x

প্রকাশিত | ৯৪ তম মিছিল

কান টানলেই যেমন মাথা আসে, তেমন ভাষার প্রসঙ্গ এলেই মানুষের মুখের ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহারের কথাও মনে পড়ে যায়, বিশেষত আজকের দিনে। ভাষা দিবস মানেই শুধু মাতৃভাষা নিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে থাকার দিন বুঝি আজ আর নেই!

কেননা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা মাথায় বসে আছেন, বিশেষত যাঁরা রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতাভােগী এবং লােভী, তাঁদের মুখের ভাষা এবং তার প্রয়ােগ আজ ঠিক কতটা শিক্ষণীয় এবং গ্রহণীয় সেটা শুধু ভাবার নয়, রীতিমতো শঙ্কার এবং সঙ্কটের।

সবই কি তবে মহৎ ভাবনা, অনুপ্রেরণার জোয়ার? নাকি রাজনৈতিক কারবারিরা 'সুভাষিত' শ্রবণাতীত বয়ানে নিজেদের অক্ষমতার মদমত্ত প্রকাশ করছেন? সাধারণ ছাপােষা মানুষ বিস্ফারিত চিত্তে এই ভাষাসন্ত্রাস,এই ভাষাধর্ষণ দেখতে শুনতে ক্লান্ত। এর থেকে উত্তরণের উপায় এখনও অবধি কোনাে ভাষা দিবস দেখাতে পারেনি। এবারের ভাষা দিবসের কাছেও কি সেই উপায় আছে? নাকি এই খেলা হবে, চলবে ... মেধাহীন গাধাদের দৌলতে?

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৭

নিয়াজ উদ্দিন সুমন

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
আগুন
১১১১১১১১১১১১১১১১১১১
১।
পোড়া ঘরের বারান্দায় নিহত বেলাল হাসানের মা নুর বানু বিলাপ করতেছিল চিৎকার করে। “ও পুত তুই হন্ডে গেলি। আঁরে ফেলাই ক্যানে গেলিগুই। তোর মাইয়ের কি অইবু। তারে হনে চাইবু” (ও ছেলে, তুই কই গেলি। আমাকে ফেলে কেমন করে চলে গেলি। তোমার মেয়ের কি হবে? তাকে কে দেখবে?) কাঁদতে কাঁদতে এক পর্যায়ে নির্বাক হয়ে পড়ে নুর বানু। ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ একজন দু’বছরের অদিতি কে দাদীর কোলে তুলে দেয়। নাতনীকে দেখে আবার আতর্নাদ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। দাদীর আহাজারি শুনে মা-বাবার জন্য কাঁদতে শুরু করে অবুঝ অদিতিও। সান্ত্বনা দিতে আাসা স্বজন ও প্রতিবেশীরাও আর নিজেদের সামলে রাখতে পারে না। সবার চোখে ছল-ছল পানি টলমল করে। কেউ আড়ালে চোখের জল মুছে। কেউবা নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে ভিড় থেকে একটু আড়ালে চলে যায়।


২।
প্রতিবেশীদের আগুন আগুন চিৎকারে ঘুম ভাঙে নাহিদা ও তার স্বামী বেলাল হাসানের। শীতের কুয়াশাময় ভোররাত, ঘড়িতে তখন বাজে সাড়ে তিনটা। দুই বছরের মেয়ে অদিতি কে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। বাহিরে এসে দেখতে পান, পাশের বাড়িতে দপ দপ আগুন জ্বলছে। আগুনের শিখা ছুয়েছে পাশের বাঁশঝাড়ের তিনতলা উচুঁ সমান বাশেঁর ডগা পযর্ন্ত । চারদিকে হইহুল্লোড়, চিৎকার-চেচামেচির শব্দ। মেয়েকে একজনের কাছে রেখে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই আগুন নেভানোর কাজে নেমে পড়ে। এর মধ্যে আগুন ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের একতলা বাড়ির সামনের অংশেও। বেশ কিছুক্ষন পর আগুন নিয়ন্ত্রনে এসেছে মনে করে গুরুত্বর্পূন কাগজ, দলিল ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদগুলো বের করে নিয়ে আসতে নিজ ঘরে ঢোকে নাহিদা। অনেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও স্ত্রী বের হচ্ছে না দেখে ঘরে দ্রুত ছুটে যান স্বামী বেলাল হাসান। শেষ পযর্ন্ত দু’জনের কেউ আর ঘর থেকে জীবিত বের হয়ে আসতে পারেনি।


৩।
আগুনে ছয়টি কাঁচা-পাকা বসতঘর ও একটি একতলা ঘরের একাংশ পুড়ে গেছে। রান্নাঘরের চুলা থেকে এই আগুন ছড়িয়েছে বলে ধারনা ফায়ার সার্ভিসের। পুড়ে যাওয়া একতলা ঘরের ঐ কক্ষটিতে পরিবার নিয়ে থাকতো বেলাল হাসান। আগুনে ঘরের দরজা পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরের দরজা জানালা ও বাহিরের দেয়াল। ভেতরের দেয়াল ধোঁয়ায় কালো হয়ে গেছে। কতর্ব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের শরীরের কোথাও কোন পোড়ার চিহ্ন পায়নি। কালো ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে তারা দু’জন। আগুনলাগার পরের দিন ছিল মেয়ের জন্মদিন। আত্মীয়-স্বজনদেরকে দাওয়াতও করেছিল তাঁরা জন্মদিনের অনুষ্ঠান উপলক্ষে । আগুনের তাণ্ডবে সব কিছু মিশে গেল মাটির সাথে মর্হুতেই।



Comments
1 Comments

1 টি মন্তব্য:

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.