x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

রবিবার, মে ১৪, ২০১৭

অমলেন্দু বিশ্বাস

sobdermichil | মে ১৪, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত


 নিষিদ্ধ পল্লি থেকে বলছি 

কবি আমার জন্য একটা কবিতা লেখো তুমি, যার শরীর জুড়ে মাখিয়ে দিও একটা তিক্ত গদ্যের ভাষা।
না। আমার তাতে কষ্ট হবে না!
আমার তাতে দুঃখ হবে না!
সহজ ভাবে তুলে ধরো আমায়, তুলে ধরো ভদ্রতায় চাপা দেওয়া মুখোশ গুলোর সামনে বাস্তবোচিত উপমাহীন রূঢ় সত্যের মত।

কবি আমার জন্য ছাই চাপা আগুনে বসত বাড়ি পোড়ার একটা ইতিহাস লেখো তুমি,
আসক্ত মদিরায় বাইজী নাচের কামাতুর ঘুঙুরের আওয়াজ লেখো তুমি রাত্রির ছন্দে।
একটা নগ্নতার গল্প লেখো, গোলাপের গন্ধে আলো অাঁধারে বিকিয়ে যাওয়ার কিছু পঙক্তিমালা লেখো।
সহজ সরল ভাবে লেখো তুমি, লেখো আমার জন্য।

কবি তোমার মাও সে তুং এর উক্তি টি মনে আছে?
--" শত ফুল বিকশিত হোক"

দৃঢ় সমাজের জন্য কথাটা সত্যি প্রাসঙ্গিক বটে্।
তুমি সেই ঐতিহাসিক সৃষ্টিশীল লাইন টা উচ্চস্বরে আবারও বলো
তার পর আমার নামটা জুড়ে দিয়ে তাদেরকে বলো -
আমি রাতের রজনীগন্ধা, আঁধারে ফুটে থাকা মাধবীলতা, জুই, চাঁপা কিম্বা বর্ষার ভেজা কদম
আমি রাতের অন্ধকারে নীল আলোতে নিষিদ্ধ গোলাপের গন্ধ ছড়াই আর পাপড়ি থেকে ঝরাই শুধু বিষাক্ত ঘাম,
কেননা আমার এ ঘর্মাক্ত শরীর তো প্রেম বোঝে না!
আর মিথ্যে নাটকে তাকে তো আমি হারাতেও চাই নে...
ভয় হয়।
ভয় হয় ভীষণ !

একটু ফেলে আসা দিনগুলোর কথা বলি কবি
নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি ঠিক কবে তা মনে পরে না,
শুধু আবছা মনে পরে -
কবে আমি গেদে, নামখানা, বসিরহাট, শান্তিপুর লোকালে চেপেছিলাম ভাঙাচোরা লাল নীল কিছু স্বপ্ন নিয়ে!
তার পর বাকিটা এই শরীর লিখেছে দেহতটে লাল লিপিস্টিক মাখা ঠোঁটে।
বহুদিন হলো ফেরা হয় নি, চেনা মুখ গুলো দেখা হয়নি!
মাঠের পরে মাঠ পরে আছে,
খোলা আকাশের নিচে মেঠো পথ।
চেনা গলিটাও আমার খোঁজ রাখে নি আর, মোহন বাসিটাও বাজে নি আর ফাল্গুনী জ্যোৎস্নায়।
এ কেমন হল বলতো? আছে অথচ কিছুই নেই, এ একরকম নিস্প্রাণ বেঁচে থাকা বলতে পার!

কবি তুমি তো দুলাইনে বিপ্লব আনো, দু লাইনে পাহাড় থেকে সৃষ্টি কর নদী। নিমেষে শান্ত সমুদ্র কে করে তোলো উত্তাল
তবে আমার জন্য কিছু লেখো
কলমে এই মেকি সভ্যতার চিত্র আঁকো
তীব্র কন্ঠে উত্তর চাও, জানতে চাও তুমি ঠিক আর কতগুলি বসন্ত লাগবে আমার বিকশিত হতে?




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.