সৌরভ মজুমদার

সৌরভ মজুমদার
 রস-কষ-শিঙাড়া-বুলবুলি ও বোহেমিয়ান  

কফি হাউস টানে নি সেভাবে কোনোদিন।  আমাকে টানে না। আর কখনও
যদি গিয়ে পরি নন্দন চত্বর, সদন বা অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গন।  শুরু হয় প্রাণপণ
ইচ্ছের সাথে দাড়িয়াবান্ধা খেলা, যখন তখন। পড়িমরি ঘরে ফেরা। কড়িকাঠ হীন
আমার রস-কষ শূন্য চারদেয়াল। আকাশ পাতাল। দিনের পর দিন, রাত । আজও ।

বারদুয়ারীর হাউস অফ কমন্স, লর্ডস, খালাসিটোলা হ’য়ে শহরতলির ছাদ -
টানেনি আমায়, কোনো অছিলায়। বিশুদ্ধ বাংলায়, সোচ্চারে, মুখোমুখি হইনি বিবেকের
তোমার। আমারও। এও তো ফ্যালনা নয় বরং উলটোরথে চড়ে, বেহিসেবের  
লাগাম পরানো। বেশ বেশিরকমের ভালো। তবে, মানসিক বোহেমিয়ান আমিও।

বাবুঘাট, নিতান্ত কাজে ছাড়া যাইনি কখনও। বইমেলা ফেরা বাসগুমটি আথবা ইনডোর
ফেরত। আউটডোরও। শহরের কোনো অংশ ছইফেলা ছিলনা আমার এতটুকু খোলা
প্রথম খুলেছিলাম মেও রোড, বালিগঞ্জ ট্রামডিপো তারপর চায়ের দোকান, শিঙাড়া, কেওরাতলা।
কথার দাহ। সৎকার নিয়ে পাশাপাশি বসে থাকা। নির্বাক। জেনে রেখো, বোহেমিয়ান আমিও।  

নেশারা ঘুরে ঘুরে ফিরে গেলে তমালতলায়, জয়দেবের মেলায়, রাতের থালায় গানধরা
হাতে হাতে। গরম খিচুড়ি আর লালপাহাড়ি। স্বকণ্ঠে অরুণদা, ঘুরতে ঘুরতে অজয়ের চরে ।
বাসের মাথায় লোকায়ত ঝুমুর। সেই সব দিনরাত্রি নিয়ে বসত ক’রে বহুদিন ধ’রে,
বলেছিলাম থেকে যাও। থেকে গেলে, ঘরপোড়া তুমি, ভালবেসে সব টুকু নিয়ে, দিয়ে তোমার -

এই সব দিন রাত্রিতে, পাকা ধানক্ষেতে তাই আর বুলবুলি খুঁজি না। বোহেমিয়ান আমি।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সুচিন্তিত মতামত দিন

নবীনতর পূর্বতন