x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৩, ২০১৭

রুমকি রায় দত্ত

sobdermichil | মার্চ ২৩, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
অপরিণীতা
মোবাইলটা প্রতিদিনের মতো বালিশের নিচেই ছিল। রোজ ঘুমানোর আগে একবার ফেসবুক খোলে শোভনা। আজ যে ওটা এত সকালে বেজে উঠবে ভাবতেই পারেনি। বেশ বিরক্ত হলো। সাতপাকটা আর ঘোরা হলো না। মোবাইলটা না বাজলে বোধহয় স্বপ্নে ওর বিয়েটা হয়ে যেত। যদিও পাত্রের মুখটা অস্পষ্ট ছিল। স্বপ্নে নাকি পরিষ্কার মুখ দেখা যায় না। ঘুম চোখে মোবাইলটা হাতে নিলো। অজানা নাম্বার দেখে বুকটা ধক করে উঠলো।

‘শুভ জন্মদিন’, মেয়েলি সুর ভেসে এলো। মৌ ফোন করেছে,বরের মোবাইল থেকে। মৌ, শোভনার হোস্টেলের বান্ধবী। বছর ছয়েক হলো ওর বিয়ে হয়েছে।একটা ছোট্ট মেয়ে আছে। শোভনা আদুরে ঘুমমাখা গলায় বলল---‘কিরে,এতদিনে মনে পড়লো?—হাড়কিপ্টে, বরের পয়সা বাঁচাচ্ছিস’?

‘রাগ করিস না রে,জানি তোর রাগ হয়েছে। কি করবো বল,মেয়েটা ভীষণ দুষ্টু হয়েছে রে’।

কথা আর এর বেশি এগোয় না। মৌ এর বর অফিসে যাবে তাই ও ফোনটা রেখে দেয়। শোভনার দিক থেকেও খুব একটা কথা বলার তাগিদ ছিল না। ফোনটার কারণে ওর কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেছে। ভালো একটা স্বপ্ন দেখছিলো সেটাও অসম্পূর্ণ থেকে গেলো। ওর জীবনে সত্যিই কি সানাই কোনোদিন সুর তুলবে না! একটু যেন ভাবুক হয়ে ওঠে শোভনা। ছোটো বেলার কিছু স্মৃতি ঝিলিক দিয়ে ওঠে। জন্মদিনটা কত সুন্দর ছিলো! নতুন জামা,কেক,চকলেট---হৈ-হৈ করে বন্ধুদের বাড়িতে আসা। মা কত রকমের রান্না করতো! পায়েস অবশ্য এখনো হয়,তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে পায়েসের স্বাদটাও কেমন যেন ফিকে হয়ে গেছে। দেখতে দেখতে জীবনের সাঁইত্রিশটা বসন্ত পেরিয়ে গেল। এখনো একা! নির্জন বসন্তের দিন গুলোতে পাতা ঝরা গাছের মত মনটা খাঁ-খাঁ করে,আর ভালো লাগেনা এভাবে বোঝার মত পড়ে থাকতে। সংসারে বিবাহের বয়স পেরিয়ে যাওয়া মেয়ে বোঝা ছাড়া আর কিই বা হতে পারে। শুধুই কি যৌবনের তাড়নাতে মানুষ একজন সঙ্গী খোঁজে? মনেরও কি একটা সঙ্গী লাগে না? মেয়েবেলা থেকে জেগে ওঠা সেই একান্ত নিবিঢ় হাতটা, যার হাতে হাত রেখে নির্জন বারান্দায় কাটিয়ে দেওয়া যায় অজস্র মুহূর্ত। 

শোভনা মোবাইলে ঘড়িটা দেখে নিল।পাশ ফিরে মোটা কোল বালিশ আঁকড়ে ধরে,তার উপর গোদা পা টা চাপিয়ে দিল। চোখটা বন্ধ করে আবার অসম্পূর্ণ স্বপ্নটা দেখার চেষ্টা করল। সকাল সকাল একটা অচেনা ফোন নাম্বার দেখে ক্ষণিকের জন্য কত কি ভেবে ফেলেছিল। কত লোকের তো অচেনা নাম্বার থেকে ফোনফ্রেন্ড—আর তার থেকে প্রেম হয়। শোভনাও মনে মনে অপেক্ষা করে ওর জীবনে এমন একটি দিনের।

