x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

জয়া চৌধুরী

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ |
জয়া চৌধুরী


কুচকুচে কালো।
মাথায় চুল পাতলা কিন্তু তা বয়সের কারণে না।
মজফরপুর এর নাম স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকে সবাই জানে।
এমনকী লিচুর কথাও জানা আছে।
জানা নেই শুধু এখানকার আর্থিক অবস্থার কথা।
এখানে ছেলেরা কেউ থাকে না।
একটু সমর্থ হলেই কিংবা বছর আট দশ হলেই পাড়ি দেয় কলকাতায়।
হ্যাঁ... কলকাতায়... পাটনা নয়... পাটনায় আর জায়গা নেই।
খুব ধাক্কাধাক্কি মারামারি... খেতে দেয় না কেউ।
ছেলেটা শান্ত বরাবরই।
এদিকে কেউ ঘরে বসে কাটায় না।
বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্ত ই তাই।
খাবলে নাও কিংবা মরে যাও।
তাই নাকের শিকনি ঝরতে থাকলেও তা প্যান্টে মুছে খেলতেই থাকে যে ছেলেরা তারাও জানে খেলায় হেরে গেলে তুমি মেয়েছেলে...
আরেঃ চুড়ি পরে যে জাত সেটা আবার মানুষ নাকি যে তাদের মত হতে হবে।
তাই জয় চাই জয়... জয়ী হবার প্রাণান্তকর ইচ্ছে কি শহরেই থাকবে নাকি?
ছটা বোনের পরে এই ছেলে।
খুব আদর পায় সে?
আজ্ঞে নাঃ... ছেলে হলেই শুধু আদর থাকে না কপালে... রোজগারের তাড়না ও থাকে।
মা ছাড়তে চায় না তাই সে ও অনেকদিন যাওয়া টা ঠেকিয়ে রেখেছিল।
এইবার ফসল ও হয় নি এদিকটায়।
পরপর দুই বোনের বিয়ে দিয়ে বাপের হাত খালি।
গ্রামের সুরেশ কাকা সেই কব্বে চলে গেছে কলকাতায়।
এখানে তো পাকা দালান করেছে সেই টাকায়।
পাঁচটা মেয়ের বিয়ে দিয়েছে, সেদিন টিউকল বসালো বাড়িতে, বড়লোক কাকা।
চোখের জল, জোয়ারের রুটি আর গুড়ের ডেলা নিয়ে ছেলেটা কলকাতায় এলো।
হাওড়া ইস্টিশান থেকে কাকার বড় ছেলেটা বাসে চাপিয়ে নিয়ে এল।
আইব্বাপ! কি অবাক জায়গা !...কত্ত গাড়ি!
কাকা নিশ্চয়ই বড় অফিসে কাজ করে!
ওমাঃ সকাল হলেই কাকা জল তোলে বালতি বালতি।
গাড়ি মোছে... লাইটের বিল জমা দেয় ...বাচ্চা ইস্কুলে দিয়ে আসে নিয়ে আসে...।
এই তাহলে কাকার কলকাতার চাকরি!
ও কাকা আমি কী করব?
জুটিয়ে দিল কাকা একটা বাড়ির জল তোলার কাজ।
মাস গেলে একশ টাকা কড়কড়ে।
দেশে কোনদিন দশ টাকাই দেখতে পায় নি সে।
দেশে তো টাকার দরকারই নেই এমনিতে... ওখানে সব কিছুতেই জিনিষের বদলি জিনিষ বা গতর... টাকার রোজ প্রয়োজন হয় না।
মাস খানেকের মধ্যেই জ্বর।
ঘুসঘুসে কাশি রোজ রোজ বিকেলে ... দেশোয়ালিরা বিনা পয়সার ডাক্তার খানায় নিয়ে গেল।
তারপর কদিন আর দেখা নেই।
সুরেশই একদিন এসে বলল সব ফ্ল্যাট থেকেই কিছু টাকা চাই।
কেন জিজ্ঞেস করতেই বলল ওষুধ, খাবার... ছেলেটার যক্ষ্মা হয়েছে অনেক টাকা দরকার।
দুমাস পরে মজঃফরপুরের ট্রেনে উঠল ছেলেটা।
ব্যাগে লিট্টি আর হাজার কয়েক টাকা।
যক্ষ্মা র শেষ ধাপে ধরা পড়েছে।
বাঁচবে না বড় চিকিৎসা না করালে।
সে বাঁচতে চায় না... তাই মার কাছে ফিরছে... পুঁটলিতে কলকাতা থেকে আনা  রোজগারের টাকা।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.