x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৭

তাসমিনা আফরোজ

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
নীলাভ খাম ও রুপোলী দুপুর









 ইচ্ছে দাহন 

সীমান্ত,
আমি ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার সাথেই আমার স্নায়ুর সাথে লাগিয়ে দিলে মোহ ভরা স্বপ্নলোক
তারও গভীরে কল্পনার অথই সমুদ্রের কবিতা মঞ্চ ও নীলাভ ক্যানভাস
রাতভোর খুলে রেখেছিলাম ঘরের অর্গল জলে ভাসা পদ্মের সাথে সুগন্ধি মোমের নির্যাস
হটাত জল ঝরার শব্দ আমায় নিয়ে এলো জাগতিক চঞ্চলতায়
তুমি কাঁদছো সীমান্ত
তুমি বসে আছো একবুক ঘুম ভাঙা চোখ নিয়ে যন্ত্রবৎ এবং অসাড় মেঘ শিশিরের দ্যোতনায়
তোমার এই চন্দ্রাহত মুখ আমায় ডুবিয়ে দিলো ব্যাকুল ভাবে ঋতু পরিবর্তনে
আমদের উর্বর মস্তিষ্কে কোন দ্বিধা ছিল না
আর বিক্রি বাট্টার হাহাকার নোনাজলের উপাসনা
বরং উচ্চারিত শব্দের বিলাসে ছিলো হৃদয়ের রঙ
যেনো অমাবস্যা থেকে কেড়ে নিয়ে এসেছো পূর্ণিমার চূর্ণ
এই চূর্ণ নিয়ে এসো সবুজ পাতার ছন্দে
এসো পদ্ম বিলাস রঙে নীলাভ ক্যানভাসে
এসো সমুদ্র জলের স্নানে উত্তাল হই
এসো সুগন্ধি মোমের নির্যাসে ঘুম হিন চোখে
এসো মেঘের দ্যোতনায় বৃষ্টি হয়ে রই
ফেলে রেখে আসা সে সময় পরস্পর পাল্টে ফেলি সবুজ পাতার ঘ্রানে
এসো মহৎউৎসবে সোনালী লিফলেট হাতে
অন্ধকার জঙ্গল হারিয়ে যাচ্ছে আলোকিত অধ্যায়ে
ওখানে কি আছে অর্বাচীন নক্ষত্র,ব্যাকতিগত মহাকর্ষ ,মুখোশ ঘুড়ি ?
দ্যাখো সীমান্ত,পাঁজরা ছোট হয়ে আসছে-চড়ূই বুক হচ্ছে আমাদের স্বপ্নের মোহ ,
হারিয়ে যাচ্ছে ইচ্ছে ডানার ঠিকানায়,আবেগঘন রাত, মুকুল সুবাস
তার থেকে চলো হারিয়ে যাই খরস্রোতা নদীর মোহনায়
কিংবা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির পাদদেশে
হয় আমরা উন্মুক্ত চোখে জল ঢালি সাঁতরে ঢেউ ভাঙি নিজস্ব আস্তরণে
হয় আমরা ঘাসজমিতে ফুটিয়ে দেই গোলাপ বিছানা বাক্য বিন্যাস
হয় আমরা পাখির জন্য তুলে রাখি শস্য দানা
হয় আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য বুনে রাখি বিশুদ্ধ প্রশ্বাস
নাহলে চলো সব ভেঙে চূরে এই পার্থিব আকাঙ্ক্ষা ছেড়ে
আমরা চলে যাই আগ্নেয় বলয়ের অতল গহবরে
দিগন্তে ছুঁড়ে দিয়ে কিনে নেয়া দলিল পত্র ,কাঁটা গুল্মে ভরা জমির সত্ত্ব
ঝুল বারাদার দোলনা,পোষা খরগোসের কাঁচের চোখ
নিবিড় পরিচর্যায় চন্দ্রমল্লিকা ফুল,কিনে নেয়া কার্নিশে ছায়াঘন রোদ
আমরা চলে যাই উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরুতে
আমরা চলে যাই পোড়া মাটির হৃদয় খণ্ডে তপ্ত শিলার গর্ভে
আমরা নিজেদের শবদেহ সাজাই আগুনের হল্কায়
আমরা গান হয়ে উঠি আগুনের শিসে কবিতা মঞ্চের সূরে
আমারাও ছাই ভস্ম হয়ে উড়ি খোলা আসমানে

