x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৩, ২০১৭

চয়নিকা

sobdermichil | মার্চ ২৩, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
  শুভ জন্মদিন
বুদ্ধিটা ইমনই দিয়েছিল দিয়াকে।

ইশ! বলাই হয়নি তো! আগের মাসেই বিয়ে হল ইমন আর দিয়ার, সম্পূর্ণ বাড়ির পছন্দে, যাকে বলে বিশুদ্ধ অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। দিয়ার তেমন ইচ্ছা ছিল না বিয়ের এতো তাড়াতাড়ি, তার উপরে ইমনকে দিয়ার একটুও বর বর টাইপ মনেও হয়নি, কত স্মার্ট ছেলে ওর চারপাশে ঘুরছে আর ও কি না এরকম শান্ত গোপাল ঠাকুরের মতো দেখতে ছেলে কে বিয়ে করবে! কক্ষনো না। পড়াশোনাতে ভালো, ভালো চাকরি করে, ভালো ব্যাবহার এতেই মা বাবা গলে গেল, একবারও ভাবল না যে দিয়া রোজ স্বপ্নে শাহিদ কাপুরকে দেখে! আরে বাবা দিয়া এত বোকা না যে শাহিদ কাপুর চাই বলে বায়না জুড়বে, কিন্তু ঐরকম কিউট একজন তো পাওাই যেত, যত সব ভুলভাল পছন্দ। আসলে দিয়ার দাদুর বন্ধুর নাতি হল ইমন, তাই দাদুর তো একপেশে পছন্দ ছিলই ইমনকে, তার উপরে বাবা মায়ের তো এত পছন্দ যে পারলে সেদিনই জামাই বানিয়ে ফেলে। ভেবেই রাগ হয়েছিল দিয়ার, তার দাদু কি না ওই ইমন ছেলেটার হয়ে ওকালতি করছে, ছিঃ ছিঃ। দাদুকে কি কি বলে বকা দেবে সে সব ভেবে নিয়ে গিয়েও ছিল দাদুর কাছে রাগি মুখে, কিন্তু দাদু যখন বলল, “দিদিভাই আমার এই দাদুভাইটাকে বিশ্বাস করেই দেখো না, ঠকবে না। আমার জহুরীর চোখ, লোক চিনতে খুব একটা ভুল হয়না। দিদিভাই এই বুড়োভাইয়ের একটা আবদার রাখো, ভালোই হবে, আমি আর কতদিনই বা আছি বলো!”, তখন দিয়া কিছুই বলতে পারেনি, উল্টে কেঁদেই ফেলেছিল, আর বলবেই বা কি, বুড়ি হতে চলল এখন একটা বয়ফ্রেন্ড জুটল না, যার সাথেই প্রেম শুরু হয়, দিয়ার মেজাজের ঠ্যালায় কদিন কাটতে না কাটতেই, ছেলে ভাগলবা।

বিয়েটা দিয়া করেছিল, মনটা ব্যাজার হয়ে ছিল কিন্তু মুখে হাসিটা ধরে রেখেছিল, সাজগোজের ও কমতি ছিল না, আরে বাবা বিয়ে নিয়ে পরে ভাবা যাবে, কিন্তু ফেসবুকের জন্য ভালো ছবিগুলো তো খুবই জরুরি। হাসি মুখে বিয়ে থেকে বউভাত অব্দি ছবির তুলে তুলে যখন শেষে ফুলসজ্জা উপস্থিত দিয়া তো ভেবেই পাচ্ছিলো না ইমনকে কি বলবে। রাতে ইমন ঢুকতেই দিয়া বলা শুরু করল, “দেখ, আমার তোমায় একদম পছন্দ না, তুমি কিন্তু একদম আমার কাছে আসার চেষ্টাও করবে না, নেহাত দাদু আবদার জুড়ল তাই তোমায় বিয়ে করলাম, নাহলে তোমার মত হাঁদা গঙ্গারাম মার্কা ছেলেকে কখনো আমি বিয়ে করি! যাক গে, তুমি এখন থেকে ওই সোফাটায় সুয়, আমি এই বিছানাতেই ঘুমবো, বলে দিলাম পরিস্কার।” এক নিঃশ্বাসে কথা শেষ করে একটা বড় শ্বাস নিলো দিয়া। ইমন শুধু হেসে বলেছিলো, “বেশ কথা। তা হাঁদা গঙ্গারাম মার্কা বন্ধুতে আপত্তি নেই তো কোনো আশা করি।” দিয়া একটু অবাক হয়ে বলেছিল, “হ্যাঁ, সে বন্ধু তো হওয়াই যায়, তোমায় ফেসবুকেও অ্যাড করে নি তাহলে।” ইমন উত্তরে শুধু হেসেছিল।

