x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

মন্দিরা ঘোষ

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
আত্মজা
তুই যখন এলি একটা প্লাবন এল জানিস! বাতাসের গা বেয়ে ধানক্ষেতের ঢেউ তোলা সবুজ আঁচল ছুঁয়ে যেন উৎসব নামল আমার দোর গোড়ায়। সাঁঝের আলোয় ঝলমল করে উঠল অন্তঃপুরের ঝাড়বাতি। সেদিন আমার সঙ্গী হল অন্ধকারের উষ্ণতা, আমার ভালবাসার শুকতারা, শ্রাবণের অঝোর বৃষ্টিধারা আর দূরের ঐ পাহাড় মেঘ আকাশ।

তুই থাকতে এলি এমন চুপিসারে জানলনা না কেউ। জানল শুধু সেই সন্ধিক্ষণের আগুনশিখা, বর্ষার সজল মেঘ আর জ্যোৎস্না রাতের মায়াভরা আকাশ।

জানলার পাশে চড়াই আর কাঠবিড়ালির কিচির মিচির জানিয়ে দিল ওরা জেনে ফেলেছে তোর আসার গোপন খবরটুকু।

কোনদিন মাঝরাতের তারারা চুপি চুপি মায়া ছড়াতে এলে জানলা খুলে ছুঁয়ে ফেলতাম সেই সুখ আর আনন্দ- ইশারার হাতছানি। তোর জন্য বাঁচিয়ে রাখতাম মুঠোভরা তারার আলো, আর জোনাকি পোকার সুন্দর তা তুলে এনে ভরে দিতাম তোর বুকে। তুই চুপটি করে দেখতিস, হয়তো খুব মজা পেতিস। আমরা দুজনে কবে জানি একে অপরের অস্তিত্বে মিশে একে একে ক্ষিদে, দুঃখ, সুখ ভাগ করলাম, এমন কি শ্বাসও। শরীরে শরীর পেতে ভাগ করলাম সব যন্ত্রণা। তুই লেপ্টে থাকতিস আমার বুকের ভিতর সব উত্তাপ শুষে নিয়ে।

আস্তে আস্তে আমাদের নিজস্ব পৃথিবী গড়লাম; জ্ঞানবুদ্ধি বিবেক রাখলাম পথের ওপর, ঈশ্বরীয় করুণার আলো জ্বেলে দিলাম অন্ধকার কে দূরে রাখতে। তোর চোখে ভরে দিলাম শরতের শিশির ভেজা রোদ, টুকরো স্বপ্নের রামধনু রঙ, চড়াই পাখির চঞ্চলতা, পুকুরের কালো জলের গভীরতা আর দূরের ঐপাহাড় পাহাড় মেঘের অনঘ সরলতা। পিঠে দিলাম সোনালি পাখনা যাতে নীল ভেঙ্গে ভেঙ্গে ছুঁয়ে ফেলতে পারিস চাঁদের অপরূপ স্তব্ধতা। বুকের মধ্যে রাখলাম চাঁপাফুলের সৌরভ, রক্তে ভাসিয়ে দিলাম আত্মগর্বী চেতনার নির্যাস। চোখ মেললি তুই এক বৈশাখী রাতের নৈশব্দ ভেঙ্গে আমার অন্তরের সব আলো জ্বেলে দিয়ে।

আজ অনেকদিন পর যখন আলাদা হল শরীরের চেতনা, অনেক প্রশাখায় বিভক্ত হল ভাবনার ডালপালা, বর্তমানের রুক্ষতায় পা ফেলার বাস্তবতা মান্যতা পেল, তখন এই অক্ষম চোখের ছায়া পথের আদ্রতায় শুধুই নুয়ে পড়া অসহায়তার সীমাহীন কালাতিপাত। 


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.