x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

মন্দিরা ঘোষ

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ |
আত্মজা
তুই যখন এলি একটা প্লাবন এল জানিস! বাতাসের গা বেয়ে ধানক্ষেতের ঢেউ তোলা সবুজ আঁচল ছুঁয়ে যেন উৎসব নামল আমার দোর গোড়ায়। সাঁঝের আলোয় ঝলমল করে উঠল অন্তঃপুরের ঝাড়বাতি। সেদিন আমার সঙ্গী হল অন্ধকারের উষ্ণতা, আমার ভালবাসার শুকতারা, শ্রাবণের অঝোর বৃষ্টিধারা আর দূরের ঐ পাহাড় মেঘ আকাশ।

তুই থাকতে এলি এমন চুপিসারে জানলনা না কেউ। জানল শুধু সেই সন্ধিক্ষণের আগুনশিখা, বর্ষার সজল মেঘ আর জ্যোৎস্না রাতের মায়াভরা আকাশ।

জানলার পাশে চড়াই আর কাঠবিড়ালির কিচির মিচির জানিয়ে দিল ওরা জেনে ফেলেছে তোর আসার গোপন খবরটুকু।

কোনদিন মাঝরাতের তারারা চুপি চুপি মায়া ছড়াতে এলে জানলা খুলে ছুঁয়ে ফেলতাম সেই সুখ আর আনন্দ- ইশারার হাতছানি। তোর জন্য বাঁচিয়ে রাখতাম মুঠোভরা তারার আলো, আর জোনাকি পোকার সুন্দর তা তুলে এনে ভরে দিতাম তোর বুকে। তুই চুপটি করে দেখতিস, হয়তো খুব মজা পেতিস। আমরা দুজনে কবে জানি একে অপরের অস্তিত্বে মিশে একে একে ক্ষিদে, দুঃখ, সুখ ভাগ করলাম, এমন কি শ্বাসও। শরীরে শরীর পেতে ভাগ করলাম সব যন্ত্রণা। তুই লেপ্টে থাকতিস আমার বুকের ভিতর সব উত্তাপ শুষে নিয়ে।

আস্তে আস্তে আমাদের নিজস্ব পৃথিবী গড়লাম; জ্ঞানবুদ্ধি বিবেক রাখলাম পথের ওপর, ঈশ্বরীয় করুণার আলো জ্বেলে দিলাম অন্ধকার কে দূরে রাখতে। তোর চোখে ভরে দিলাম শরতের শিশির ভেজা রোদ, টুকরো স্বপ্নের রামধনু রঙ, চড়াই পাখির চঞ্চলতা, পুকুরের কালো জলের গভীরতা আর দূরের ঐপাহাড় পাহাড় মেঘের অনঘ সরলতা। পিঠে দিলাম সোনালি পাখনা যাতে নীল ভেঙ্গে ভেঙ্গে ছুঁয়ে ফেলতে পারিস চাঁদের অপরূপ স্তব্ধতা। বুকের মধ্যে রাখলাম চাঁপাফুলের সৌরভ, রক্তে ভাসিয়ে দিলাম আত্মগর্বী চেতনার নির্যাস। চোখ মেললি তুই এক বৈশাখী রাতের নৈশব্দ ভেঙ্গে আমার অন্তরের সব আলো জ্বেলে দিয়ে।

আজ অনেকদিন পর যখন আলাদা হল শরীরের চেতনা, অনেক প্রশাখায় বিভক্ত হল ভাবনার ডালপালা, বর্তমানের রুক্ষতায় পা ফেলার বাস্তবতা মান্যতা পেল, তখন এই অক্ষম চোখের ছায়া পথের আদ্রতায় শুধুই নুয়ে পড়া অসহায়তার সীমাহীন কালাতিপাত। 


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.