x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

শৈলেন চৌনী

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | |
ভাষা দিবস
মানুষের তথা সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে ২১শে ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। মাতৃভাষা প্রেমী সকল মানুষের শপথের, সংগ্রামের এবং সফলতার এক উজ্জ্বল নিশান। আজকের এই দিনে (২১শে ফেব্রুয়ারি) মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা জানানো এবং মাতৃভাষার প্রতি মর্যাদা রক্ষার প্রতিজ্ঞা করার দিন।

১৯৫২সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানীতে অর্থাৎ ঢাকাতে একটি স্মরণীয় ঘটনা ঘটে। মাতৃভাষাকে যথাযথ মর্যাদা দানের জন্য যাদের নাম শহীদের প্রথম দিকে উচ্চারিত হয় তারা হলেন-বরকত, রফিক, সালাম, জব্বার, শফিউর রহমান প্রমুখ।   উর্দু ভাষাকে রাস্ট্র ভাষা করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে উত্তাল বাংলার সমগ্র ছাত্র সমাজের পাশাপাশি আরো অনেকেই পুলিশের গুলিতে প্রান হারান। মাতৃভাষাকে প্রানদান করার জন্য, যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার জন্য এই দৃষ্টান্তমূলক লড়াই, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাভাব সম্পন্ন সমগ্র মানুষের হৃদয় বিদারিত করে।

রক্তে রাঙানো এই একুশে ফেব্রুয়ারির অনুপ্রেরণা সঞ্চারিত হয় সকল পূর্ব পাকিস্তানী মানুষের মধ্যে। তুমুল ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি পায় বাংলা ভাষা। তারপর এই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে আরও আন্দোলন সংগঠিতর মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। তাঁর ও গৌরবময় ইতিহাস আমরা অবগত।

ভারতবর্ষ দিখন্ডীত হয়েছিল ১৯৪৭সালে স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে। জন্ম হয়েছিল নতুন রাস্ট্র পাকিস্তান। পাকিস্তানের অংশ দুটি হল পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান। তখনও বাংলা ভাগ হয়নি, তখন পূর্ব দিকের ৬২ভাগ নিয়ে গঠিত হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান। এবং পশ্চিম পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল পাঞ্জাবের পশ্চিম অংশকে নিয়ে। পশ্চিম পাকিস্তানের আয়তনূ বড়ো হলেও পশ্চিম পাকিস্তানের থেকে পূর্ব পাকিস্তানের লোক সংখ্যা ছিল বেশি। এবং শতকরা ৯৮শতাংশ মানুষই ছিল বাংলাভাষী। সেই হেতু দেশ বিভাগের পূর্বে ডঃ মহম্মদ শাহিদুল্লাহর মতো পন্ডিত ব্যাক্তি বাংলা ভাষাকেই পাকিস্তানের ভাষা করা উচিত বলে দাবী জানিয়েছিলেন। ১৯৪৬সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের রাস্ট্র ভাষা বাংলাকেই ঘোষনা করা হয়।কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। পশ্চিম পাকিস্তানি উর্দুভাষী রাস্ট্র প্রধানদের ইচ্ছানুসারে পশ্চিম পাকিস্তানের মতো পূর্ব পাকিস্তানেও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র,শিক্ষক এবং বিভিন্ন মানুষেরা প্রথম থেকেই সোচ্চার হন। ১৯৪৮সালের জানুয়ারি মাসে একটি পরিষদ গঠিত হয় বাংলাকে রাস্ট্রভাষা করার দাবিতে।এই পরিষদের অর্থাৎ "রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ" দাবি জানিয়েছিল যে পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত স্তরে স্বীকৃতি পাবে বাংলা ভাষা। এবং উর্দুর সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাষাও হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান জানিয়ে দেন যে,বাংলা নয় উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এতে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন আরও তীব্রতর হতে থাকে।

১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি সরকারি পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। ঘোষনার পরে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালী জনগণ,বাংলাভাষীরা বৃহত্তর আন্দোলনে পা বাড়ান। চারিদিকে শুরু হয় বিক্ষোভ,আন্দোলন,ধর্মঘট। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদের পক্ষ থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত করার সিদ্ধান্তে গৃহীত হয়।এই দিনের পূর্বে পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডাক দেওয়া হয় ধর্মঘটের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে একটি প্রতিবাদী সভার আয়োজন করা হয়।এদিকে আগের দিন এই সভার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা না মেনে সব ছাত্ররা রাস্তায় প্রতিবাদী মিছিলে পা বাড়ান। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করার জন্য পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছাড়ে, তাতে ছাত্রদল পিছু না হটায় পুলিশবাহিনী নির্মম ভাবে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বরাকত,রফিক, সালাম, জব্বার ও শফিউর রহমানেরা।

অবশেষে, ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী যে চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বাঙালীরা বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল তা বাংলাদেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করেছিল।

মাতৃভাষার জন্য এই কালজয়ী আন্দোলন ও আত্ম বলিদানের কথা স্মরণ করে  ইউনেস্কোর (UNESCO) পক্ষ থেকে ১৯৯৯ সালের ১৭ ই নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস সম্মেলনে ২১ শে ফেব্রুয়ারীকে "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সহযোগী দেশসমূহে পালন হয়ে আসছে। ২০১০ সালের ২১ শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ৬৫ তম অধিবেশনে এ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাস হয় এবং তখন থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় ১১৩ টি দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.