Header Ads

Breaking News
recent

প্রিয় পঞ্চবিংশতি / জয়া চৌধুরী

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ জয়া চৌধুরী

অমনি কালভুজঙ্গ দংশিলা আমায় / এখন বাঁচি কি না বাঁচি বল প্রাণে...

কালভুজঙ্গের ছোবলে আমাদের দেহ বিষ হয়ে যাওয়াই নিয়তি। মানুষ জন্ম থেকেই অসহায় প্রাণী। অত তত্ত্ব কথায় না গিয়ে সোজাসুজিই ভাবুন না ঘুমোলো পরে আপনার কি কোনই নিয়ন্ত্রণ থাকে পৃথিবীর কোন কিছুই এমনকী আপনার নিজের শরীরটিকেও সামলাতে? থাকে না মশাই। আর তখনই বোঝা যায় মানুষ কত ভঙ্গুর ও অসহায় এই বিষধরীর কাছে। কথা হচ্ছে বিষধরী কোন রূপে আসে? প্রেম রূপে? কর্কট রোগ রূপে? কবিতা রূপে??? জানা নেই তার সঠিক উত্তর। অরুণিমার কলমে সেই খোঁজ উঠে এসেছে অনিন্দ্য পংক্তি গাঁথায়। 

প্রিয় পঞ্চবিংশতি / অরুণিমা চৌধুরী
“অন্ধকারে মৃত শ্বেত উরুদুটি বোবা নিথর
শ্লেষ্মামাখা যন্ত্রণার কোন অনুভূতি বাকি নেই,
রোজকার মাছি বসা ঠোঁটে অতোধিক মৃত
অস্ফুট শ্লেষ,
যদিদং হৃদয়ং মম......
... দৃশ্য ও শব্দগুলো টুকরো টুকরো
ছিঁড়ে নিলে আর কোনো কাজেই লাগে না।”

‘পরকীয়াবাদ’ কিংবা ‘ডাকনাম’ শীর্ষক কবিতাগুলি পড়তে পড়তে মনে হয় সত্যিই কবিরা অন্তর দ্রষ্টা হন। তা না হলে- 

“ কেবল ঈশ্বরের মতো নির্বিকার একটি পেরেক
হ্যাঙ্গারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
একটি সম্মানজনক দূরত্ব রক্ষা করে।”... এই ঈশ্বরকে আপনি যেভাবে নেবেন।

আসলে একজন মূর্খ অকবি যদি কোন কবিতার বই পড়ে পাঠ প্রতিক্রিয়া দেয় তাহলে এমনটিই হতে পারে। একটি কবিতা পড়ে তা কোন কোন কারণে ভাল বা মন্দ তা কবিতা বিষয়ে গো এষণা করে যারা মহান কবিজ্ঞানী তকমা পান তারা বলতে পারেন সেটি অক্ষরবৃত্ত মাত্রাবৃত্ত ২/৪/৬ না কি কাহারবার মত স্রেফ ৮ মাত্রার রোজনামচা হল কি হল না। আমি পারি স্রেফ ভাল লেগেছে কি ভাল লাগে নি সেটুকু বলতে।

এই কবিতাটিই ধরুন - 

“আসলে তফাৎ মানে বিন্যাস
কিভাবে সাজালে ঘুঁটি
সাদা বা কালোয়
কিভাবে খেললে দান
প্রেমিকারাও শত্রুবর্তী হয়” –

এ লাইন কটি কেমন অসীম এক দর্শন কে তুলে ধরেছে না? কত অনায়াস এই জানাটা! আর শব্দের কয়েনেজ বরাবর খুব পছন্দের আমার। এই ‘শত্রুবর্তী’ শব্দটি এমন বহুমুখী অর্থ প্রবণ... আমি এটা নিলাম। নিজের অন্য লেখায় প্রয়োগ করব বলে রাখলাম। তবে গোটা বইতেই খুব বেশি রকম মেক্সিকোর কবি অক্তাভিও পাস এর একটি ধারার ছাপ দেখলাম। মুশকিল হচ্ছে বাংলা কবিতার জ্ঞান আমার যৎসামান্য। স্প্যানিশ কবিতা যাও বা দু চারটে পড়া সে বিদ্যে দিয়ে এরকমই মনে এল আর কী! অরুণিমার আর একটি কবিতা থেকে একটি জায়গা তুলে ধরি। “কর্কট যাপন” কবিতায় দেখছি-

কী তোমার কুষ্ঠি ঠিকুজি!
বলে দিই, “মনের মতো ভেবে নিন
বাকিটা অনুমেয়”।

পাঠক বলুন এ লাইন কটি ঘুরে ঘুরে মাথায় আসবে না একবার পড়লে? আমি ঢের নামী কবির এক লপ্তে ৮০টি কবিতা পড়ে দেখেছি বই বন্ধ করলে আর একবার পড়তে ইচ্ছে করে স্রেফ একটি মাত্র কবিতা। এ বইয়ের অন্ততঃ পাঁচটি কবিতা ঘুরে ফিরে পড়ে গেছি। গোটা বইই পড়েছি তবু ওগুলি বিশেষ নজর কাড়া। একজন কবির তো এতেই সার্থকতা! ‘বই তরণী’ প্রকাশনা থেকে অরুণিমা চৌধুরীর “প্রিয় পঞ্চবিংশতি” বইটি পড়ে যা মনে হল আপনাদের জানালাম। মাত্র ৪০ টাকা দাম। পাঠক সংগ্রহ করলে পুরোপুরি ঠকবেন না। শেষ করি আরো কটি প্রিয় পংক্তি দিয়ে -

ব্যক্তিগত শব্দেরা তাৎক্ষণিক
এখানে গোপন মুহূর্তেরা
প্রতিবার আড়ালহীন।।


পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
জয়া চৌধুরী 



কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.