x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ০১, ২০১৭

রুমা ঢ্যাং

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ০১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
রুমা ঢ্যাং

 ছিটেফোঁটা বিষ ও বিষাদ যাপন 

(১)

জড়ুল মেঘে প্রাচীন সন্ধ্যা নামে
সূর্যাস্তের শরীর থেকে মুছে যেতে থাকে যাবতীয় আলপথ
সেকালের বাঁশির সুরে ধরেছে ঘুমানো রোগ
আমি শেষমেশ বেহালার সুরে খুঁজি
মাছেদের শোক

(২)

তুমি ব্যাস ব্যাসার্ধ মিলিয়ে ক্ষেত্রফল ও পরিধি মাপো
গাছেদের আত্মজীবনী থেকে বাকল ছিঁড়ে নিয়ে
মেষপালনকে গায়ে জড়িয়ে নিতে চাও
তারপর চিরপ্রেমিকের মত নদীর ঢালে বসে
বঁড়শিতে মাছেদের টোপ গাঁথো।
তবুও তোমার পরিধির বেড়ার - মজবুত বুননে ভাত ছাঁকতে গেলে
হাত পোড়ার সম্ভাবনা হয় প্রবল!


(৩)

ফুলেদের বিবৃতিতে দেখা যায় মাটিদের আহ্লাদ।
খসে যাওয়া পাপড়ি থেকে রংমহল সাজালেও
ধুলো পড়ে থাকে প্রজাপতি জন্মে।
পাশ ফিরে তাকিয়ে রয়েছি দূরে -- সূর্য নেই
তবুও চিলেকোঠা দেয়াল ডুবে আছে রোদস্নানে।
কাচের বাক্সে একে একে পুরে রাখছি বিষাদ,
কপালে জলছাপ রেখে কেটে যাচ্ছে সুনসান রাত্রিকাল।

বিকেলশেষে খুঁটে তুলি নিথর দিন,
আজ মনে হয় -- প্রতিশ্রুতির চেয়ে
                              দম্ভের নিশানা ভারী।


(৪)

ধুলোপায়ে যেতে যেতে যে পাখিটাকে এঁকে নিতে চেয়েছিলাম
সে আজ উড়ে গেছে অন্যদেশে
কিংবা কোন খাঁচায় নিয়মের অভ্যেস গড়ে নিচ্ছে
সেসব দিনে ক্লোরোফিল সাক্ষী আছে
ডালসমেত তাকে দিতে চেয়েছিলাম হ্যান্ডমেড পেপারের একখণ্ড সাদা জমি

প্রতিবেশীরা এখন তারই বুলি আওড়ে চলেছে,  শিখে নিচ্ছে পাখিদের ভাষা
গাছের গুঁড়ির কাছে বসে লিখে চলেছি গাছ ও পাখির কথা
আর জীবাশ্মের ভেতর হাতড়ে বেড়াচ্ছি নিওলিথিক যুগের অস্ত্র!


(৫)

সিগন্যাল কেটে সহজপাঠ শুরু হলে
এক ঘুমন্ত রাস্তা ও অদৃশ্য জানলার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি।
ফ্রেমওয়ার্কে নীরবচারী কিছু অপ্রাসঙ্গিক কথা আলপনা দিতে ব্যস্ত,
মায়াবী দেয়াল --
গুঁড়ো গুঁড়ো শব্দের ঝড়।
স্টেশন নির্জন হলে ফুটপাথও ঘুমিয়ে পড়ে সম্মেলনে;
জমে থাকা কথোপকথন ও
ঢিলছোঁড়া দূরত্বে থাকা ঢিপিগুলো
জেগে থাকে রাতের চাদর মুড়ে।
এই অনুভূতিহীন দেশ রোদকণায় জ্বলে থাকে
কেবলমাত্র পাঁজর পুড়ে গেলেই
অনুভূতিগুলো হয়ে পড়ে সংবেদনশীল
তখন ভালোবাসা শীতের রাতে লাল মোজা পড়ে!


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.