x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৩, ২০১৭

পারমিতা চক্রবর্ত্তী

sobdermichil | মার্চ ২৩, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
শূন্যচাবি
চারুলতার চোখে স্বপ্নের জলকেলি । অাঠেরোর তরুণী চারুলতা শিক্ষিত, স্মার্ট ৷ বাবা মামা' র একমাত্র মেয়ে হয়েও চারু চিরকালই মাটির গন্ধ পছন্দ করত ৷ সৌন্দর্যের দিক দিয়ে ট্র্যাফিক সিগন্যালকে বন্ধ করার ক্ষমতা চারুলতার ছিল ৷ কবিতা লিখতে ভালোবাসত সে ৷ কলেজে আবৃত্তি করার সময় আলাপ হয় আকাশের সাথে | ইকনমিক্সের স্টুডেন্ড আকাশ ৷ বুদ্ধিদীপ্ত চাউনি , স্পষ্টবক্তা আকাশকে ভালোবেসে ফেলে চারু ৷ শুরু হয় অন্তহীন পথ চলার অঙ্গীকার ৷ চোখে তারুণ্য থাকলেও চারুলতা বুঝতে পেরেছিল , এ সম্পর্কের ইতিকথা ৷ মা প্রথম যে দিন শুনেছিল আকাশের কথা অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল চারুর দিকে ৷ সেই রাতেই ছাদের কার্নিস বেয়ে পথ চলা শুরু আকাশের সাথে ৷ 

সদ্য চাকরি পাওয়া আকাশে'র ছিল না বাসস্থানের ঠিকানা ৷ ছিল বাবা মা 'র আর্শীবাদ ৷ পূজি বলতে ছিল চারুলতার গচ্ছিত কিছু টাকা , আর অফুরান ভালোবাসা। বন্ধুর ফ্ল্যাটে কিছুদিন থাকার ব্যবস্থা করে আপাত সন্তষ্ট আকাশ ছুঁয়েছিল চারুলতার ঠোঁট ৷ প্রথম রাতটা ছিল আকাশে বিছানো গোলাপের মত ৷ চারুলতা পুরোপুরি সমর্পণ করেছিল আকাশের কাছে নিজেকে ৷ রাত যখন গভীর অবিন্যস্ত চারুর মা'র মুখটা বার বার মনে পড়েছিল ৷ মা'র সাথে ঘুমানোর অভ্যাসটা কখনও যে চোখের জলের কারণ হতে পারে আগে কখনও ভাবেনি চারু।

এমন সময় পাশ থেকে হাতটা চেপে ধরে আকাশ আর ও আবিষ্ট হয়ে বলেছিল ," চারু , তোমাকে এবার মা বাবার সাজানো স্বপ্নরাজ্য থেকে বেরোতে হবে ৷ এই মুহূর্তে আমাদের দু জনেরই চাকরি করা খুব দরকার ৷ আমি বস'কে বলে তোমার চাকরীর ব্যবস্থা করে দেব ৷ মা মারা যাবার পর থেকে মেসে থাকা অভ্যাস ৷ ভীষণ ছন্নছাড়া জীবন আমার ! পারবে না তুমি আমাকে আমার মত করে গুছিয়ে তুলতে ?" 

ছোট্ট একটা শব্দ করে চারুলতা বলেছিল এখন থেকে সব কিছুই 'আমাদের' ৷ তুমি , আমি'র রসায়ন' কে আর আনতে দেওয়া যাবে না আমাদের মধ্যে ৷ 

সেই রাতটা ভীষণ একান্ত , আপেক্ষিক ছিল আকাশের কাছে ৷ মা মারা যাবার পর আকাশে'র রুদ্ধ জীবনে চুরির শব্দ , শাড়ির গন্ধ পুরোপুরি হারিয়ে গিয়েছিল ৷ অতীতের দরজা বন্ধ করে বর্তমানে'র আলোর মুখে দাঁড়িয়ে আকাশ ৷ শব্দ ,ওম , অন্ধকার সব মিলে মিশে একাকার ! 