শুধু জেগে থাকুক আমাদের পদধ্বনি ...প্রজন্মের শাখায় ।



 নীলাভ খাম ও রুপোলী দুপুর 



একটা নীলাভ খাম রোজ মধ্য দুপুরের রুপোলী আলোকছটায় আদুরে পেঁজা পেঁজা তুলোর ভাঁজে মেঘ বৃষ্টি তুলে নিয়ে আসে চারদেয়ালের কাব্য ঠোঁটে । আসে আমার সবুজ বাগানের রঙ্গন ফুলের গাছের দোরগোড়ায় । আমি থাকি ব্যালকণিতে খোলা চুল মেলে ... মুখে থাকে পদ্মখোঁচার ছোট্ট দানা বাদাম ঘরের স্বাদ । কিছুটা দুরেই মাধবী লতা সাদা গোলাপি লতায় নিগুঢ় ভাবে সদর ছাপিয়ে যায় সুচিত্রা,উত্তমের একনিষ্ঠ ভালোবাসার প্রজ্ঞায় ।চলে যায় আপন ভুবনে কিছু রাগ / রাগিণীর কলা কৌশলের সুড়ঙ্গে ।

আমার ভেতর জেগে ওঠে আর একটা আমি । আফিমের নেশা ধরে সে মাখে পরমান্ন বিভাবরী , মুঠোয় তুলে আনন্দে নীল খামের ভেতরের অলৌকিক কথা -  আরো গভীরে নীলাভ পাতায় গোটা গোটা কালো অক্ষরে সাজানো কবিতার পরম বিস্ময় ।

সে গানে সূর মিলিয়ে দেয় উজান ভাটির উদোম যুবকের শিস , শিসের সূরে নীল বেদনার সাথে পঞ্চ ফণা তুলে ফিরে আসে সাত সমুদ্রের ঢেউ। যুবকের দেহে আলতো করে তুলে দেয় বিষের স্রাব । ঢলে পড়ে উদোম যুবক রুপোলী দুপুরের আস্তানায় ।

বড় আবেগে অধীর আগ্রোরহে অপেক্ষা করছিলো ধান ক্ষেতের ঝিরিঝিরি ব্যাঞ্জনা । যুবকের নিথর দেহ দেখে থরথর করে কেঁপে ওঠে ধানের ঝিরিঝিরি পাতারা , অহম ফেলে বেদনা ঝরাতে থাকে নিজ শীষের শীর্ষবিন্দুর মুখ খুলে । পাশের লজ্জাবতীর কাছ থেকে তুলে আনে অসংখ্য সূচলো কাঁটা , নিজের শীষের বিন্দু কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত করে আত্মহনন করে বিস্তীর্ণ মাঠে,কোমল সতেজ ধান ক্ষেত মুহূর্তেই  মৃত হলুদ রঙ মাখে উদোম যুবকের নিথর দেহের পাশে ,কোলাহল গুঞ্জনে আকাশচারী পাখিরা খেলতে থাকে অনর্গল ।

বাতাসের শব্দে দেহের ভাঁজে ভাঁজে হাঁক দেয় পালকের ওম , স্বাদ নেয় উড়ন্ত বেলুনের রঙিন আলোর  হটাত পাখিদের  দৃষ্টি কেড়ে নেয় হলুদ ধান ক্ষেতের পাশে উদোম যুবকের নিথর দেহ, পাখিরা সব সূর গুঞ্জন উগড়ে দেয় নীল খামের ভেতর আমার বারান্দায় অনাকাঙ্ক্ষিত অবজ্ঞায় ...চলে যায় দূর দুরান্তে আকাশের সামীয়ানায় ...



Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.