x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

শৈলেন চৌনী

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
 নিরাশার পোস্টাল অর্ডার
একটা পোস্টাল অর্ডার দিন তো! 

সযত্নে রাখা ময়লা দুখানা সবুজ নোট বাড়িয়ে দেয় ছেলেটি পোস্ট অফিসের কাঁচের আড়ালে থাকা সরকারী প্রতিনিধির দিকে। দরখাস্ত... ইন্টারভিউ... প্রতীক্ষা,..রোল নম্বর দেওয়া কাগজটি পকেটে ভরে মলিন মুখে বাড়ি ফেরা। রোগগ্রস্ত বাবা, অসহায় মা।বিয়ে না হওয়া বড় দিদি।অসহায় দৃষ্টি  নিয়ে চেয়ে থাকে একমাত্র সম্বলের দিকে। দরখাস্ত আর পোস্টাল অর্ডারের ধাক্কায় ঘরের আসবাবপত্র একে একে বিক্রি হয়ে গেছে।ক্ষীণ আলোর সন্ধানে।

পাবে? পয়সার অভাবে বাবার চিকিৎসা করাতে পারছে না।মায়ের পরনে ময়লা শত ছিন্ন  শাড়ি,পনের জন্য দিদির বিয়ে দিতে পারছে না.. দোষ কার? 

বিজ্ঞাপন -৫০০লোক নেওয়া হবে।৪০টাকার পোস্টাল অর্ডার সহ ১৫দিনের মধ্যে আবেদন পূরন করুন। এম এ  পাশ ছেলেটি ছুটে যায় তার বাবার কাছে।বাবার ঘোলাটে চোখে অসহায় দৃষ্টি দেখে, কিছুই বলতে পারে না। চোখ দিয়ে জল পড়ে। মা হাত থেকে খুলে দেয় তাঁর শেষ সম্বল শাশুড়ির দেওয়া বালিখানি।

ছেলেটি পরীক্ষা দেয়। ভালোভাবে পাশও করে। ইন্টারভিউ এর জন্য ডাক পড়ে। ছেলেটির মধ্যে আশা জাগে, মা বাবা অতল অন্ধকারের মধ্যেও ক্ষীণ আলোর রেখা দেখতে পান। দিদির মনে দেখা দেয় তার হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন।

অবশেষে এসে গেল সেই দিন। সমস্ত প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে ছেলেটি পা রাখল ইন্টারভিউ দরজার শেষ পাদানিতে। হঠাৎ একটা আর্ত চিৎকার। আপনি বিশ্বাস করুন এই চাকরিটা আমার বিশেষ প্রয়োজন।এই চাকরিটা না পেলে আমাদিগকে  না খেয়ে মরতে হবে ...

... হল না। সমস্ত আশা নিরাশায় পরিনত হল।

কিন্তু কেন? 

বাস্তবের কঠিন আঘাতে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল সমস্ত আশা-স্বপ্ন। মাকড়সার জালের মতো রঙিন স্বপ্নে জাল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। মায়ের দেখা আলো দূরে সরে গেল। গলায় হতাশার সুর-খোকা, এবারেও হল না।

পরের দিন খোকার আর ঘুম ভাঙেনি দরজা ভেঙে দেখে খোকার ঝুলন্ত দেহ। হাতের মুঠোর ভিতর একখণ্ড কাগজ। সেখানে লেখা ...

''আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী কে??''



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.