x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭

অলভ্য ঘোষ

sobdermichil | ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
অলভ্য ঘোষ
 ফাঁদ 

ফাঁদ পেতে বসে আছে পাখিওয়ালা ।
তোতা, ময়না,টিয়ে,দোয়েল,শালিক,
মাছরাঙা, ফিঙে,বউকথাকও বিদেশী
লিনিওলেটেড, ম্যাকাও, হলুদ টিয়া,
গ্রে-প্যারট, ল্যামবার্ড, রেড রাম,
কাকাতুয়া, ডাইমন্ড ডু,পিনথ, ককাটেল,
রোজিলা, গোল্ডিয়ান পিচ্চে, পোরপাচ,
গোর্কী গালা কাকাতুয়া, লাভবার্ডস ,
ফরফাস ,বাজরিগার পেলে সোনায়
সোহাগা ।পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বিক্রি
করবে । গেরস্তর দের বারান্দার কোণে
খাঁচায় ঝুলবে পাখি । কারো বা দাঁড়ে পায়ে
চেন বাঁধা অবস্থায় পাখি গাইবে কৃষ্ণ
নাম । গৃহস্বামীর সুখ গান গাইতে না
পারলে দানা পানি বন্ধ করে দেবে ।
সহবত শিখতে কোন কোন পাখিকে
কালো ছাতার কাপড়ে ঢেকে রাখা হবে ;
লোক চক্ষুর অন্তরালে ।

পাখিরা ভাবে; পাখিওয়ালা কি নিষ্ঠুর!
নিজের জন্য একটা পাখিও রাখার
সাধ হয় না তার ।পাখিওয়ালা বলে;
- সাধ তো হয় ; তবে সাধ্যে কুলায় কই ।
এই দেখ ম্যাকাও তুমি কত শিক্ষিত
তবুও তোমার দাঁড় চাই । দাঁড়েতে
দাঁড়িয়ে থেকে প্রেম হয় ।
তার জন্য একটা আকাশ দরকার ।
যার খাঁচার মতো কোন জালের দরজা
নেই । নেই তোমার পায়ের বেড়ির
মত বন্ধন ।

পাখিরা বলে ;
-তবে তুমি আমাদের ধর কেন?
পাখিওয়ালা হাসে !
-তোমরা ধরা দাও বলেই না;
আমি ধরতে পারি ।
পাখিরা বিরক্ত হয় !
-আমাদের তুমি ঠকাও ফাঁদ পেতে ।
পাখিওয়ালার হাসি থাকে অম্লান ;
-এই দেখ চোরের জন্য দ্বার খুলে
রাখলে ; চোর যদি চুরি করে । দোষটা
কার চোরের না মনিবের । তোমরা
তো আমার ফাঁদে জেনে শুনে আকৃষ্ট
হও সখি ।

পাখিরা বলে ;
- হব না তোমার ঐ তেলাপোকার মত
লকলকে শিশ্ন দৃঢ় হলে পরে ; ময়ূরেরা
ভাবে সাপ । তোমার ঐ দীর্ঘ বক্ষ যুগল ;
যেন স্বর্গের নন্দনকানন । চোখ দুটো যেন
শেষনাগের অমৃত হ্রদ । ঠোঁট দুটো যেন
সমুদ্রর ফেনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে
শুধু চুমু খাবার জন্য । বটবৃক্ষের মতো
তোমার এক মাথা চুল যেন শান্তির নীড়।
নাকখানা যেন পায়রার বোমা ।
দূর দূরান্ত থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে চিনে নেওয়া
যায় তোমাকে ।

তারপর বহুদিন কাল হওয়ার মত উবে যায়
পাখিওয়ালা ঘুণাক্ষরেও টের পায় না । বুঝতে পারে
যখন ; তখন তার ঢেঁকির মুখের মত শিশ্নটা
নিম্নমুখী । দারিদ্র আর বয়সের চাপে তার প্রসারিত
বক্ষ যুগলের হাড়ে এখন পাখির খাঁচার মতো ক্ষুধার্ত
পাঁজরের ভাস্কর্য । চোখ দুটো যেন ছানি পড়ে ঘোলা
নালার জল । ঠোঁট দুটো যেন উচ্ছিষ্টের ভাগাড় ।
মাথার কেশ বিন্যাস আজ মরূদ্যান হয়ে ; যেন
বসন্ত শেষের পাতা ঝরা গাছ । পাখিদের
আকৃষ্ট করার মত পাখিওয়ালার আজ আর কিছু
নেই। ফাঁদ পেতে সে বসে থাকে । কোনো পাখি
আর আসে না তার কাছে । ফাঁদের দড়িতে পড়ে
না টান ।

