x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

গার্গী রায় চৌধুরী

sobdermichil | মার্চ ২৩, ২০১৭ |
আলোর ডায়েরি
আজ আমার ভীষণ আনন্দের দিন। সত্যি বলছি এত আনন্দ কখনও পেয়েছি বলে মনে পরছে না। আনন্দ হচ্ছে কিন্তু স্বস্তি পাচ্ছি না। উচ্চ মাধ্যমিকে ফাস্ট ডিভিশন পেয়ে কি হবে যদি এখানেই পড়াশুনোর ইতি হয়ে যায়? ধ্যাত, ভাবতে গেলেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কলেজের ফি, বইএর খরচ, কলেজে যাতায়াত এসব কি মুখের কথা? কোথা থেকে পাবে এত টাকা আমার রিক্সাওলা বাবা? নাহ্‌ হবে না। কলেজে পড়া আমার হবে না। এত টা স্বপ্ন দেখা আমার মত ঘরের মেয়ের সাজে না। তার চেয়ে যেটুকু যা আছে ছোট ভাই দুটোর পড়াশুনোর জন্য রাখতে বলব বাবা কে। ওরা লেখাপড়া শিখে কাজ পেয়ে বাবার পাশে দাঁড়াতে পারবে। আমিও কি পারতাম না? চাকরি করে বাবার পাশে দাঁড়াবো, মাকে লোকের বাড়ি কাজে যেতে দেব না, আমাদের ভাঙ্গা বেড়ার বাড়িটা পাকা করব এসব তো আমারই স্বপ্ন। এই স্বপ্ন গুলোই তো আমাকে রাতে ঘুমতে দিত না। ভিতর থেকে কথা বলে জাগিয়ে রাখত, ‘আলো তোকে ভাল রেজাল্ট করতেই হবে, দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যা’। ওর বকবকানির জন্যই তো আজ কোন টিউটর না থেকেও এত ভাল রেজাল্ট হল আমার। বড় দিদিমনি সবার সামনে ডেকে বললেন, ‘তুমি আমাদের গর্ব, অনেক প্রত্যাশা তোমার কাছে। বড় দিকে প্রণাম করতে গিয়ে চোখের জল সামলাতে পারিনি। আচ্ছা, বাবা যদি বলে পড়াশুনো চালিয়ে যা আলো, টাকার জন্য ভাবিস না? আজ রেজাল্ট শুনে বাবা-মা দুজনেই তো খুব খুশি হয়েছিল। সবাই কে ডেকে ডেকে বলছিল। কেউ কেউ বলছিল ‘কালিচরন তুমি যে মেয়ে সন্তানকে এতদূর পড়াতে পেরেছ এ আর কজন পারে’। সত্যি আমাদের বস্তি তে মেয়ে গুলোর লেখা পড়ার দৌড় সিক্স সেভেন পর্যন্তই। কিন্তু আমি তো জানি উচ্চ মাধ্যমিক কোন উচ্চ শিক্ষার পর্যায়ে পরে না। এটা পাশ করলে তবে উচ্চশিক্ষার দুয়ার খোলে। সে আর এদের কে বোঝাবে। উফ পড়াশুনোর অলীক ভাবনা থেকে কবে যে মুক্তি পাব আমি? যেটা হবে না জানি সেটা নিয়েই সাত পাঁচ ভেবে চলি এমন খারাপ স্বভাব আমার।

(২)

কদিন ডায়েরি লেখা হয়নি। কিন্তু অনেক উল্লেখ যোগ্য ঘটনা এর মধ্যেই আমার জীবনে ঘটে গেছে, যে গুলো লিখে রাখা দরকার। না, বাবা আমায় কলেজে ভর্তি করতে পারেনি, কিন্তু অনেক চেষ্টা করে আমাকে একটা কম্পিউটার ক্লাস এ ভর্তি করে দিয়েছে। সেন্টারের বয়স্ক মালিক বাবার রিক্সায় যাতায়াত করতেন। বাবা তার কাছে আমার কথা বলাতে তিনি দয়া করে বিনে পয়সায় আমাকে তার সেন্টারে কম্পিউটার শিখতে দিচ্ছেন। আমি যাচ্ছি সেখানে গত এক সপ্তাহ ধরে। আমার কলেজে পড়া হল না বটে কিন্তু কিছু একটা তো শিখতে পারছি যেটা শিখে আমি একটা চাকরী পেতে পারি। হয়ত একদিন আমার নিজের একটা কম্পিউটার সেন্টার হবে আর আমার কাছে ছেলে মেয়ে রা আসবে কম্পিউটার শিখতে। ওরা তখন আমাকে ম্যাডাম বলে ডাকবে নিশ্চয়ই। এই আমার দোষ। নিজের পাগলামি তে নিজের ই রাগ ধরে যায়। কোথায় কি, আমি আকাশ কুসুম ভেবে মরছি। যাক গে, ভাল করে শিখি তো আগে।

(৩)

কতদিন বসি না লিখতে, আজ ইচ্ছে করল, অনেকদিন পর। আমি এখন কম্পিউটারের অনেক কিছু শিখে গেছি, শুধু তাই নয়, এই সেন্টারের ম্যানেজার আমি এখন। ছেলে মেয়েরা এখন আমাকে ম্যাডাম বলে ডাকে। ওই যে দয়ালু মালিক তার কৃপায় এসব সম্ভব হয়েছে। এত কৃপার পিছনে যে কারন টি কাজ করেছে সেটির কথা ভাবলেই আমার শরীরের সমস্ত হাড় যেন গুঁড়িয়ে গিয়ে আমাকে একটা গলিত মাংস পিণ্ডে পরিণত করে ফেলে। উফ... আমি মা কে বলেছিলাম, ‘মা গো আমি পারব না, ওর স্ত্রী আছে, সংসার আছে, আমার চেয়ে বড় ছেলে মেয়ে আছে মা’। মা বলেছিল বাবা কে, ওদের উত্তর আমাদের ছিটে বেড়ার বাড়ির দেওয়ালের কোনায় কোনায় ধাক্কা খেতে খেতে আমার কানে এসে পৌঁছেছিল। ‘মানিয়ে নে আলো, একটু মানিয়ে নে, সংসার নাই বা হল, এত যখন পাচ্ছিস, এমন দয়ার শরীর, এমন মানুষ আর কোথায় পাব আমরা। উনি বলেছেন, আমাদের ঘর পাকা করে দেবেন। আমি বলেছিলাম,’মা... চুপ কর’। না... আর কিছু বলিনি। আমার ভয় করছিল, মায়ের কথা বুঝি শুনে ফেলল সবাই, তক্তপোশের নীচে বাক্সের ভিতর আমার বইগুলো, আমার রেজাল্ট, বড় দির দেওয়া মেডেল ওরা শুনে ফেলেনি তো আমাদের আলোচনা? 




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.