x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

রাবেয়া রাহীম

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
রাবেয়া রাহীম
২।

শনিবার সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস । অফিসে যাওয়ার তাড়া নেই, এটাই বড় কারন। রাতে না হওয়া ঘুম এই সকালেই পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করি। বিছানায় শুয়েই সেল ফোনে ম্যাসেজ বক্স চেক করি। যদি কখনো মনের ভুলে একটা ম্যাসেজ অর্নব করে ফেলে, অনর্থক এই ক্ষীণ আশাটি মনের কোনে ঘাপটি মেরে বসে থাকে রোজ। জানি এটা কখনোই সম্ভব না। তবুও মন কেন যে এভাবে চায়! হতচ্ছাড়া মন খুব যন্ত্রণায় রাখে। মনের উপর প্রচণ্ড বিরক্ত ভাব নিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে যাই। 

এ দেশের সব কাজ নিজেকেই করতে হয়। এখন বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি ঘরের কাজে। বাংলাদেশ থাকতে ঘরের কাজের জন্য লোক নেই এটা ভাবনাতেই যেন আনতে পারতাম না। বাংলাদেশ থাকতে ঘুম থেকে উঠার পর টেবিলে সাজানো খাবার দেখলেই মন ভালো হয়ে যেতো। ট্রেইনড কাজের লোক সব নিখুঁত ভাবেই করে রাখতো। তবে এ দেশে এমন লোক রাখতে হলে ঘন্টা হিসেবে মজুরি দিতে হবে। ডলার খরচার ভয়ে এমন ভাবনা বাদ দিতে হয়। এখন মনে হয় অন্যের করে দেওয়া কাজ আর পছন্দ হবেনা। আমি এখন বেশ গুছিয়েই ঘরের কাজ করতে শিখে ফেলেছি। বাংলাদেশের মানুষ খুব আয়েশ করে নাস্তা করতে পছন্দ করে। হাতে বানানো রুটি কয়েক রকমের সব্জী , ডাল ভুনা, পেয়াজ কাঁচা মরিচ দিয়ে ডিম ভাজা এমন নাস্তা করতেই অভ্যস্ত। কিন্তু এই দেশে আসার পর রোজকার জীবন যাপন যতটা সহজ করা যায় সে চেষ্টাই করতে হয়। 

আজ ঘুম থেকে উঠার পর শরীর বেশ ম্যাজ ম্যাজ করছে। নাস্তা করতেও অরুচি। কফির গন্ধ নাকে খুব কড়া লাগলো। এমন তো হয় না কখনো। এসিডিটি হবে এই ভাবনাতেই কফি বাদ দেই। সামান্য দুধ সিরিয়াল কোন রকম শেষ করি। হঠাৎ খুব ক্লান্তি পেয়ে বসে। 

ডিসেম্বরের শুরু। শীত জাঁকিয়ে বসার আয়োজন করে চলেছে। তবে এখনো তুষারপাত শুরু হয়নি। গাছের সব পাতা ঝরে গিয়েছে। গাছের দিকে তাকালে খুব রিক্ত আর নিঃস্ব লাগে ঠিক আমার মত। মানুষের সাথে গাছেদের খুব মিল খুঁজে পাই আজকাল। আচ্ছা যদি গাছ হয়ে জন্ম নিতাম তবে কি অর্নবকে হারানোর কষ্ট গায়ে লাগতো! অদ্ভুত ভাবনা! গাছেদের মনে কি ভালোবাসা থাকে? পরাগায়ন কি শুধুই ফল ধরার জন্য? পরাগায়নের সময় কি গাছেদের ভেতর কোনরকম ভালোবাসা হয়? কোন ভালেবাসার কথা? নানা রকম ভাবনাতে পেয়ে বসে এই সকালে। তার মানে আমার মন খুব বিক্ষিপ্ত । আমি কোন কিছুর সমাধান চাইছি। মানব জীবন পুরোটাই সমস্যার সার। কেমন করে সেখানে সমাধান আসবে? 

হাজারো প্রশ্ন মনে। কতজন মানুষ তার পছন্দের মানুষের সাথে জীবন কাটাতে পারে? কেউ কেউ অবশ্য খুঁজে পায় আবার কেউ পেয়ে হারায় আবার কেউ কখনোই পায় না। সারাজীবন খুঁজে বেড়ায় । আমি মাঝখানের দলে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। জীবনে প্রবল ভাবে কিছু চেয়ে হারিয়ে ফেলা, খুঁজে না পাওয়ার চেয়েও অধিকতর কষ্টের! মনের ভেতর আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে থাকলে তার জন্য অপেক্ষা থাকে। আর অপেক্ষা মানুষকে আশান্বিত করে তোলে । সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেক খোঁজার পর পেয়ে আবার হারিয়ে ফেলা অনেকটা মৃত্যু যন্ত্রণার মতই কষ্টের, এটাই আজকাল খুব বেশী অনুভুত হয়। হঠাৎ ফোনের রিং টোনে ভাবনাতেই ছেদ পরে। এলিনা আমার কলিগ। মেক্সিকোর মেয়ে। খুব আন্তরিক। আমার সব কিছুতেই সে এগিয়ে আসে। মেয়েটিকে আমি বিশেষ পছন্দ করি। সে-ই ফোন করেছে এই সকালে।

১ম পর্ব পড়ুন -


Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.