x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

গার্গী রায় চৌধুরী

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
 ঘাতক
আমাদের পাড়ায় থাকতেন বিস্বম্ভর বাবু। অত্যন্ত দাপুটে লোক ছিলেন। কথা বলতেন জোরে জোরে, হাসতেন কম। এই হেন দাপুটে বিস্বম্ভর বাবু একদিন সকালে হঠাৎ বলা চলে কর্পুরের মত উবে গেলেন। শীতের সকাল আমি কম্বলের তলায়, মা এসে ডাক দিলেন, বাবু ওঠ, কি বলছে সবাই শোন, বিস্বম্ভর বাবু নাকি মারা গেছেন। বিস্বম্ভর বাবু মধ্যবয়সী স্বাস্থ্যবান মানুষ। তিনি মারা যাবেন কি? ধড়মড় করে উঠে বসে মা কে বললাম ‘দেখছি দাড়াও’।

শুনলাম বিস্বম্ভর বাবু ভোর রাতে মারা গেছেন। বাড়িতে তখন ছিলেন তার স্ত্রী, নাবালক পুত্র ও এক পাগল ভাই। ভাই টি ওদের সঙ্গেই থাকতো, এমনিতে শান্ত চুপচাপ মাঝে মাঝে ক্ষেপে যেত। তখন ওকে বাড়ির একটা ঘরে আটকে রাখতেন বিস্বম্ভর বাবু। মারা যাওয়ার পরই আবার ক্ষেপে উঠল বিস্বম্ভর বাবুর ভাইটি। পাড়ায় বাড়িতে বাড়িতে কড়া নেড়ে সে বলে বেরাতে লাগলো তার দাদা খুন হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হয়নি। তার বউদি নাকি পাড়ার বিনোদ ডাক্তারের সঙ্গে শলা করে খুন করেছে বিস্বম্ভর বাবু কে। বিস্বম্ভর বাবু র স্ত্রী মাটির মানুষ, সাত চড়ে রা কাটতে দেখেনি কেউ তাকে আর ডাক্তার ও তো এ পাড়ারই ছেলে, সবার চেনা। বিস্বম্ভর বাবুর ডেথ সার্টিফিকেট তো ওই দিল। কেউ কান দিল পাগলের কথায় কেউ দিল না। এসব ঘটনা যখন ঘটে আমার বয়স তখন ত্রিশ পেরিয়েছে। এর কিছুদিন পরই চাকরির সুত্রে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হল ধানবাদে। মা বাবা রয়ে গেলেন কলকাতার বাড়িতে। ফোন এ কথা হতো মায়ের সঙ্গে। একটা সময় এসেছিল যখন মায়ের মুখে শুধু বিস্বম্ভর বাবুর বউ এর কথা শুনতাম। সে নাকি পড়াশুনো জানা মেয়ে, স্বামীর মৃত্যুর পর কাজ জুটিয়ে স্বামীর দেনা শোধ করেছে সব। ছেলেকে পড়াশুনা করাচ্ছে। দেওরকে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে কোন মেন্টাল আয়সাইলাম এ। মা য়ের সঙ্গে ভাব হওয়াতে সে নাকি প্রায়ই আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করে। গান গেয়ে সে আমার মা কে মুগ্ধ করেছে। আমিও মনে মনে শ্রদ্ধা না করে পারিনি মেয়ে টিকে। কিন্তু মার কপালে তার সঙ্গ সুখ ছিল না। শুনলাম কলেজে চাকরি নিয়ে সে মেয়ে বদলি হয়ে চলে গেছে কলকাতা ছেড়ে। 

