x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, মে ০৯, ২০১৭

আব্দুল আজিজ

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৭ | | | মিছিলে স্বাগত
গৌড়ের ছোট সোনামসজিদ : স্থাপত্যে সুলতানি আমলের রত্ন
প্রাচীন বাংলার যে কয়েকটি জনপদের নাম রয়েছে গৌড় জনপদ তাদের মধ্যে অন্যতম। বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের সুত্র ধরে ইসলামি শাষণের প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশে। ধীরে ধীরে বাংলায় পাড়ি জমান বিভিন্ন শাষক দল। ধর্ম প্রচারের জন্য আসতে থাকেন মহামতি পীর আউলিয়া। বাংলায় স্থাপিত হতে থাকে ইসলামি স্থাপত্যের নানা নিদর্শনাদি স্থাপনা। তেমনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত গৌড়ের ছোট  প্রাচীন ঐতিহাসিক সোনামসজিদটি সসম্মানে আজ ও দাড়িয়ে আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পশ্চিম সীমান্তে শিবগঞ্জ উপজেলার ফিরোজপুর গ্রামে এই মসজিদের অবস্থান। এই ছোট সোনামসজিদটি সুলতানি আমলের স্থাপত্যকির্তী গুলোর মধ্যে শিল্প ভাস্কর্যের অন্যতম বিখ্যাত নিদর্শন। এর কারুকার্য শিল্প অসাধারণ এবং অপরুপ। গঠনরূপ বৈচিত্র্যময় এবং এর গম্বুজ গুলোর মধ্যে মধ্যবর্তী  গম্বুজটি  চৌচালা বাড়ির চালের মত পরস্পর ৩টি গম্বুজ সংযোজিত করা হয়েছে এবং দুই সারিতে ৩ টি করে দুই পার্শ্বে আরো ১২টি গোলাকৃতি গম্বুজ মোট ১৫ টি গম্বুজ মসজিদের অপরুপ শোভা ধারন করেছে। গম্বুজ গুলোর তলদেশে বিভিন্ন ফুল ফলের গুচ্ছ লতাপাতার নকশা দিয়ে সাজানো। উত্তর - পশ্চিম কোনে আদিনা মসজিদের ন্যায় মহিলাদের নামাজ পড়ার জন্য ছাদ রয়েছে। কারুকার্য খচিত মসজিদের ভেতর একটি মেহরাব আছে। পর্দানশীন মহিলাদের গমনাগমের জন্য উত্তর দেয়ালে ছাদ বরাবর একটি সুপ্রশস্ত সিঁড়ি  এবং এই সিঁড়ি  সংলগ্ন আজান দেওয়ার সুউচ্চ মিনার রয়েছে। এই মসজিদটি দৈর্ঘ্যপ্রস্থ ৮২গুনন ৫২ ফুট, উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট এবং এর চারপাশে অষ্টকোন বিশিষ্ট সুউচ্চ চারটি বুরুজ আছে। মুলত এটি একটি ইটের ইমারত হলেও দেয়ালের বাহির দিকের অংশ পাথর দিয়ে আবৃত। ভিতরের দিকের দেয়াল গাত্রের কিছু অংশ জুড়ে পাথর দিয়ে আবৃত। সামনের দেয়ালে সমমাপের ৫টি দরজা আছে। এবং মসজিদের গায়ে আছে নানা লতাপাতার আকর্ষনীয় কারুকার্য। স্থানীয় লোকেরা গৌড়ের বড় সোনামসজিদ ( মালদা) এর সাথে তুলনা করে এই মসজিদটিকে ছোট সোনামসজিদ বলে। সেই হিসেবে এটা ছোট সোনামসজিদ নামে প্রসিদ্ধ। ঐতিহাসিক জেনারেল ক্যানিংহামের মতে কিছু সংখ্যক স্বর্ণশিল্পী এই মসজিদের সাজ সজ্জার পরিকল্পনা বা নকশা প্রস্তুত করেছিলেন। বিভিন্নদিক থেকে মসজিদটির অপরুপ কারুকাজ দেখে এই ছোট সোনামসজিদ কে গৌড়ের রত্ন বলা হয়।

