x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

রাবেয়া রাহীম

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
রাবেয়া রাহীম
২।

শনিবার সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস । অফিসে যাওয়ার তাড়া নেই, এটাই বড় কারন। রাতে না হওয়া ঘুম এই সকালেই পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করি। বিছানায় শুয়েই সেল ফোনে ম্যাসেজ বক্স চেক করি। যদি কখনো মনের ভুলে একটা ম্যাসেজ অর্নব করে ফেলে, অনর্থক এই ক্ষীণ আশাটি মনের কোনে ঘাপটি মেরে বসে থাকে রোজ। জানি এটা কখনোই সম্ভব না। তবুও মন কেন যে এভাবে চায়! হতচ্ছাড়া মন খুব যন্ত্রণায় রাখে। মনের উপর প্রচণ্ড বিরক্ত ভাব নিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে যাই। 

এ দেশের সব কাজ নিজেকেই করতে হয়। এখন বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি ঘরের কাজে। বাংলাদেশ থাকতে ঘরের কাজের জন্য লোক নেই এটা ভাবনাতেই যেন আনতে পারতাম না। বাংলাদেশ থাকতে ঘুম থেকে উঠার পর টেবিলে সাজানো খাবার দেখলেই মন ভালো হয়ে যেতো। ট্রেইনড কাজের লোক সব নিখুঁত ভাবেই করে রাখতো। তবে এ দেশে এমন লোক রাখতে হলে ঘন্টা হিসেবে মজুরি দিতে হবে। ডলার খরচার ভয়ে এমন ভাবনা বাদ দিতে হয়। এখন মনে হয় অন্যের করে দেওয়া কাজ আর পছন্দ হবেনা। আমি এখন বেশ গুছিয়েই ঘরের কাজ করতে শিখে ফেলেছি। বাংলাদেশের মানুষ খুব আয়েশ করে নাস্তা করতে পছন্দ করে। হাতে বানানো রুটি কয়েক রকমের সব্জী , ডাল ভুনা, পেয়াজ কাঁচা মরিচ দিয়ে ডিম ভাজা এমন নাস্তা করতেই অভ্যস্ত। কিন্তু এই দেশে আসার পর রোজকার জীবন যাপন যতটা সহজ করা যায় সে চেষ্টাই করতে হয়। 

আজ ঘুম থেকে উঠার পর শরীর বেশ ম্যাজ ম্যাজ করছে। নাস্তা করতেও অরুচি। কফির গন্ধ নাকে খুব কড়া লাগলো। এমন তো হয় না কখনো। এসিডিটি হবে এই ভাবনাতেই কফি বাদ দেই। সামান্য দুধ সিরিয়াল কোন রকম শেষ করি। হঠাৎ খুব ক্লান্তি পেয়ে বসে। 

ডিসেম্বরের শুরু। শীত জাঁকিয়ে বসার আয়োজন করে চলেছে। তবে এখনো তুষারপাত শুরু হয়নি। গাছের সব পাতা ঝরে গিয়েছে। গাছের দিকে তাকালে খুব রিক্ত আর নিঃস্ব লাগে ঠিক আমার মত। মানুষের সাথে গাছেদের খুব মিল খুঁজে পাই আজকাল। আচ্ছা যদি গাছ হয়ে জন্ম নিতাম তবে কি অর্নবকে হারানোর কষ্ট গায়ে লাগতো! অদ্ভুত ভাবনা! গাছেদের মনে কি ভালোবাসা থাকে? পরাগায়ন কি শুধুই ফল ধরার জন্য? পরাগায়নের সময় কি গাছেদের ভেতর কোনরকম ভালোবাসা হয়? কোন ভালেবাসার কথা? নানা রকম ভাবনাতে পেয়ে বসে এই সকালে। তার মানে আমার মন খুব বিক্ষিপ্ত । আমি কোন কিছুর সমাধান চাইছি। মানব জীবন পুরোটাই সমস্যার সার। কেমন করে সেখানে সমাধান আসবে? 

হাজারো প্রশ্ন মনে। কতজন মানুষ তার পছন্দের মানুষের সাথে জীবন কাটাতে পারে? কেউ কেউ অবশ্য খুঁজে পায় আবার কেউ পেয়ে হারায় আবার কেউ কখনোই পায় না। সারাজীবন খুঁজে বেড়ায় । আমি মাঝখানের দলে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। জীবনে প্রবল ভাবে কিছু চেয়ে হারিয়ে ফেলা, খুঁজে না পাওয়ার চেয়েও অধিকতর কষ্টের! মনের ভেতর আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে থাকলে তার জন্য অপেক্ষা থাকে। আর অপেক্ষা মানুষকে আশান্বিত করে তোলে । সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেক খোঁজার পর পেয়ে আবার হারিয়ে ফেলা অনেকটা মৃত্যু যন্ত্রণার মতই কষ্টের, এটাই আজকাল খুব বেশী অনুভুত হয়। হঠাৎ ফোনের রিং টোনে ভাবনাতেই ছেদ পরে। এলিনা আমার কলিগ। মেক্সিকোর মেয়ে। খুব আন্তরিক। আমার সব কিছুতেই সে এগিয়ে আসে। মেয়েটিকে আমি বিশেষ পছন্দ করি। সে-ই ফোন করেছে এই সকালে।

১ম পর্ব পড়ুন -


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.