বিছানায় শুয়ে শুয়ে হঠৎ সোমেশ্বর নামের লোকটার কথা মনে পড়ে যায় শোভনার।পাশের বাড়ির রিমিদের স্কুলের শরীর শিক্ষার মাস্টার,স্কুলে নতুন এসেছে। রোজ সন্ধ্যে বেলায় শোভনাদের বাড়ির সামনের চায়ের দোকানটায় চা খেতে আসে। লোকটা রোজ চায়ের ভাঁড়টা হাতে নিয়ে যখন চায়ে চুমুক দেয়, তখন বেশ কায়দা করে তাকিয়ে নেয় ওদের বাড়ির দিকে। সোমেশ্বরকে শোভনার মনে মনে বেশ লাগে। সকালে যখন অজানা নাম্বার দেখল, তখন সোমেশ্বরের কথা ভেবেই ওর বুকটা ধক করে উঠেছিল। মন যে নিজের অজান্তেই কখন কল্পনার জাল বুনে ফেলে! শোভনার ভাবনায় আবার ছেদ পড়ল। ওর চার বছরের ভাইঝিটা হাতে একটা গোলাপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল ওর গায়ে। একটা হামি দিয়ে বলল,--“পিছি,আজ তোমাল দন্মদিন, আমি তোমাকে খুব ভালোবাছি”। শোভনা ওকে টেনে বগলের তলায় ঢুকিয়ে নেয়। এই হলো পিসি ভাইঝির সারা দিনের খেলা। সংসারের শত নিরানন্দের মাঝে এক টুকরো আনন্দ। শোভনা আস্তে আস্তে উঠে বসে,বালিশে ঠেস দেয়। মা মন্দিরে যাওয়ার আগে জানালাটা খুলে গেছে,চিকচিকে রোদ ওর কালো গালে এসে পড়েছে। সিঁড়ির নিচের প্যাসেজে বাবা শুয়ে আছে,নাক ডাকার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। বাবার পুলিশের চাকরির সামান্য বেতনে এই দু’কামড়ার বাড়ি। দাদা বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর শ্বশুর বাড়ির কাছেই থাকতো। মিনি হওয়ার পর এখানে চলে এসেছে। আসলে শোভনার মতো এমন বিনা পয়সার চাকর কোথায় পেত? শোভনা যে আদরে মিনিকে মানুষ করছে,টাকা দিলেও এমন লোক পাওয়া যেতনা। শোভনা সব বোঝে, কিন্তু এতে ওর কোনো আক্ষেপ নেই। মিনিতো ওর প্রাণ। হয়তো মিনি বড় হলে দাদা-বৌদি এ বাড়ি থেকে কেটে পড়বে! শোভনা মিনিকে জড়িয়ে ধরে আদর করে। বিয়ে হলে ওর মিনির বয়সি একটা মেয়ে থাকতো। বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে শোভনা। বেসিনে মুখ-হাত ধুয়ে দাঁত ব্রাশ করে। আয়নার সামনে নিজেকে দেখে,ওর কালো মুখে সাদা দাঁতগুলো ঝকঝক করতে থাকে। সত্যি,ভগবানের যত কার্পণ্য ওর প্রতি। না শরীরে রূপ,না কপালে সুখ। হাত ধুয়ে ভেজা হাতটা দিয়ে বাবার নাকটা চেপে ধরে,শ্বাসবায়ুর অভাবে ধরফর করে উঠে বসে শোভনার বাবা।

[২]

