x

আসন্ন সঙ্কলন

গোটাকতক দলছুট মানুষ হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে একে অপরের সামনে। কেউ পূব কেউ পশ্চিম কেউ উত্তর কেউ দক্ষিণ... মাঝবরাবর চাঁদ বিস্কুট, বিস্কুটের চারপাশে লাল পিঁপড়ের পরিখা। এখন দলছুট এক একটা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে চাঁদ বিস্কুটের দিকে। আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে হাঁটছে সারিবদ্ধ পিঁপড়েদের বিরুদ্ধে। পথচলতি যে ক'জনেরই নজর কাড়ছে মিছিল তারাই মিছিল কে দেবে জ্বলজ্বলে দৃষ্টি। আগুন নেভার আগেই ঝিকিয়ে দেবে আঁচ... হাত পোহানোর দিন তো সেই কবেই গেল ঘুচে, যেটুকু যা আলো বাকী সবটুকু চোখে মেখে চাঁদ বিস্কুট চেখে চেখে খাক এই মিছিলের লোক। মানুষ বারুদ কিনতে পারে, কার্তুজ ফাটাতে পারে, বুলেট ছুঁড়তে পারে খালি আলো টুকু বেচতে পারেনা... এইসমস্ত না - বেচতে পারা সাধারণদের জন্যই মিছিলের সেপ্টেম্বর সংখ্যা... www.sobdermichil.com submit@sobdermichil.com

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

মৌমিতা ঘোষ

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

অনিন্দিতা মণ্ডল

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ |
একা এবং
জন্ম মুহূর্তেই আমাদের ইন্দ্রিয় গুলি তৎপর হয়ে উঠে জানান দিতে পারেনা যে আমরা এক নতুন শরীর পেয়েছি । নিজের অস্তিত্ব কে নিজেই বোধে বোধ করার ক্ষমতা অন্তত আমার হয়ে ওঠেনি । তবু দু তিন বছর বয়স থেকে এই অনুভূতি জন্মালো এবং সবচেয়ে কাছের মানুষ বলে যাকে আঁকড়ে থাকতাম তিনি মাতৃদেবী । মা যখন নাম ধরে ডাকত ছোট্ট আমি ভাবতাম এ কার নাম ? আমার? আমি কে ? কোথায় ছিলাম আমি ? প্রায়শই এই শেষ প্রশ্নটা মনে করে হু হু করে কাঁদতাম । ভয় পেতাম নতুন পৃথিবীটা কে । মা আমার এই আকুল কান্নার হেতু খুঁজে না পেয়ে নানাভাবে ভোলাতে চেষ্টা করত । সন্ধ্যের মুখে হলে সদ্যমাখা ময়দার গুলি আর সকাল বেলা হলে দুধের বাটি । কিন্তু আমি যে মানব অস্তিত্বের আদি কারণ নিয়ে এমন ভয় আকুল , এমন দিশেহারা , মায়ের বোধের অগম্য ছিল তা । মায়ের মুখের দিকে হাঁ করে চেয়ে দেখতাম । মা কিছু না বুঝে কাছে টেনে নিয়ে নিত্যকার কাজে মন দিত। আর এক ফাঁকে গাল টিপে আদর করে বলে উঠত - দূর বোকা মেয়ে ! মিছিমিছি কেউ কাঁদে ? আমি আর কোথায় গেছি ? এইতো আমি ! আমিও অত শত ভাষা না বুঝে মায়ের কাপড়ে তালগোল হয়ে মায়ের গায়ের মধ্যে লেপ্টে যেতাম । কোন কোনদিন রাত্রে কী স্বপ্ন দেখে গভীর ঘুম ভেঙে যেত । আবার হাউমাউ কান্না । মা তাড়াতাড়ি উঠে বিছানা থেকে তুলে নিত । কিছু জিজ্ঞেস না করেও বুঝে যেত আমি স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়েছি । বাবা তখনও সেই ভাবে আমার চেতনার ভুবনে প্রবেশ করেননি । কে যেন একজন । বেশ ভালো । ঘুমন্ত আমার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় । আদর করে । কিন্তু দিনমানে তাকে বিশেষ দেখা যায়না । মা ছাড়া গায়ের কাছে ঘুরঘুর করে আমার চেয়ে দুবছরের বড় দিদি । সে বাবার সুলেখা কালির দোয়াত আমার মাথায় উপুড় করে । আমি তখন দেড় বছর । মুখে বলে বিষাদ হর্ষ প্রকাশ করতে পারিনে । স্পষ্ট শুনতে পাই - বুবাই ভালো , দেখো বনুকে কেমন সাজিয়েছি । কিন্তু এই বাক্যবন্ধের মানে আমি জানিনা । দিদির আনন্দ দেখে ফোকলা মুখে হেসে উঠি । কিছুক্ষণের জন্য জীবনজিজ্ঞাসা থমকে থাকে । কিন্তু এ আনন্দ স্থায়ী হয়না । মা , যাকে তখনও আমি স্পষ্ট মা বলতে জানিনা , হঠাত্ আমার সাজগোজ দেখে ভীষণ অস্থির হয়ে পড়ে । দিদির মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে বিস্তর গম্ভীর গম্ভীর কথা বলে । দিদিও সেইসব কথার অভিঘাতে চমকে কেঁদে ওঠে । অতঃপর আমরা দুজনেই কাঁদতে থাকি । অতিকষ্টে মা আমাদের শান্ত করে । কিন্তু ঠিক কবে আমরা বুবুকে (মায়ের ডাকনাম) মা বলে ডাকতে শুরু করেছিলাম তা আর মনে নেই । সেই যে অবিচ্ছিন্ন পথচলা শুরু হলো এখনো হেঁটে চলেছি । শুধু মা কখন জীবনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে । আর হ্যাঁ , বাবাও । 