বাংলার গৌরবময় রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে ( খ্রিষ্ট ১৪৯৩ - ১৫১৯) ৮৯৯ হতে ৯২৫ হিজরীর মধ্যে জৈনক আলীর পুত্র ওয়ালী মুহাম্মাদ কর্তৃক রজব মাসের ১৪ তারিখে ছোট সোনামসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়।

মসজিদের সম্মুখস্থ মধ্যবর্তী কারুকাজে খচিত দরজার ওপরে একটি শ্বেত প্রস্তরে উৎকীর্ন আরবী শিলালিপি থেকে জানা যায়। মসজিদের ভেতরের আয়তন ৭১ ফুট ৯ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য  এবং ৪০ ফুট ৬ ইঞ্চি প্রস্থ। ৩ টি সারিতে বিভক্ত। প্রত্যেক সারিতে ৫টি করে পাথরের স্থম্ভ রয়েছে। কতকটা গোলাকৃতি অথচ লম্বা ৫টি মেহরাব আছে। কিন্তু মেহরাবে কারুকাজ খচিত শ্বেত পাথরগুলা এখন নেই। যানা যায় ১৮৯৭ সালের ভুমকম্পে মসজিদের পশ্চিম দিকের বহু অংশ ধসে যায়। ১৯০০ সালে তা কেবল মাত্র ইট দ্বারা মেরামত করা হয়। মেহরাবের মধ্যের স্বতন্ত্র একটি শ্বেত পাথরেএ একখণ্ড উজ্জ্বল বস্তু আরও কয়েকটুকরা পাথর  ইংরেজরা নিয়ে যায়। এমনকি পশ্চিম দেয়ালের কারুকার্যময় অনেক দুস্প্রাপ্য বহু মুল্যবান শিল্প নিদর্শন ও স্থানান্তরিত হয়ে যায় বিলেতে। এভাবে গৌড়ের ছোট সোনামসজিদের মহামুল্যবান কারুকার্য নষ্ট হয়ে যায়।

মসজিদের বাইরে ৪১ টি কবর আছে, পুবে আছে মাঝারি আকারের দিঘী। এই মসজিদটি যেমন  ঐতিহ্যময়ী ইসলামী ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে। তেমনি এই মসজিদটি আর ও ঐতিহাসিক হয়ে উঠে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কারনে, এই মসজিদ প্রাংগনে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি রয়েছে। রয়েছে তার সহযোদ্ধার সমাধি।

প্রাচীন বাংলার গৌড় জনপদের বহু নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। সোনামসজিদ ছাড়াও ইসলামী স্থাপত্যের মধ্যে দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা, ধনাইচকের মসজিদ, খানিয়াদিঘী ও খানিয়াদিঘী মসজিদ, শাহ নেয়ামতুল্লাহ ( রহ:) মাজার ও তার তৈরিকৃত তিন গম্বুজ মুঘল নকশায় মসজিদ, তোহাখানা ও তোহাখানা মসজিদ, খঞ্জনদিঘী মসজিদ অন্যতম। এইসব সুলতানি আমলে ও কিছু মুঘল আমলে স্থাপিত হয়েছে।

অবশেষরূপে বলা যায় গৌড়ের রত্ন সোনামসজিদ বাংলাদেশের অনন্য ইসলামী স্থাপত্য শিল্পের একটি। ২০ টাকার নোটে ঐতিহাসিক সোনামসজিদের ছবি দেওয়া আছে।

সোনামসজিদ বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম স্থলবন্দর। সোনামসজিদ এর নামে স্থলবন্দরের নামকরণ করা হয়। সোনামসজিদ এর পাশ দিয়ে মেইন রাস্তা হওয়ায় মালবাহী ট্রাকের চলাচলে সোনামসজিদটি কাঁপতে  থাকে। এক ধরনের ঝুঁকির মধ্যে এই প্রাচীন স্থাপত্যটি। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদাসিনতায় গৌড়ের বিভিন্ন স্থাপত্য শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে। 

গৌড়ের এই প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য গুলো আমাদের গৌরবময় সময়ের সাক্ষী। মুসলিম স্থাপত্যের সবচাইতে মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য হল মসজিদ বা আল্লাহ্‌র ঘর। আসুন বাংলাদেশের সকল প্রাচীন স্থাপত্য গুলোকে যত্নে রাখার অঙ্গীকারবদ্ধ হই। 














Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.