একমাসে বন্ধুত্ব জমে গিয়েছিলো দিয়া আর ইমনের, সপ্তাহান্তে এখান ওখান বেড়ানো, আড্ডা, খাওয়া দাওয়া। কাল তেমনই একটা রবিবার ছিল, আর খেতে খেতেই দিয়া বলে ফেলল, “এই জানো তো, কাল আমার জন্মদিন।” ইমন বলল, “জানি তো, যেদিন তোমায় দেখতে গিয়েছিলাম প্রথম সেদিন থেকেই জানি।” দিয়া খানিকটা মুখ বেঁকিয়ে বলল, “ওসব বাজে কথা রাখো, নিশ্চয়ই ফেসবুক থেকে জেনেছো। আমায় প্রতিবার জন্মদিনে কতজন উইশ করে জানো!” ইমন শুধু হেসে বলেছিল, “ফেসবুক থেকে জন্মদিনটা তুলে দিয়ে দেখো তো কে কে তোমায় উইশ করে! কার মনে আছে তোমার জন্মদিন!”

আইডিয়াটা খুব মনে ধরেছিল দিয়ার, সত্যিই তো, তার এতো বন্ধু, কে কে ওকে সত্যি সত্যি মিস করে, মনে রাখে জানতে হবে না! তাই কালই টুক করে উড়িয়ে দিয়েছিল জন্মদিনটা। সেই রাত বারোটা থেকে অপেক্ষা করেই যাচ্ছে, এতদিনের প্রিয় বন্ধু নিশা, সেও ভুলে গেল আজকের দিনটা, মনটাই খারাপ হয়ে গেল দিয়ার। অপেক্ষা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে গেছে বোঝেইনি, সকালে চোখ খুলে চিনতেই পাঁচ মিনিট লাগলো যে কোন ঘরে আছে, পুরো ঘর রঙিন হয়ে, লাল বেলুনে কিন্তু সারপ্রাইজ তখনও বাকি ছিল। পায়ে পায়ে নিচে নেমে এলো দিয়া, চারিদিকে কতো বেলুন, যেন বাচ্চা কারোর জন্মদিন। নিচে কেউ নেই, কোথাও কেউ নেই, দিয়ার অস্বাস্তি হতে লাগলো, আর তারপরই আওয়াজ বেলুন ফাটার, সাথে একসাথে সবার সেই চেনা গান, “হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থ ডে ডিয়ার দিয়া, হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ।” ক্ষণিকের অবাক হওয়া কাটিয়ে চারপাশে দেখল, মা-বাবা, কাকু কাকিমা মানে ইমনের মা-বাবা আর দিয়ার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড নিশা। নিশাকে দেখেই একরাশ অভিমান এলো দিয়ার, বলল, “তুইও আমার জন্মদিনটা ভুলে গেলি?” নিশা মুচকি হেসে বলল, “বাকিরা হয়তো সত্যি ভুলে গেছে, কিন্তু আমায় তোর এই শ্রীমান বর বাবাজী মানা করেছিল ফোন করতে, সকালে সারপ্রাইজ দেবে বলে।ও তোকে সত্যিই ভালবাসে রে, ওকে এরকম দূরে সরিয়ে রাখিস না।” দিয়ার চোখে জল এসে গেল, সত্যিই তো ইমনকে সেও ভালোবেসে ফেলেছে কখন নিজের অজান্তে, নিজেই বোঝেনি। পায়ে পায়ে কখন ইমনও দিয়ার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে দিয়া বুঝতেই পারেনি। ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে, ইমনকে দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারলো না দিয়া, ইমনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল হু হু করে। এই প্রথম দিয়া একটা অন্যরকম জন্মদিন উপহার পেল, ফেসবুকের বাইরে, শুধু আপনজনদের নিয়ে, আর সাথে একটা ভালোবাসার মানুষকেও।



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.