x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

রুমকি রায় দত্ত

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ |
দেওঘর, বৈদ্যনাথ আর আমরা দুজনঃ
দেওঘর, বৈদ্যনাথ আর আমরা দুজনঃ শেষপর্বঃ

মন্দিরের সামনে থেকে বাম দিকে সোজা হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম এক ছায়া ঘেরা বনবীথিতে। চারিদেকে স্নিগ্ধ সবুজ। সামনে তাকিয়ে দেখলাম শ্বেতশুভ্র এক মন্দির। স্বামী বালানন্দ মহারাজের মন্দির। শ্বেত পাথরের ব্লক সাজিয়ে তৈরি এই মন্দিরের দরজায় বসানো রুপোর পাত। সামনে সাজানো শীতের বাহারি ফুল। মন চায়লো ছবি তুলে রাখি এমন সুন্দর এক পরিবেশের। হঠাৎ নজরে পড়লো ফোটা তোলা নিষেধ।...মনটা খারাপ হয়ে গেল। সেই সুন্দর সৌন্দর্য অক্ষত রইলো স্মৃতিপটে। কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার পথচলা হোটেলের পথে। সারা দিনের ক্লান্তি, ঘরে ঢুকতেই সাদা চাদর পাতা টানটান বিছানার অমোঘ টান অনুভব করলাম। বিছানের সামনেই কাচের জানালা। বিকেলের পড়ন্ত রোদকে ঢেকে নামা এলো শ্রাবণ ধারা। কাচের জানালার গা বেয়ে তিরতির করে নেমে যাওয়া বৃষ্টি নদীর চলনেও রয়েছে অপার সৌন্দর্য। ন’টার দিকে রাতের খাওয়া সেরে একটা নিশ্চিন্তের ঘুম।

দেওঘরের প্রধান দর্শনীয় স্থান বাবা বৈদ্যনাথের মন্দির দর্শন। পরেরদিন শ্রাবণ সংক্রান্তি। এতদূর এসেছি পুজো না দিয়ে ফিরে যেতে মন চায় না। সকাল সকাল স্নান সেরে বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের হোটেল যাত্রিক থেকে মন্দির হাঁটা দূরত্বে। টাওয়ার চক থেকে ডানদিকে দুটো রাস্তা বেরিয়ে গেছে। বাঁদিকের রাস্তা ধরে কিছুদূর গেলেই শুরু মন্দিরে প্রবেশের আগের সব দোকানপাট। সেগুলো কোনো ধর্মীয় স্থানেরই নির্দশন বহন করে। প্রথমেই দেখলাম রাস্তার দু’ধারে দেওঘরের বিখ্যাত প্যাঁড়ার দোকান সারি বেঁধে রয়েছে। এরপর যত মন্দিরে ঢোকার গলিপথের দিকে এগোতে লাগলাম চোখে পড়তে লাগলো পুজোর বাসনের দোকান,ফুলের দোকান। নিরীহ গোবেচারা মুখের দালালদের পাশ কাটিয়ে গিয়ে পৌঁছালাম মন্দিরের সিংহ দরজার সামনে। সামনের একটা দোকান থেকে প্রসাদ কিনে নিজেরাই ঢুকলাম, যে দোকানে প্রসাদ নিলাম তারা বললো...ভিতরে গিয়ে দাঁড়ান আমাদের দোকানের লোক আছে দেখিয়ে দেবে সব, পয়সা লাগবে না। ভিতরে ঢুকে দেখলাম বিশাল লম্বা লাইন। মন্দিরের দরজা খুলবে দশটায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে লাইনে মানুষের চাপ বাড়তে লাগলো। মন্দিরের দরজা খোলার ঠিক আগেই দোকানের লোকটি এসে দাঁড়ালো, মেয়েদের আর ছেলেদের লাইন হবে আলাদা। উনি মন্দিরের ভিতরে আমাদেরকে খুঁজে নেবেন...।

সে এক আসম্ভব অভিজ্ঞতা যে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে জানা ছিল না। দরজা খুলতেই অনুভব করলাম, পা’দুটো আর আমার বসে নেই। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মত এগিয়ে চলেছে মন্দিরের দরজার দিকে। হাতে ধরা মাটির পাত্রটা কোনো রকমে দুহাতে আগলে ভিড়ের স্রোতে এগিয়ে চলতে চলতে অনুভব করলাম বুকে অসম্ভব চাপ। হাত দুটো উপরে তুলে ভাঁড়ে থাকা জলের তলানিটুকুকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে করতে দেখলাম মন্দিরের গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছি। নিচু ছাদ, ছোটো দরজা একসাথে দুজোন প্রবেশকরা দুষ্কর। পিছনের চাপে সুরুত করে গলে গেলাম ভিতরে। সামনেই রয়েছে সেই শিবলিঙ্গ। মাটি থেকে বিগত খানেক উঁচু।অজস্র মানুষের ফুল বেলপাতার নিচে ঢাকা পড়ে আছে। এত কষ্টে বয়ে আনা জল ঢালতে গিয়ে দেখি ভাঁড়খানাই গেছে ভেঙ্গে। ভাঙা অংশে খানিক জল রয়েছে তখনও। 

ভেবেছিলাম, দালালের চক্করে পড়বোনা। কিন্তু দেখলাম, পড়ে বসে আছি। কিভাবে?...।ওই দোকান থেকেই...। বেরোনোর পর শিবের উদ্দেশ্যে মন্ত্রপাঠ। গচ্চা গেল ২০০ টাকা।

বেরিয়ে এলাম মন্দির থেকে, পেটে ছুঁচোর ডন। হোটেলে ঢোকার মুখে ধোসার দোকানে পেট পুজো সেরে ঘরে ঢুকে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই চক্ষু ছানা বড়া। একি চেহেরা!...।শুকনো শাড়ি তো আগেই ভিজেছিল। কিন্তু চুল আর কপালের একি দশা! কপাল ভর্তি সিঁদুর, আর চুল পাখির বাসা যেন ভয়ংকর এক যুদ্ধ জয় করে ফিরলাম। পোশাক বদলে বেরিয়ে পড়লাম অনুকুল ঠাকুরের আশ্রমের উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ এলাকা জুড়ে সুন্দর সজানো এক নিঃস্তব্ধ পবিত্র স্থান। মনের সব অস্থিরতা কোথায় যেন হারিয়ে গেল আশ্রমে প্রবেশ করতেই। ঠিক সাড়ে তিনটের দিকে বেরিয়ে পড়লাম সূর্যাস্ত দেখতে টেগরহিল এর উদ্দেশ্যে। ছোট্ট একটা পাহাড়ি টিলা,সুন্দর করে সাজানো। বেশ অনেকটা সময় যেন কোথাদিয়ে পার হয়ে গেল।পড়ন্ত রোদে গা ভিজিয়ে সন্ধ্যের ঠিক মুহূর্তে টিলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলাম। আবার ফিরে চললাম হোটেলের পথে।

সন্ধ্যে হতেই কেমন যেন মন খারাপের সুর বেজে উঠলো, ফিরে যাওয়ার এসে গেছে। রাতটুকু এক অদ্ভূত ভালোলাগা আর মন খারাপ মেশানো অনুভুতিতে কেটে গেল। ভোর হতেই আবার প্যাকিং...ফিরতে হবে বাড়ি।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.