x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

মঙ্গলবার, মে ০৯, ২০১৭

রুমকি রায় দত্ত

sobdermichil | মে ০৯, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
মুসৌরি


প্রথম অংশের পর

ট্যাক্সি স্ট্যান্ডটা মালরোড থেকে বেশ খানিকটা নিচে। প্রতিবারের মত অফ সিজনে এসেছি বলে হোটেল বুক করিনি আগে থেকে। ট্যাক্সিস্ট্যান্ড থেকে একটা রাস্তা একটু ঘুরে মালরোডে মিশেছে, আরেকটা রাস্তা পাহাড়ের গা কেটে সিঁড়ি গিয়ে মিশেছে মালরোডে। ট্যাক্সি থেকে নেমে ভাবছি ঠিক কোন দিক থেকে মাল রোডে গেলে সুবিধা হবে, এমন সময় একজন এসে জানতে চায়লো আমরা হোটেল খুঁজছি কিনা। হ্যাঁ বলতেই সে তার হোটেলে যাওয়ার কথা বললো। আমরা ঠিক করলাম, দেখাই যাক ভালো না লাগলে থাকবো না। কথা মতই কাজ। লোকটির সঙ্গে থাকা মালবাহক আমাদের ব্যাগ নিয়ে আগে আগে যেতে লাগলো আর আমরা পিছনে পিছনে। মাল রোড ছাড়িয়ে একটা গলি পথে আমরা একটা নির্জন পাহাড়ি রাস্তায় এসে পড়লাম। যদিও মালরোড থেকে বেশি দূর নয়, কিন্তু রাস্তা একটু ঘুরে আরো অনেকটা উপরে উঠে গেছে। মালবাহকের সাথে যেখানে এসে দাঁড়ালাম অপূর্ব সুন্দর একটা জায়গা। মালরোডের সব থেকে উচ্চতম স্থানে এই হোটেলটি অবস্থিত। নাম ‘প্রিন্স হোটেল’। দেখেই বোঝা যাচ্ছে ইংরেজ আমলের তৈরি। হোটেলের সামনে বিস্তৃত ঘাসের লন কিনারা বরাবর খাদ, লোহার রেলিং এ ঘেরা। বেশ অন্ধকার নেমে এসেছে চারিদিকে। ঢুকতেই একটা হলঘর মত। প্রধান দরজার ডানদিক দিয়ে একটা কাঠের সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়। নিচের কাউন্টারে কিছু টাকা এডভ্যান্স দিয়ে হোটেলের কর্মচারীর পিছনে আমরাও উপরে উঠে গেলাম। দোতলাতে দুটো ঘর তখন থাকার মত অবস্থায় ছিল। বাকি ঘর গুলোতে সংস্কারের কাজ চলছে। আমরা যে ঘরটি পেলাম আমাদের দুজনের থাকার জন্য বেশ বড়। একটি বসার ঘর, একটি বেডরুম লাগোয়া বাথরুম আর ড্রেসিং রুম। ড্রেসিংরুমের ওপাশে একটা সরু কাঠের ব্যালকনি আছে কিন্তু লোকটি যাওয়ার আগে ওখানে যেতে নিষেধ করে গেল কারণ সংস্কারের কাজ চলছে, যে কোনো মুহূর্তে ভেঙ্গে যেতে পারে। লোকটি চলে যেতেই দরজা লাগিয়ে ঝটপট আমরা ফ্রেশ হয়ে বিছানায় লেপের তলায় আশ্রয় নিলাম। বিশাল উঁচু ছাদের এই ঘরটিতে শুয়ে কেমন যেন ভিতরটা ফাঁকা মনে হল। বড় বড় উঁচু ছাদের পুরানো বাড়িতে গেলেই আমার এমন অনুভব হয়। দরজাটা খুলে একবার দেখতে ইচ্ছা হলো বাইরেটা। উঠে এসে দরজা খুলে বাইরে তাকিয়ে বুঝলাম আমরা যে ঘরটি তে আছি, সেখান থেকে শুধু ভিতরের বারান্দাটা দেখা সম্ভব। চারিদিক নিঃস্তব্ধ সরু বারান্দায় একটা কম পাওয়ারের আলো জ্বলছে। এক কোনে জমা ভাঙা আসবাবপত্র। হঠাৎ শুনতে পেলাম কাঠের সিঁড়িতে মচমচ আওয়াজ। কেউ বোধহয় আসছে!... না , অনেক্ষণ দাঁড়ানোর পরও কাউকে দেখতে পেলাম না। রাত একটু বাড়তেই বুঝতে পারলাম পুরো