x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

শৈলেন চৌনী

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
 নিরাশার পোস্টাল অর্ডার
একটা পোস্টাল অর্ডার দিন তো! 

সযত্নে রাখা ময়লা দুখানা সবুজ নোট বাড়িয়ে দেয় ছেলেটি পোস্ট অফিসের কাঁচের আড়ালে থাকা সরকারী প্রতিনিধির দিকে। দরখাস্ত... ইন্টারভিউ... প্রতীক্ষা,..রোল নম্বর দেওয়া কাগজটি পকেটে ভরে মলিন মুখে বাড়ি ফেরা। রোগগ্রস্ত বাবা, অসহায় মা।বিয়ে না হওয়া বড় দিদি।অসহায় দৃষ্টি  নিয়ে চেয়ে থাকে একমাত্র সম্বলের দিকে। দরখাস্ত আর পোস্টাল অর্ডারের ধাক্কায় ঘরের আসবাবপত্র একে একে বিক্রি হয়ে গেছে।ক্ষীণ আলোর সন্ধানে।

পাবে? পয়সার অভাবে বাবার চিকিৎসা করাতে পারছে না।মায়ের পরনে ময়লা শত ছিন্ন  শাড়ি,পনের জন্য দিদির বিয়ে দিতে পারছে না.. দোষ কার? 

বিজ্ঞাপন -৫০০লোক নেওয়া হবে।৪০টাকার পোস্টাল অর্ডার সহ ১৫দিনের মধ্যে আবেদন পূরন করুন। এম এ  পাশ ছেলেটি ছুটে যায় তার বাবার কাছে।বাবার ঘোলাটে চোখে অসহায় দৃষ্টি দেখে, কিছুই বলতে পারে না। চোখ দিয়ে জল পড়ে। মা হাত থেকে খুলে দেয় তাঁর শেষ সম্বল শাশুড়ির দেওয়া বালিখানি।

ছেলেটি পরীক্ষা দেয়। ভালোভাবে পাশও করে। ইন্টারভিউ এর জন্য ডাক পড়ে। ছেলেটির মধ্যে আশা জাগে, মা বাবা অতল অন্ধকারের মধ্যেও ক্ষীণ আলোর রেখা দেখতে পান। দিদির মনে দেখা দেয় তার হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন।

অবশেষে এসে গেল সেই দিন। সমস্ত প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে ছেলেটি পা রাখল ইন্টারভিউ দরজার শেষ পাদানিতে। হঠাৎ একটা আর্ত চিৎকার। আপনি বিশ্বাস করুন এই চাকরিটা আমার বিশেষ প্রয়োজন।এই চাকরিটা না পেলে আমাদিগকে  না খেয়ে মরতে হবে ...

... হল না। সমস্ত আশা নিরাশায় পরিনত হল।

কিন্তু কেন? 

বাস্তবের কঠিন আঘাতে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল সমস্ত আশা-স্বপ্ন। মাকড়সার জালের মতো রঙিন স্বপ্নে জাল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। মায়ের দেখা আলো দূরে সরে গেল। গলায় হতাশার সুর-খোকা, এবারেও হল না।

পরের দিন খোকার আর ঘুম ভাঙেনি দরজা ভেঙে দেখে খোকার ঝুলন্ত দেহ। হাতের মুঠোর ভিতর একখণ্ড কাগজ। সেখানে লেখা ...

''আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী কে??''



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.