x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৩, ২০১৭

জাহাঙ্গীর হোসেন

sobdermichil | মার্চ ২৩, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
নতুন তাজমহল
কুনু যাও বাজান ? বিলে। আমিও যামু, না বাপ, জোঁক আছে। ম্যাল্লা দেরী হবো, মাছ মারমু --। মা বিজলী বেগম কয় নিয়া যাইন, খালোই ধইরা থাকবো। বিজলীর ভাবতে ভালো লাগে, তার ছেলে বড় হচ্ছে, বাপের সাথে আবার মাছ ধরতে যাইতে চায়। বিড়ি ধরিয়ে প্যাকেট কুছে নিতে নিতে তহর আলী বলে - যাইবাই। ছেলে রতন আনন্দে লাফায়, হ বাজান যামু।

বিজলীর দেখতে ভালো লাগে, বাপের সাথে খালোই হাতে ছেলের যাওয়া। কিভাবে যায়! মাথায় আবার বাপের মত গামছা বাঁধা --।

রতন কয় মা মইচ বাটো, মাছ ভাজা খামু, হেসে কুটিকুটি বাপে। কয় আগে তো মাছ ধরি , পরে ভাজা খাইওনি ।।

বিজলী ভাবছে নিজের জীবনের কথা, মা মরা মেয়ে বিজলী, কিশোরীতেই সৎ মা বিয়ে দেয় তাকে , শাশুড়ির নির্যাতন সইতে সইতে কখন যে বয়স বেড়েছে টের পায়নি।

আজ ছেলের মাছ মারতে যাওয়া দেখে নিজের কথা ভাবছে, মনে মনে বলে খোদা তুমি আমারে কত সুখি করেছো, মানুষটা আমারে ভালোবাসে পাগলের মত। একটু চোখের আড়াল হলেই ডাকা ডাকি কই গেলা, রতনের মাও কই গেলা। একবার তার বোনের বাড়িতে নাইওর গেলে চার রাত একলা থাকে লোকটা। পাগল বেসে সকালে গিয়ে হাজির বলে নও যাইগা, ঘরে একলা থাকতে ডরাই। সব মহিলা এক সাথে হেসে উঠে,বলে হে ডরায়, ছোট পোলা, তোমার যাওন দরকার। তারা আবার ঘোমটার ফাঁক দিয়ে হাসে -------।

বেলা না বাড়তেই বউ নিয়ে বাড়িতে হাজির, বাড়িতে কেউ নেই, শাশুড়ি গত হয়েছেন, বিয়ের পর পরেই শশুড়কে হারিয়েছে। লোকটা বিজলীকে নিয়ে সেই যে ঘরে উঠলো! যেনো রাত দিন সমান। রতন সে মাসেই পেটে এলো -----।

খবর শুনে তহর আলীর কি যে আনন্দ, বিজলীরে কয় কবে পুনাই হব, বিজলী লজ্জায় মুখ লুকায় --কি যে কয় মানুষটা।

তহর কামলা দেয়, তবু সুযোগ করে বিজলীকে দেখে যায়, মাথায় হাত বুলায়, সুখে বিজলীর মরে যেতে ইচ্ছে করে। স্বামীর বুকে মাথা রেখে বিজলী কয়, আন্নে এত ভালা বাসুন ক্যা, সুখে আমার কান্দন আহে।

তহর হাসে --,বিজলীর চোখের পানি গড়িয়ে পরে।

তহর বউরে কয় আইজ কিন্তুক তোমার পুলা মাছ ধরছে,বেশি কইরা খাও, জানো রতন আমারে কয় বাজান আইজ মাছ বেচপার দিবোনা। কিবা ভুদাই পুনাই দেহছি -ওর মারা মাছ আমি বলে বেছমু।

রতন খিলখিল করে হাসে, তার পাত থাইক্কা পুটি মাছ ভাজা মায়ের মুখে তুলে দেয়। বাপেরে কয় তুমারেও দিমু। বাপ হা করে থাকে, রতন তার বাপের মুখেও ভাজা মাছ তুইলা দেয়। তহর আলী পৃথিবীর শ্রেষ্ট স্বাদের খাবার চোখ বন্ধ করে চিবায়।

বিজলী ছেলে বাপের অভিনয় উপভোগ করে, আনন্দে তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পরে ---------।

রতন কয়, মা কান্দো ক্যা, কি হইছে, তহর বউয়ের দিকে দেখে, বলে কি হইছে গো।

বিজলী হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। কি ভাবে সে বলবে, তার মনে আজ স্বেত পাথরের নতুন তাজমহলের জন্ম হয়েছে, যাকে দেখা যায়না, ছোঁয়া যায় না, শুধু অনুভব করা যায় --।

একজনমে বিজলী আর কত সুখ চাইতে পারে ?


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.