হোটেলটাতে আমরা ছাড়া আর কেও নেই। নিচে একজন কেয়ারটেকার আছে শুধু। রাত ন’টা নাগাদ একজন এসে আমাদের ঘরেই খাবার দিয়ে গেল। খাওয়া পর্ব সেরে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে নিতেই টের পালাম, ভয়ঙ্কর শীতের কামড়। কি ভীষণ তীব্রতা শীতের। গরম জামা পড়ে একটা লেপ ও কম্বলেও যেন দাঁত ঠকঠকিয়ে কাঁপতে লাগলাম। মাথায় মাফলার জড়িয়ে শুধু মুখটুকু বের করে টিভির দেখতে শুরু করলাম। এমনিতেই শরীরে একটা ক্লান্তি ছিল, বেশিক্ষণ পারলাম না, যেন চোখের পাতা কেউ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে চায়ছে। আস্তে আস্তে ডুবে যেতে লাগলাম গভীর সে এক দেশে। জানি না ঠিক কত রাত তখন, অনুভবে জাগলো একটা শব্দ---টপ্‌--টপ্‌-- টপ্‌ । উফ্‌! অসহ্য। এ কোথায় এসে পড়লাম!...। নাহ্‌, হঠাৎ চেতনার স্তরে মস্তিস্ক পদার্পণ করতেই বুঝতে পারলাম আমি কোনো অচিনপুরে নেই। ঠিক তখনই আবার শুনতে পেলাম টপ্‌,টপ্‌ জল টোপানোর শব্দ। ক্রমাগত জল পড়েই যাচ্ছে। ইচ্ছা করে এই ঠান্ডায় লেপ ছেড়ে কল বন্ধ করতে যেতে? কানের উপর মোটো লেপের আবরণ সৃষ্টি করে শব্দের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু ওই মশার গুনগুন আর জলের টুপটুপ ভয়ানক কম্পাঙ্ক যুক্ত শব্দ...! ঢাকের আওয়াজের থেকেও মারাত্মক। এপাশ-ওপাশ কোনো পাশের শান্তি নেই, তার উপর যদি পাশের জন নিশ্চিন্তে ঘুমায়...। উঠে পড়লাম লেপের তলা থেকে, সোজা বাথরুমে। দরজা খুলে টুকি মারলাম, চক্ষু ছানাবড়া। না, কল থেকে তো জল পড়ছে না। শব্দের উংস সন্ধানে ড্রেসিং রুমের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম, পিছনে সরু রাস্তা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়লো না। লম্ফ দিয়ে বিছানায় তখন। বরমশায়কে ঠেলে তুলতেই সে বললো আমিও শুনতে পাচ্ছিলাম। নাহ্‌! সারারাত জেগে উৎস সম্পর্কে নানা আলোচনা শেষে বিফল হয়ে ভোর রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম দুজনেই। শুনেছিলাম এই স্থান থেকে সূর্যোদয় ভালো দেখা যায়। সকালে ঘুম ভাঙতেই মনে পড়লো রাতের কথা। কিন্তু আশ্চর্য! শব্দের নাম নিশান নেই। দিনের বেলায় শব্দ নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। বাইরের লনে এসে দাঁড়াতেই দেখলাম, আকাশে রঙের ছ্বটা। পিছন ফিরে হোটেলটাকে দেখলাম, বেশ মায়াবী এক পরিবেশ, যেন কত ইতিহাস লুকানো আছে। মন চায়লো না তবু ঠান্ডা আর কিছুটা নিরাপত্তার কথা ভেবে হোটেল পরিবর্তনের কথা ভাবলাম। এমন জনহীন হোটেলে একা থাকাটা বোধ হয় বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তাই স্নান ব্রেকফাস্ট সেরে জিনিস নিয়ে নেমে এলাম নিচে মালরোডে রাস্তার উপর ‘হোটের প্যারাডাইস’। আমাদের বাজেটের মধ্যে ছোট্ট ছিমছাম। ব্যাগপত্র রেখেই বেরিয়ে পড়লাম স্থানীয় জায়গা গুলো দেখতে। 