মা মন্দির থেকে ফিরেছে, থালায় রাখা ফুল প্রসাদ নিয়ে মেয়ের মাথায় ঠেকিয়ে দেয়। শোভনা জানে মা প্রতিবারের মত আজও মন্দিরে গিয়ে কি প্রার্থনা করেছে। ওর মত আধ বুড়ো মেয়ে বাড়িতে বসে থাকলে সব বাবা-মা ই এমন প্রার্থনা করবে। নিজের প্রতি নিজেরই রাগ হয়।আজ শোভনার রান্না ঘরে ঢোকা নিষেধ, যা কিছু রান্না সব মা আর বৌদি করবে। আজ ওর জন্মদিন বলে কথা। এখন ওর কাছে জন্মদিনটা অভিশাপের মত, ওটা আসা মানেই হতাশার আরও একটা বছর বেড়ে যাওয়া,সময় টা ছোটো হওয়া। বৌদি একটা নতুন হাউজকোর্ট দিয়েছে। স্নান করে উঠে পড়বে। বিকেলে একটা হোটেলে খাওয়ার আয়োজনও করেছে। বৌদির মনে কি আছে কে জানে?

স্নান সেরে শোভনা বৌদির দেওয়া হাউসকোর্টটা পড়ে ঘরে আসে। ভীষণ গরম,শুধু ভিতরের অংশটা খুলে রাখে বিছানায়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে নিজেকে । সরু ফিঁতের নাইটিতে ওর শরীরে অনেকটা অংশ খোলা। একটা সুপ্ত ইচ্ছা ধীরে ধীরে ডানা মেলতে থাকে। ওর ভীষণ ভালোবাসার মানুষের আদর খেতে ইচ্ছা হয়।

সামনের বাড়ির বুড়িপিসিকে দেখে মাঝে মাঝে শোভনার ভীষণ ভয় হয়,শেষ জীবনটা কি ওরও এমন ভাবেই কাটবে? সারা জীবন বিয়ে করলো না,ভাইপো-ভাইঝিদের মানুষ করেই কাটিয়ে দিল। এখন শেষ বয়সে একা একা ভূতের মত পড়ে আছে, কেউ দেখার নেই, করার নেই। তবে একটা শান্তি ওর আছে। তুতানের দিদির থেকে ও অনেক ভাল আছে। পলিকে শ্বশুর বাড়িতে নেয় না,তাড়িয়ে দিয়েছে,এই যন্ত্রণা অপমানের থেকে ওর যে বিয়ে হচ্ছেনা সেটা অনেক ভালো বলেই ওর মনে হয়। অন্তত সমাজের চোখে ও অচ্ছুত তো নয়। বড়জোড় বিয়ে হয়নি বলে সবাই সহানুভূতি দেখাবে, পলির মত ঘৃণা তো করবে না। পাড়াতে পলির ফিরে আসাটা সবাই ভালো চোখে দেখে না,সবাই বলে ওর চরিত্রের দোষ আছে তাই নাকি বরে নেয় না। আসলে সমাজের এটাই তো নিয়ম, তারা অবিবাহিত মেয়েদের যদিও মেনে নেয় বিবাহিত মেয়েরা বাপের বাড়ি ফিরে এলে ছি ছি করে, আর সেই মেয়ে যদি অত্যাচারে মরে যায়, তখন হায়! হায়! করে বলে তুই ফিরে এলি না কেন রে মা? এমন সমাজের মুখে ছাই ঢালতে ইচ্ছা করে শোভনার। তীব্র একটা প্রতিশোধের আগুন বুকের ভিতরটা তোলপাড় করে।

(৩)

