুমের প্রয়োজন অনুসারে পুরোহিতের গতিবিধি নিয়ন্ত্রন করে? প্রসঙ্গটা ঠিক যে এটাই তা ঠিক বলে উঠতে পারছি না। তবে আবেগের সুত্র ধরে যদি চলি তবে ঠাকুরই পুরোহিতের গতিবিধি নিয়ন্ত্রন করে ঘুম পুষিয়ে নেয়, তবে ঠাকুর ঘুমায়, সুত্র ধরে (আবগের) তবে এটাই মুখ্য জবাব হবে বোধ করি।

নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পরে, কে ভজিবে তোরে। সে ট্যাগ যাতে না লাগে তার জন্য। আরাধনা আদতে আকাঙ্ক্ষাদের পুষ্পাঞ্জলি, বলিরেখা-র বলি। “নিতান্তই সহজ সরল, অন্তরে অতৃপ্ত রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে, শেষ হয়েও হইল না শেষ”এটাই হল মোক্ষম জীবনের গতিপথ, ভাষা। এককথায় চাহিদার ছোটগল্প, জীবনেরও। 

একত্রে গর্ব বোধ হয় সময়ের, সময়ের শিরা উপশিরার অবশ স্বভাব হারিয়ে দেয় যত লুকনো চোরা-বালি। যে বালি স্তব্ধ হয়ে যায় কংক্রিটে, মুক্তি চায়, শিহরণ খোঁজে। তারও নিজেস্ব বিনয় আছে, বেদনা আছে, সবশেষে ঠাকুর আছে। কি? ঠাকুর? কার? বালির? পাগল! উপাসনা হয় পলি-বালি-রঙ এর অবয়বের। আদতে সেই তো ঠাকুর। তার আবার ঠাকুর? সে হয়, সেও মুক্তি খোঁজে। 

সরস্বতী চলে এলে, পুজো হয় মাঘে, মাঘ দেরী করেও আসে, আবার পুরোহিতও। পায়ে চাপা পলাশ, খুবলে নেওয়া ধান, সদ্য ভ্রুন হওয়া খাগ না পেলে তাই লাগে, বেলপাতা লাগে। শাড়ি লাগে লাল পাড়, হলুদ লাগে কাঁচা, পাঞ্জাবী লাগে। ডেটিং লাগে। চুরি হতে হয় নারকেল। মিঠাই লাগে। সব লাগে, যাতে পুজো হয়ে ওঠে। রাতে খানাপিনা লাগে। ডি. জে লাগে। পুরোহিত লাগে, আর হ্যাঁ ভুলেই গেছিলাম ঠাকুর লাগে। পুজো করার জন্য। দাম-দর চলে, ঠাকুর বিক্রি হয়। ঠাকুর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, বিক্রি হবার আশায়। ঠাকুর নিজে থেকে আসে না, ঠাকুরের মালিক হয় তাঁরা নিয়ে আসে, নিখুঁত – খুত , দর হাঁকে। শেষে ঠাকুর আসে মণ্ডপে, রাস্তা থেকে। পুজো হয়। আরতি হয়, অঞ্জলি হয়। 

ঠাকুর বাজার থেকে আসে মণ্ডপে, স্বর্গ থেকে নয়। আর যে বাজার-বাজারেই থাকে তাদের বাজারি বলি, বড়দের সাথে গেলে তাদের দিকে আড় চোখে তাকাই, বুক নাভি, যতদূর চোষা যায়। ঠাকুর মণ্ডপে এলে প্রনাম করি, ভক্তি করি। উপোস করি, অঞ্জলি দি, ফের বাজারে যাই, বাজারির কাছে।


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.