হোটেল থেকে ডানদিকে বেঁকে কিছুটা পথ হেঁটে গিয়ে পেলাম গাড়ির কাউন্টার। এখানে টাকা জমা দিয়ে গাড়ি বুক করে বেরিয়ে পড়লাম। গাড়িয়ে এগিয়ে চললো পাহাড়ি পথে। ডানদিকে বিশাল খাদের নিচ থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে পাহাড়। শুনেছিলাম মুসৌরিকে বলে পাহাড়ের রানী। গাড়িয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই একটু যেন অবাক হলাম। দূরে দাঁড়িয়ে যে পাহাড়, তাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন বালির তৈরি। কিন্তু একটু আগেই তো দেখলাম বেশ সবুজ পাহাড়। রাস্তা ঘোরার সাথে সাথে পাহাড়ের রঙ ও যেন বদলাতে লাগলো। ঢেউ খেলানো বিভিন্ন পাহাড়। এর আগে শিমলায় যে পাহাড় দেখেছি এপাহাড়ের রূপ তার থেকে আলাদা। অনেক বেশি সুন্দরী, অনেক বেশি মোহময়ী। মায়াবী তার রূপের আকর্ষণে চোখ ফেরানো দায়। গাড়ি এসে দাঁড়ালো জাপানি টেম্পলে। একখন্ড উঁচু টিলার উপর একটু শান্তির আশ্রয় যেন। সামনের প্রসারিত লনের কিনারা লোহার রেলিং ঘেরা , ঠিক তার নিচ থেকেই শুরু হয়েছে অনন্ত বিস্তৃত খাদ, আর দূরে বহুদূরে প্রসারিত দৃষ্টির সীমানায় বিচিত্র পাহাড়ি সজ্জা। কিছুটা সময় নিজের মধ্যে নিমগ্ন হওয়া যায়। বেরিয়ে এলাম ওখান থেকে , গিয়ে বসলাম গাড়িতে। আবার পাহাড়ি পথে যাত্রা, গন্তব্য শুধু ড্রাইভার জানে। চলতে চলতে একটা নির্জন পাহাড়ের কোলে দাঁড়িয়ে পড়লো গাড়ি। ড্রাইভার বলল, ‘ উপর পাহাড়ি পে এক মন্দির হ্যায়, দেখকর আইয়ে’। আমরা সামনে তাকিয়ে দেখলাম পাহাড়ের গা বেয়ে একটা সরু রাস্তা উপরে উঠে গেছে। এগিয়ে চললাম আমরা। বেশ সংকীর্ণ, পাশের খাদে চোখ যেতেই বুকের ভিতরটা কেমন যেন ছ্যাঁৎ করে উঠলো, কেবলই মনে হচ্ছিল যদি গড়িয়ে পড়ে যাই? পাকদণ্ডী রাস্তা বেয়ে কিছুটা উঠতেই দেখি সামনে ধুতি পাঞ্জাবী পড়া এক ভদ্রলোক ও মহিলা হাত ধরে নেমে আসছে নিচে। দেখেই বুঝতে বাকি রইলো না বাঙালি। অনেক জায়গা ঘোরার সুবাদে এটা খুব ভালো করে লক্ষ্য করেছি। বিদেশে বাঙালি একদন্ডের পরিচয়েই ভীষণ আপন হয়ে ওঠে। আমাদের দেখেই তিনি চেঁচিয়ে বলে উঠলেন ‘বাঙালি?...হে হে দেখেই বুঝতে পেরেছি’। দুটো সামান্য বাক্য বিনিময়, আবার যে যার পথে। মন্দিরটা পাহাড়ের চূড়ায়। কিছু নিচ থেকে সিঁড়ির ধার স্টিলের রেলিং দিয়ে ঘেরা। ওখানে দাঁড়ালে চোখের দৃষ্টি দিগন্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর বুকে দূরে পাহাড়ের গায়ে গায়ে সাজানো গ্রামের সবুজ ছবি। ধাপ চাষে খেত ভরা শস্য, আকাশটা যেন মিশেছে ওই গ্রামের সীমানায়। কয়েক ধাপ সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে দাঁড়ালাম দেবি মূর্তির সামনে। ক্ষণিক নির্জনে কিছুটা সময় কাটিয়ে নেমে এলাম গাড়িতে। এবারের গন্তব্য মুসৌরির বিখ্যাত ফলস্‌ “ কেম্পটি”।