এখন চোখ ফিরিয়ে পেছনে দেখি । বড় হবার পর মা বাবা ছাড়া যে জীবন হতে পারে তা কল্পনায়ও আনতে পারতাম না । আস্তে আস্তে গন্ডী বড় হতে থাকে । দেখি পরিবারে আরও অনেকে আছেন । তাঁরা সকলেই আমার খুব প্রিয় এবং হয়ত আমিও তাঁদের । সেইসব প্রিয় লোকের মধ্যে বেড়ে উঠি । নিজের অর্জন বাড়তে থাকে । পার্থিব কৃতিত্বে খুশি হই । জীবনের অনিশ্চয়তা , অনিত্যতা ভেবে দেখিনে আর । যেন সব কিছুই চলবে । চলতে থাকবে আবহমান । প্রথম যে আঘাতে আমার সেই জন্ম সময়ের বিহ্বলতা সেই অসহায়তা সেই নিঃসীম পরাধীনতা ফিরে আসে সে হলো আমার ভ্রাতৃশোক । শুরুর উথালপাথাল কাটিয়ে একা বসতেই সেই জীবনজিজ্ঞাসা ফিরে এলো । কেন এসেছি ? কোথায় যাবো ? ভাই কোথায় গিয়েছে ? কোথাও তো গিয়েছে ! কেননা এই কিছু আগে যে ছিল এখন সে নেই , এত বড় সত্যিটা কি করে মিথ্যে , শূন্য , ফাঁকা হয়ে যেতে পারে ? সেই আমার নির্বাক ভাবনার শুরু । যখন আমার অস্তিত্ব ছিলনা তখন আমি কোথায় ! এই আমার নাম , যা বলে লোকে আমায় ডাকে । কিন্তু এ ও তো চিরকালীন নয় ! তাই ভাষা হারিয়ে যায় । ভাইকে খুঁজতে শুরু করি এই অস্তিত্ব ছাড়িয়ে অন্য কোথাও অন্য কোনও স্তরে । ফিরতে সময় লাগে । পুনর্বার এইসব ভালো লাগায় ফিরতে কষ্ট হয় ।

মনে পড়ে যায় মৃত্যুর সঙ্গে প্রথম মোলাকাত । তখন বালিকা বয়স । এক কাকিমার বাপের বাড়ি নিমতলা স্ট্রিটে । নতুন সম্পর্কের আতিশয্যে বাপের বাড়ির কোন জিনিসটি আমায় অবাক করবে ভেবে তিনি আমায় নিয়ে গিয়েছিলেন নিমতলা শ্মশানে । সেখানে প্রতীক্ষা রত এক যুবতীর মৃত শরীর দেখে আমার অদ্ভুত লেগেছিল । সেই বোধকে বোধহয় শূন্যতা বলাই সঠিক । স্তব্ধ আমি তারপরে আর ভালো করে রাঁধা ব্যঞ্জনেও স্বাদ পেলাম না । বাড়ি ফেরার পর আমাকে অমন নিঃশব্দ দেখে বাবা কাছে টেনে নিলেন । বললেন কি ব্যপার ? মুখ এমন কেন ? শূন্যতাকে প্রকাশ করার ভাষা আমার সেদিনও ছিলনা আজও নেই । শুধু বললাম সেই মেয়েটির কথা । বললাম খেতে ইচ্ছে করেনা । খেলতেও নয় । স্নান করতে গিয়ে সাবান মাখতে ইচ্ছে করেনা । কি হবে কদিনের জন্য শরীর যত্নে রেখে ? বাবা অনেক বুঝিয়েছিলেন । কি বলেছিলেন আর মনে নেই । নিশ্চয় এই শূন্যতার পক্ষে তাঁরও কোনও সওয়াল ছিলনা । থাকলে আমার তা মনে থাকত । 

এখনো যখন বহুভাষাসহযোগে জটিল সৃষ্টি রহস্য বোঝার চেষ্টা করি তখন তার অসারত্ব অনুভব করে হতাশ হই । সত্যি জীবন কাকে বলে ?


Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.