তখন আমার বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে চাকরিতে। পদন্নোতিও হয়েছে। আমি চলে গেছি জামশেদপুরে। সেখানে একদিন ডি-এম এর বাংলোয় পার্টি তে আমন্ত্রিত ছিলাম আমি। ডি-এম আমার বন্ধু লোক, যেতেই আপ্যায়ন করে আমায় আলাপ করাতে নিয়ে গেলেন তাঁর আরেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে। গিয়ে দেখি আরে এতো আমাদের বিনোদ ডাক্তার। সে এখানে এসে ডাক্তারি করে প্রচুর পসার জমিয়ে ফেলেছে। আমাকে দেখে বিনোদ মহাখুশি। আমিও। কলকাতার গল্প চলতে লাগলো। জানলাম বিনোদ বিয়ে করেছে। আমি এখনও অকৃতদার শুনে সে আমার জন্য পাত্রী খোঁজার দায়িত্ব নিয়ে নিল সেই মুহূর্তেই। তারপর বলল, ‘ আমার স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করাচ্ছি, বসো, তাকে খুঁজে নিয়ে আসি, তুমি তাকে চেনো’, বলে চোখ টিপে চলে গেল বিনোদ। বিনোদের স্ত্রী কে আমি চিনবো কি করে? এই সব সাত পাঁচ ভাবছি। হঠাৎ একটি মেয়ে এগিয়ে এল আমার দিকে। আমি তাকে বিলক্ষণ চিনি। বিস্বম্ভর বাবুর বউ। আচ্ছা, এই তবে এখন বিনোদের বউ। ছি ছি ছি। আমার গা ঘুলিয়ে উঠল। এত বড় স্বরযন্ত্র? বিস্বম্ভর বাবু কে খুন করেছে এরা এদের লালসা মেটাবার জন্য। পাগল ভাই তবে ঠিক ই বলেছিল? পাড়ার অতগুলো লোকের মাথায় হাত বুলিয়ে তাদের বোকা বানিয়ে কাজ সিদ্ধি করেছে বিনোদ এবং এই নষ্ট মেয়েটি। এমনকি আমার মায়ের বিশ্বাস নিয়ে খেলতেও দ্বিধা করেনি। আমি আর ওর মুখ দর্শন করতে পারছিলাম না। সোজা বেরিয়ে এসেছিলাম পার্টি থেকে। কাউকে কিছু না বলে। শুধু তীব্র ভতসনার দৃষ্টি বুলিয়ে দিয়েছিলাম বিস্বম্ভর বাবুর অবিশ্বাসী স্ত্রীর মুখে, যদিও তখন তার মুখে বিনোদের স্ত্রীর মুখোশ।

এই ঘটনার পর আমার আস্তানা খুঁজে বিনোদ এসেছিল আমার সঙ্গে দেখা করতে। এসেই বলল তুমি তো আচ্ছা অভদ্র লোক, সেদিন আমার বউএর সঙ্গে পরিচয় না করেই কোথায় পালিয়ে গেলে। আমি কঠিন হয়ে বললাম তোমার স্ত্রী কে চিনতে তো বাকি নেই। বিনোদ আমার কথার শ্লেষ ধরতেই পারল না। বলল সে তো চিনবেই, তাকে কে না চেনে। নিয়ে বেরুতে পর্যন্ত পারি না মবড হয়ে যাওয়ার ভয়ে। বিনোদের বউ এর নাম শুনে চমকে উঠেছিলাম। এ যে ফিলিম স্টার। তবে সে? আমার তখন মনে মনে ধরণি দ্বিধা হও অবস্থা। বিনোদ তার বাড়িতে আমার নেমত্তন্ন করে গেল। যাওয়ার আগে বলে গেল, ‘ ভাই তোমার জন্য পছন্দ করা পাত্রী টিকে তো সেদিন আগেই তোমার কাছে পাঠিয়েছিলাম, তাকে মনে ধরেছে তো? সেও কিন্তু থাকছে এই নেমতন্নে’।

হ্যাঁ বিনোদের পছন্দ করা পাত্রীই এখন আমার ঘরনি। সে আমার এবং আমার মায়েরও ভীষণ পছন্দের মানুষ। কিন্তু আজও সে যখন তার সরল চোখদুটি আমার চোখে মেলে ধরে জিজ্ঞেস করে,’ সেদিন ডি এমএর বাড়ির পার্টিতে আমার দিকে ওরকম ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে চেয়েছিলে কেন গো?’ আমি কিছুতেই তার চোখে চোখ রাখতে পারি না।



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.