কেম্পটি ফলস্‌ঃ 

পাহাড়ি পথে ঘুরতে ঘুরতে এসে পৌঁছালাম কেম্পটির দ্বারে। দেখলাম ধাপে ধাপে নিচে নেমে গেছে সিঁড়ি। ঢোকার মুখে একটা ছোটো খাটো বাজার প্রায়, না সব্জীর নয়, কাঠের তৈরি ঘর সাজানোর জিনিসের। চোখ ও মনকে শাসন করলাম, আগে যার দর্শনে এসেছি তাকে দেখবো।ধাপে ধাপে নিচে নামতে নামতে দেখতে লাগলাম, দু’পাশে বিভিন্ন খাবারের দোকান। চোখ গেল ছোলা সিদ্ধর দিকে। সব তোলা থাক ফেরার পথে। নামতে নামতেই দেখতে পেলাম কোন সেই উচ্চতা থেকে নেমে আসছে জলের ধারা। কিছুদূর অন্তর অন্তর বাঁধ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে দর্শনীয় স্থান। দুরন্ত ঝরণাকে বাঁধ দেওয়ায় কিত্রিমতার সৃষ্টি হয়েছে। মন যেন পুরোপুরো প্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে পারলো না। হঠাৎ আমাদের পাকড়াও করলো এক ফোটোগ্রাফার, যিনি সেই যাত্রা শুরুর ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে আমাদের ধাওয়া করছেন। ফোটো তোলার প্রস্তাবটা মন্দ নয়, গিয়ে দাঁড়ালাম, ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া সিঁড়িতে। পিছনে ছিপছিপ করে উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসছে জলধারা, তার গুঁড়ো গুঁড়ো ছিটে আমাদের গায়ে মাথায়। পায়ের নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে জলের ধারা...দিনের অনেকটা সময় কেটে গেছে। প্রতিবারের মত এভারেও ছাড়িনি, কুমায়নের পোশাক পড়ে ফটো তুলে ঘড়িতে তখন তিনটে বাজে। ছোলা সিদ্ধর প্যাকেট হাতে গিয়ে ঢুকলাম একটা খাবারের দোকানে। তারপর সেই সব আকর্ষনীয় কাঠের তৈরি জিনিসের দোকানে। যেদিকে তাকাই তাক লেগে যায়। তারই মাঝে কিছু নির্বাচিত জিনিস সংগ্রহ করে আবার গিয়ে বসলাম গাড়িতে। দিন তখন শেষের পথে। সেদিনের মত ঘরে ফেরার পালা। সন্ধ্যের ঠিক আগেই হোটেলে ফিরে একটু জিরানো। ব্যালকনির দিকের দেওয়ালটা কাচের। লাগোয়া ছোট্ট ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম অন্ধকারের বিস্তার। একে একে জ্বলে উঠলো পুরো মাল রোড। না, কোনো দিনই ক্লান্তির দোহায় দিয়ে ঘরে বসে সন্ধ্যে যাপন করিনি আমরা, কোথাও ঘুরতে গিয়ে। প্রতিবারই নিংড়ে নিতে চেয়েছি সেই জায়গার প্রকৃত আস্বাদ। তাই সন্ধ্যে হতেই বেরিয়ে পড়লাম। মালরোডের ধার ঘেঁষে সেই সব কাঠের দোকান, জামা কাপড়ের দোকান। বন্ধু বান্ধবদের কয়েকজন কিছু জিনিস আনতে দিয়েছিল, তার কিছু সংগ্রহ করলাম। হোটেলে ফেরার পথে খাদের দিকটা বাঁ-হাতে। হঠাৎ চোখ পড়তেই বিস্মিত হয়ে উঠলাম। একোন স্বর্গের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা!... রেলিং এর ওপ্রান্তে খাদের দিকে কালো আকাশ যেন মিশেছে আলোক সমুদ্রে। হ্যাঁ একে আলোক সমুদ্র ছাড়া অন্য কোনো উপমা আমার আসে না। আগে যতবার পাহাড়ে গিয়েছি, এমন আলোক সমুদ্রতো কোথাও দেখিনি! হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়িয়ে গেলাম। দু’চোখে মাখতে লাগলাম সে ছবি। আজও বন্ধ চোখে দেখি সে সমুদ্র।

রুমকি রায় দত্ত


ক্রমশ ঃ 

Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.