হটাৎ একদিন ভর দুপুরের ঝিমুনির ফাঁকে পাখিওয়ালা
দেখে ;সাক্ষাত যমের মত একটা কালো কুচকুচে
দাঁড় কাক এসে দাঁড়িয়েছে তার সামনে । পৃথিবীর
কোন দেশে কে পোষে এই অলুক্ষুনে পাখি ।
পাখিওয়ালা জানে না । আমস্টারডামে নাকি
পতিতাদেরও সামাজিক স্বীকৃতি আছে;তবু কেন
সমাজের নোংরা খেকো ঝাড়ুদার কাকেরা অস্বীকৃত
এদেশে ; তা জানে না পাখির দালাল এই পাখিওয়ালা
আর পতিত কাকেরা । তলায় তলায় কাকের
উপকার উপভোগ করলেও ; বাড়ির চৌহদ্দিতে
কাক দেখলে ; অমঙ্গলের কথা ভেবে গৃহস্বামী
তাড়ায় ছ্যাঃ ছ্যাঃ করে ! পাখিওয়ালাও বলে ;
-হুশ যা !
দাঁড় কাক বলে ;
-আমার নামের আগে দাঁড় থাকলেও
আমি কাকাতুয়ার মতো দাঁড়ে থাকি না ।
আমাকে ধর তোমার ফাঁদে ।
পাখিওয়ালা রেগে ওঠে ।
- বেরো দূর হ! তোকে ধরে লাভ নেই । ছুঁলেই
এইডস হতে পারে ।
কাক বলে;
-পাখিরা বলে তুমি নাকি পোষার মত পাখিই
পাওনি আজ অবধি । যে পাখি বেঁধে নয় ছেড়ে
পোষা যায় । আমাকে তুমি তোমার গৃহিণী করবে
পাখিওয়ালা ।আমি খাঁচা বা দাঁড় ছাড়াই তোমার পোষ
মানবো ।
পাখিওয়ালা আরো রেগে তিরস্কার করে ;
-দূর হ ঘাটের মরা ; যমের ও অরুচি !
পোড়ারমুখী কাক তখনো বলে;
- আমি তোমার উপরের হারিয়ে যাওয়া
ক্ষণিকের রাংতার আড়ালের চকলেটের মত হৃদপিণ্ড টার
ভালবাসায় অকৃষ্ট হতে চাইছি পাখিওয়ালা ।
ওটা যেন অন্নপূর্ণার হাড়ি কখনো ফুরাবে না ।

এবার পাখিওয়ালা একটু নরম হয় ; খিদেটা
তার চন চনে পেয়েছে বেশ । ভাবে ;যেচে আসা
সুযোগ হাত ছাড়া করা কি ঠিক হবে !!
একবারও ভাবে না; এই প্রথম কোন পাখি
পাখিওয়ালার বাইরে আবহবিকারে জীর্ণ
শরীর মন্দিরের ফাঁদে নয়;
ভেতরের দেব দর্শনের কদর করছে ।

ফাঁদের দড়িতে পড়ে টান ।
কাক বলে ;
-আমি ধন্য পাখিওয়ালা চির কৃতজ্ঞ তোমার কাছে ।
পাখিওয়ালা কাকের ঘাড় মটকানোর আগে বলল;
-এবার তুই মরবি ।
কাক বলে ;
-মরেও সুখ ;ভালোবাসায় বঞ্চিত হয়ে বাঁচার চেয়ে ।

শহরের আস্তাকুড়ে মানুষের নোংরা আবর্জনা সাফ
করতে করতে কাক টা বোধহয় বিষাক্ত কিছু পুষছিল
নিজের পাকস্থলীতে । সেই রাতেই ভেদবমি তে
পাখিওয়ালা মারা গেল কাকের মাংস খেয়ে ।

সকাল হতে না হতেই রাজ্যের চিল ও শকুন
ছুটে এলো পাখি ওয়ালার মৃত দেহে আকৃষ্ট হয়ে ।
খুবলে খুবলে খেল তার শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ !
বাদ পড়ল না পাঁজরের আড়ালের হৃদপিণ্ডটাও।

পৃথিবীতে পাখিওয়ালার সেই ফাঁদ পড়ে আছে এখনো ।
তুমি পাখিওয়ালা হলে কি পাখি ধরবে বলো ?



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.