বৌদি রায়ার জন্মদিনে বাইরে খাওয়ার পরিকল্পনার আসল কারণটা আর অজানা নয় শোভনার। বৌদির চেষ্টা ব্যর্থ। সুনিলের প্রেমিকা আছে জেনে রায়াকে কেমন যেন হতাশ দেখাচ্ছিল। এত পরিকল্পনা করে অফিসের কলিগকে ডেকে এনে নিজের ঘারের বোঝাটাকে হাল্কা করার প্রয়াস ব্যর্থ হওয়ায় শোভনার কেমন যেন একটা তৃপ্তি হলো। যেন একটা প্রতিশোধ। শোভনার সামনেই প্রস্তাবটা সুনিল ফিরিয়ে দেওয়াতে ভীষণ আত্মসম্মানে লেগেছিল শোভনার। ঠিক সেই মুহূর্তে ওর মনে হচ্ছিল মাটিতে মিশে যেতে, নিজের এই কুৎসিত দেহটার বোঝা যেন নিমেশে বেড়ে কয়েক টন হয়ে গিয়েছিল। হতে পারে সে কুৎসিত,কিন্তু কেন কেউ বোঝেনা ওরও একটা মন আছে, আবেগ আছে, অনুভূতি আছে! চিৎকার করে অনেক কিছু বলতে চেয়েছিল শোভনা, কিন্তু না কোনো কথা বলেনি। নির্বাক হয়ে ফিরে এসেছে বাড়িতে।

সকলের অলক্ষে অনুভব করছে শোভনা আজ ওর জন্মদিনটা যেন সবার ঘুম চুরি করেছে। রাতের খোলা আকাশের নিচে বসে আছে। হঠাৎ কানে আসে দাদার গলা। রানা হাল্কা গলায় কথা বলছে---- ‘হ্যালো, কে ধীরেন ঘটক বলছেন?  ---আমি রানা মিত্র। কোনো খবর আছে?----নেই? ---আচ্ছা রাখছি তাহলে’।

শোভনা দরজার আড়াল থেকে সিঁড়ির নিচে পাতা চৌকিটার দিকে তাকায়। দুটি শরীর পাশাপাশি পড়ে আছে নির্বাক। আন্যদিন কত কথা থাকে দুজনের। আজ যে যার চিন্তায় মগ্ন। অমলেন্দু হাতটা কপালের উপর আড়াআড়ি পেতে আছে, চোখ দুটো বন্ধ। সবিতা ওরদিকে তাকিয়ে কি যেন বলতে গিয়েও বলে না, শুয়ে পড়ে পাশফিরে। অমলেন্দুর চোখের কোল বেয়ে জল গড়িয়ে আসে।ওদের অবর্তমানে মেয়েটার কি হবে সেটা ভেবেই ওর রাতে ঘুম আসে না। মাঝে মাঝে ভীষণ রাগ হয়, মনে হয় গিয়ে বলে—হতচ্ছাড়ি,মরতে পারিস না? যদিও জানে মেয়েটা ওর বুকে কত কষ্ট লুকিয়ে রেখেছে। সাঁইত্রিশে পড়ল, না জানি ওর মনেও কত স্বপ্ন লুকিয়ে আছে। যে দেখে যায়, সেই পরে জানিয়ে দেব বলে আর ফোন করে না। শেষবার সাঁইথিয়া থেকে এক পাত্রপক্ষ দেখে যাওয়ার পর আর কোনো যোগাযোগ নেই।

সবিতা আর এইসব নিয়ে চিন্তা করতে পারে না। সবকিছু ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। পাশের পাড়ার মিঠাইয়ের মা এসে বিয়ের কার্ড দিয়ে গেছে। বড় মেয়ের আগেই বিয়ে হয়ে গেছে,এটা ছোটোটা। বৈশাখের মাঝামাঝি বিয়ে। হবু জামাইয়ের কত গল্প শুনিয়ে গেল। কথায় কথায় শুনিয়ে গেল ওদের বাড়িতে নাকি মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়ার নিয়ম।কি করে বোঝায় সবিতা ওরা ইচ্ছাকরে শোভনাকে ঘরে বসিয়ে রাখেনি। ওদের অক্ষমতা নিয়ে সবার কাছে কথা শুনতে হয় বলে,সবিতা এখন আর বিশেষ কারোর সাথে মেশে না। ইদানিং মাঝে মাঝে শোভনার সাথে খারাপ ব্যবহারও করে ফেলে।নিজের মনের উপর আর রাশ টানতে পারে না। মাঝে মাঝে মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে, বসে থাকে ঠাকুর ঘরে। কার ভাগ্যের জন্য কাঁদে ,নিজের না শোভনার? নিজেই জানে না সবিতা।

