x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

জয়া চৌধুরী

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
জয়া চৌধুরী


কুচকুচে কালো।
মাথায় চুল পাতলা কিন্তু তা বয়সের কারণে না।
মজফরপুর এর নাম স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকে সবাই জানে।
এমনকী লিচুর কথাও জানা আছে।
জানা নেই শুধু এখানকার আর্থিক অবস্থার কথা।
এখানে ছেলেরা কেউ থাকে না।
একটু সমর্থ হলেই কিংবা বছর আট দশ হলেই পাড়ি দেয় কলকাতায়।
হ্যাঁ... কলকাতায়... পাটনা নয়... পাটনায় আর জায়গা নেই।
খুব ধাক্কাধাক্কি মারামারি... খেতে দেয় না কেউ।
ছেলেটা শান্ত বরাবরই।
এদিকে কেউ ঘরে বসে কাটায় না।
বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্ত ই তাই।
খাবলে নাও কিংবা মরে যাও।
তাই নাকের শিকনি ঝরতে থাকলেও তা প্যান্টে মুছে খেলতেই থাকে যে ছেলেরা তারাও জানে খেলায় হেরে গেলে তুমি মেয়েছেলে...
আরেঃ চুড়ি পরে যে জাত সেটা আবার মানুষ নাকি যে তাদের মত হতে হবে।
তাই জয় চাই জয়... জয়ী হবার প্রাণান্তকর ইচ্ছে কি শহরেই থাকবে নাকি?
ছটা বোনের পরে এই ছেলে।
খুব আদর পায় সে?
আজ্ঞে নাঃ... ছেলে হলেই শুধু আদর থাকে না কপালে... রোজগারের তাড়না ও থাকে।
মা ছাড়তে চায় না তাই সে ও অনেকদিন যাওয়া টা ঠেকিয়ে রেখেছিল।
এইবার ফসল ও হয় নি এদিকটায়।
পরপর দুই বোনের বিয়ে দিয়ে বাপের হাত খালি।
গ্রামের সুরেশ কাকা সেই কব্বে চলে গেছে কলকাতায়।
এখানে তো পাকা দালান করেছে সেই টাকায়।
পাঁচটা মেয়ের বিয়ে দিয়েছে, সেদিন টিউকল বসালো বাড়িতে, বড়লোক কাকা।
চোখের জল, জোয়ারের রুটি আর গুড়ের ডেলা নিয়ে ছেলেটা কলকাতায় এলো।
হাওড়া ইস্টিশান থেকে কাকার বড় ছেলেটা বাসে চাপিয়ে নিয়ে এল।
আইব্বাপ! কি অবাক জায়গা !...কত্ত গাড়ি!
কাকা নিশ্চয়ই বড় অফিসে কাজ করে!
ওমাঃ সকাল হলেই কাকা জল তোলে বালতি বালতি।
গাড়ি মোছে... লাইটের বিল জমা দেয় ...বাচ্চা ইস্কুলে দিয়ে আসে নিয়ে আসে...।
এই তাহলে কাকার কলকাতার চাকরি!
ও কাকা আমি কী করব?
জুটিয়ে দিল কাকা একটা বাড়ির জল তোলার কাজ।
মাস গেলে একশ টাকা কড়কড়ে।
দেশে কোনদিন দশ টাকাই দেখতে পায় নি সে।
দেশে তো টাকার দরকারই নেই এমনিতে... ওখানে সব কিছুতেই জিনিষের বদলি জিনিষ বা গতর... টাকার রোজ প্রয়োজন হয় না।
মাস খানেকের মধ্যেই জ্বর।
ঘুসঘুসে কাশি রোজ রোজ বিকেলে ... দেশোয়ালিরা বিনা পয়সার ডাক্তার খানায় নিয়ে গেল।
তারপর কদিন আর দেখা নেই।
সুরেশই একদিন এসে বলল সব ফ্ল্যাট থেকেই কিছু টাকা চাই।
কেন জিজ্ঞেস করতেই বলল ওষুধ, খাবার... ছেলেটার যক্ষ্মা হয়েছে অনেক টাকা দরকার।
দুমাস পরে মজঃফরপুরের ট্রেনে উঠল ছেলেটা।
ব্যাগে লিট্টি আর হাজার কয়েক টাকা।
যক্ষ্মা র শেষ ধাপে ধরা পড়েছে।
বাঁচবে না বড় চিকিৎসা না করালে।
সে বাঁচতে চায় না... তাই মার কাছে ফিরছে... পুঁটলিতে কলকাতা থেকে আনা  রোজগারের টাকা।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.