x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

নিয়াজ উদ্দিন সুমন

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
হোটেল বয়
ছেলে নীরব কে নিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য মনজু সাহেব প্রবেশ করলেন নিরিবিলি হোটেলে। আশে-পাশে অন্যসব হোটেলের চেয়ে নিরিবিলি হোটেলের খাবারের মান ভালো দাম ও হাতের নাগালের মধ্যে। দোকানের জন্য কাপড় কিনতে প্রায় চট্টগ্রামের বড় পাইকারী বাজার টেরিবাজারে আসেন তিনি। আজও এসেছেন নতুন কাপড় কিনতে। গ্রাম থেকে সকাল বেলা আসলে যাচাই-বাছাই করে কাপড় কেনাকাটা শেষ করতে প্রায় বিকেল হয়ে যায়। যার ফলে খাবারের পর্ব হোটেলে সেরে নিতে হয়।

দোকান প্রায় ফাঁকা। দুপুর গড়িয়ে যাওয়ায় ক্রেতার ভিড় কমে গেছে অনেকখানি। বয় অর্ডার মতো গরুর ভুনা মাংস, মুরগির কলিজা দিয়ে মুগডাল, লাউ-আলু দিয়ে সবজি আর সিদ্ধ চালের সাদা ভাত খাবার টেবিলে দিয়ে গেছে। বেসিন থেকে হাত-মুখ ধুয়ে এসে বাপ-বেটা খাওয়া শুরু করলেন।

বয়স বার-তের বছরের বেশি হবে না। পাশের টেবিলে ভাত নিয়ে খেতে বসেছে। ছেলেটির চোখে-মুখে অন্যরকম আদুরে ভাব। এই হোটেলে এর আগে ছেলেটিকে দেখেনি মনজু সাহেব। হাসিমুখে তিনি ছেলেটিকে কাছে ডাকলেন। তাদের পাশে বসালেন। ওর নাম করিম। বাড়ি লক্ষীপুর। সংসারে অভাব-অনটনের কারনে পঞ্চম শ্রেণী পাশ না করে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সে। হোটেলে চাকরি নিয়েছে দু’সপ্তাহ হল। গ্রামের পরিচিত এক বড় ভাই চাকরিটা ঠিক করে দিয়েছে। তিনি পাশের মার্কেটে ইলেকট্রিক দোখানে চাকরি করেন। খাওয়া-দাওয়া ও থাকা সহ মাসিক বেতন তিন হাজার পাচঁশত টাকা।

মনজু সাহেব লক্ষ্য করলেন তার খাবারের বাসনের দিকে। শুধু মাত্র সবজি আর শশার সালাদ আছে। হোটেলে প্রতিদিন বিভিন্ন পদের খাবার রান্না করা হয়। বেশির ভাগ সময় তাদের খেতে দেওয়া হয় শাক-সবজি ও ডাল জাতীয় খাবার। ছেলেটি প্রথমে নিতে চাইনি। মনজু সাহেব জোর করে পেয়ালা থেকে ভুনা মাংস ও মুগডাল তুলে দিলেন তার পাতে। এমন আান্তরিক ভালোবাসায় করিম অবাক হল। বর্ষাকালে কচুপাতার উপর জমে থাকা বৃষ্টির পানির মতো তখন আনন্দে চোখে জল এসে টলমল করছিল তার ।

নামী-দামী ব্রান্ড হোটেল-মোটেলেরে ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। লোকাল কমদামী হোটেল বয়দের সাথে ভাল ব্যবহার করে সচরাচর এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। হোটেলে চাকরি মানে সারাদিনের কাজের চাপ, মালিকের বকাঝকা আর হরেক কিছিমের মানুষের সাথে নিত্য পেছালে খিটখিটে মেজাঝ। এতে করে হোটেল বয়দের ক্রেতাদের প্রতি রুক্ষ ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। কাস্টোমারদের ও বয়দের উপর অসন্তুষ্টি মনোভাব প্রকাশ পায়।



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.