আজ শোভনার চোখেও ঘুম নেই,খোলা জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে উন্মুক্ত আকাশের দিকে। দূরে ভেসে আসছে সানাইয়ের সুর, বড় করুণ শোনাচ্ছে। সন্ধ্যে বেলায় হোটেল থেকে ফেরার পথে অন্ধকারে সোমেশ্বরকে দেখেছে, সঙ্গে ওর বৌ। হঠাৎ শোভনার ভীষণ কান্না পায়,নিজেকে বড় একা মনে হয়। ওর সবাই আছে তবু কেউ নেই...ওর যে মনের মানুষ নেই। আজ কিন্তু জল বাঁধ ভাঙলো,ভিজিয়ে দিচ্ছে ওকে। একে কি বলবে ও---ভাগ্যের বিড়ম্বনা? ও যখনই কাউকে ভালোবেসেছে,তখনই কেঁদেছে। –কান্না যেন ওর চোখে বাসা বেঁধেছে। আজ অনির কথা ভীষণ মনে পরছে ওর। অনি ওর দাদার বন্ধু। অনির মা ছিল না। ওর মা কে মা বলে ডাকতো,আসা যাওয়ার মাঝে কখন যেন অনিকে ভালোবেসে ফেলেছিল। কিন্তু শোভনার চিঠি পাওয়ার পর থেকেই অনি আর এ বাড়িতে আসেনি—অনি যেন কোথায় হারিয়ে গেল। আর সিদ্ধার্থ, সে তো ওর ভালোবাসা নিয়ে খেলা করেছিল। অনি হারিয়ে যাওয়ার পর সিদ্ধার্থকে আঁকড়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিল। সে ও ভালোবাসেনি,সিদ্ধার্থকে লেখা প্রেমপত্র নিয়ে ওর দিদি বাড়ি এসে অপমান করে গিয়েছিল। সবাই ওর বাইরেটা দেখেছে,ওর মনের খোঁজ কেউ করেনি। হাজার হোক একটা রক্ত-মাংসে গড়া শরীর, শুধু ভালোবাসা নয়, আছে যৌনক্ষুধা, অতৃপ্তি---হৃদয় জুড়ে হা হা কার।ওর বয়সি সবার একটা সংসার আছে,স্বামী-সন্তান আছে,একটা সুন্দর যৌন জীবন আছে, ভালোবাসার জগৎ আছে। কিন্তু ও একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কি ভীষণ ছটফট করে----এত বড় পৃথিবীতে কি কেউ নেই যে, ওকে ভালো বাসতে পারে! 

কাঁদতে কাঁদতে শোভনার চোয়াল ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে। নিজের প্রতি, সমাজের প্রতি,ওর পরিবারের প্রতি এক তীব্র প্রতিহিংসা জেগে ওঠে মনে। মোবাইলটা নিয়ে পুরানো জিনিজ কেনা বেচার সাইট এ ঢুকে পড়ে শোভনা। মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠে শোভনার সদ্য তোলা স্লিভলেশ নাইটি পড়া ছবির সাথে একটা টাটকা বিজ্ঞাপন---

“ বিঃ দ্রঃ 

একটা সাঁইত্রিশ বছরের পুরানো মেশিন বিক্রয় আছে। বয়স দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। আগামী সাঁইত্রিশ বছরও একই ভাবে কাজ করার ক্ষমতা আছে এই মাশিনের। যে কোনো কাজে পারদর্শী...ঘরের যাবতীয় কাজ ছাড়াও দিতে পারে যৌন তৃপ্তিও। থাকা খাওয়ার জন্য আলাদা খরচ নেই। সিঁড়ির তলায় একটুকরো জায়গা আর বাড়ির অতিরিক্ত খাবারই যথেষ্ট। শর্ত একটাই ক্রেতাকে অবশ্যই পুরুষ হতে হবে। আর মূল্য...বিশেষ কিছু নয়,শুধু একটা ‘সামাজিক স্বীকৃতি’।





Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.