সকালে ঘুম থেকে উঠে চারুলতা'কে পাশে দেখে আকাশ একটুকুও সময় নষ্ট করেনি ৷

শুরু হল একটি দিন , একটি সকাল ৷ চারুলতাকে সাথে নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল আকাশ ৷ অফিস বসের কাছে ভীষণ রকম আড়ষ্ট হলে ও তার বহিঃপ্রকাশ করেনি চারু ৷ সেটা বুঝতে পেরেছিলেন মিঃ মৈনাক চ্যাটার্জী , আকাশের বস ৷ ভীষণ ভাল মানুষ তিনি । চারুলতাকে দেখে কেন যেন মায়া হল মৈনাকবাবু'র ৷ চারুলতা , আকাশকে রাতে ডিনারের ইনভিটেশন করে ফেললেন ৷ চারুলতার মনে তখন দ্বিধার পাহাড়ে দ্বন্দ্ব হেঁটে বেড়াচ্ছিল ৷ তবুও কিছুটা ভয়কে সম্বল করে বেরিয়ে পড়ল চারুলতা ৷

মৈনাক বাবুর বাড়ি গিয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হল চারুর ৷ খুব সুন্দর ৮ বছরের একটি ফুটফুটে মেয়ে বসেছিল হহুল চেয়ারে ৷ পাশে দাঁড়িয়ে মৈনাকবাবু'র আশি বছরের বৃদ্ধ মা ৷ মেয়েটির নাম তিতলি ৷ তিতলি'কে জন্ম দিয়েই ওর মা অন্য একজনের হাত ধরে চলে যায় ৷ তিতলি বড় হয় তার ঠাম্মার কাছে ৷ প্রথম দেখাতে চারুলতা ওর নিস্পাপ চোখ দুটোকে ভালোবেসে ফেলেছিল৷ ভালোবাসা বড় দুঃসাধ্য বিষয় অনুভব করেছিল সেদিন- চারু ৷

মৈনাকবাবু সে দিনই তার অফিসে চারুলতা'র চাকরির প্রোপোজালটা অ্যাকসেপ্ট করতে রাজি হয়ে যান এবং একটা ফ্ল্যাট ভাড়া দেখে দেবার প্রতিশ্রুতি ও দেন তাদের ৷ সুতোর মধ্যে মস্ত বড় ফাঁক সে দিন থেকেই বাড়তে শুরু করল ৷ সন্দেহের বীজে যন্ত্রণা দানা বাঁধতে শুরু করেছিল ৷ আকাশ পুরো ব্যাপারটা মন থেকে মেনে নিতে না পারলে মুখে কিছু প্রকাশ করেনি ৷

একটু একটু করে মৈনাকবাবুর বাড়িতে চারুর যাতাযাত বাড়তে শুরু করল ৷ তিতলি চারুলতাকে "ভাল মা " নামে ডাকাত। "মা" ডাকটা চারুলতা'কে ভীষণ নমনীয় করে তুলেছিল । দিনের শেষে একটা আকর্ষণ অনুভব করত চারু ৷ আস্তে আস্তে তিতলির বাড়িতে অনিমিয়ত যাতাযাতটা নিয়মিত হতে লাগল ৷ আর ... আকাশের সাথে সম্পর্কের ছিদ্র বাড়তে লাগল ৷ 

একদিন প্রবল নেশাগ্রস্থ অবস্থায় চারুলতাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় আকাশ ৷ অবসন্ন চারু সারারাত বাইরে বসে ভেবেছিল , যে অনিশ্চয়তা'র হাত ধরে একদিন সে বেড়িয়েছিল সেই অনিশ্চয়তা তাকে নিঃস্ব করল ! বার বার মনে হয়েছিল তিতলি'র কথা ৷ অবচেতন মনের কিনারে মাতৃত্ব হাহাকার করলেও হতদরিদ্র সমাজে'র কাছে বড় অসহায় ...


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.