x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

শৈলেন চৌনী

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ |
 নিরাশার পোস্টাল অর্ডার
একটা পোস্টাল অর্ডার দিন তো! 

সযত্নে রাখা ময়লা দুখানা সবুজ নোট বাড়িয়ে দেয় ছেলেটি পোস্ট অফিসের কাঁচের আড়ালে থাকা সরকারী প্রতিনিধির দিকে। দরখাস্ত... ইন্টারভিউ... প্রতীক্ষা,..রোল নম্বর দেওয়া কাগজটি পকেটে ভরে মলিন মুখে বাড়ি ফেরা। রোগগ্রস্ত বাবা, অসহায় মা।বিয়ে না হওয়া বড় দিদি।অসহায় দৃষ্টি  নিয়ে চেয়ে থাকে একমাত্র সম্বলের দিকে। দরখাস্ত আর পোস্টাল অর্ডারের ধাক্কায় ঘরের আসবাবপত্র একে একে বিক্রি হয়ে গেছে।ক্ষীণ আলোর সন্ধানে।

পাবে? পয়সার অভাবে বাবার চিকিৎসা করাতে পারছে না।মায়ের পরনে ময়লা শত ছিন্ন  শাড়ি,পনের জন্য দিদির বিয়ে দিতে পারছে না.. দোষ কার? 

বিজ্ঞাপন -৫০০লোক নেওয়া হবে।৪০টাকার পোস্টাল অর্ডার সহ ১৫দিনের মধ্যে আবেদন পূরন করুন। এম এ  পাশ ছেলেটি ছুটে যায় তার বাবার কাছে।বাবার ঘোলাটে চোখে অসহায় দৃষ্টি দেখে, কিছুই বলতে পারে না। চোখ দিয়ে জল পড়ে। মা হাত থেকে খুলে দেয় তাঁর শেষ সম্বল শাশুড়ির দেওয়া বালিখানি।

ছেলেটি পরীক্ষা দেয়। ভালোভাবে পাশও করে। ইন্টারভিউ এর জন্য ডাক পড়ে। ছেলেটির মধ্যে আশা জাগে, মা বাবা অতল অন্ধকারের মধ্যেও ক্ষীণ আলোর রেখা দেখতে পান। দিদির মনে দেখা দেয় তার হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন।

অবশেষে এসে গেল সেই দিন। সমস্ত প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে ছেলেটি পা রাখল ইন্টারভিউ দরজার শেষ পাদানিতে। হঠাৎ একটা আর্ত চিৎকার। আপনি বিশ্বাস করুন এই চাকরিটা আমার বিশেষ প্রয়োজন।এই চাকরিটা না পেলে আমাদিগকে  না খেয়ে মরতে হবে ...

... হল না। সমস্ত আশা নিরাশায় পরিনত হল।

কিন্তু কেন? 

বাস্তবের কঠিন আঘাতে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল সমস্ত আশা-স্বপ্ন। মাকড়সার জালের মতো রঙিন স্বপ্নে জাল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। মায়ের দেখা আলো দূরে সরে গেল। গলায় হতাশার সুর-খোকা, এবারেও হল না।

পরের দিন খোকার আর ঘুম ভাঙেনি দরজা ভেঙে দেখে খোকার ঝুলন্ত দেহ। হাতের মুঠোর ভিতর একখণ্ড কাগজ। সেখানে লেখা ...

''আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী কে??''



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.