x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৭

সুদীপা কুন্ডু

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
সুদীপা কুন্ডু

অঘ্রানের সন্ধ্যা। বাতাসে হিম ভাব, যেন শীতের আগমনী গাইছে প্রকৃতি। কোলকাতার উপকন্ঠে এই ছোট্ট মফস্বল শহরটাতে বেশ ঠান্ডা পড়ে। এখন যেন তারই প্রস্তুতি চলছে। একটানা ঝিঁঝিঁর শব্দে প্রকৃতির নিস্তব্ধতা ভেঙে যাচ্ছে। এই শহরেরই একটা দোতলা বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে শিঞ্জিনী পাশের বাড়ির ছাদের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে ছিল। তার চোখের দৃষ্টিতে, শরীরের ভাষায় এক ব্যাকুল অপেক্ষা মূর্ত হয়ে আছে। পাশের বাড়িটিও দোতলা। ছাদে যদিও এখন কেউ নেই কিন্তু আলো জ্বলছে। গোটা বাড়িটাই আলোয় আলোময়। বাড়িটার শরীর পেঁচিয়ে পরতে পরতে টুনি বাল্বের ঝালর জড়িয়ে। ওই বাড়িতে এখন উৎসবের বাতাবরণ, আলোর রোশনাই আর লোকজনের কোলাহলে বাড়িটা আনন্দ উল্লাসে যেন ফেটে পড়ছে। আগামিকাল ধ্রুবদাদার বিয়ে। শিঞ্জিনী ছাদে দাড়িয়ে ধ্রুবদাদারই প্রতীক্ষা করছে। অনেকক্ষন হয়ে গেল। ধ্রুবদাদা আসছে না কেন ? সময় চলে যাচ্ছে। আর বেশী সময় নেই তার কাছে। অথচ ছোটবেলায় তারা সন্ধ্যের এই সময়টা ছাদেই কাটাত। কতো নতুন নতুন তারা দেখতে শিখিয়েছিল অর্পণকাকু। আকাশ দেখার নেশা বিভোর হতে শিঞ্জিনীকে শিখিয়েছিল ধ্রুবদাদা আর অর্পণকাকু।

শিঞ্জিনীর বয়স যখন নয় তখন বাবা এই বাড়িটা কিনলে তারা সপরিবারে এই বাড়িতে চলে আসে। প্রথম দিনই আলাপ হয়ে গেছিল ধ্রুবদাদাদের সাথে। ধ্রুবদাদার মা , মানে সুধাকাকিমা নিজে এসে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের বাড়ি গুছিয়ে নিতে সাহায্য করেছিলেন। এমনকি সেইদিন দুপুরের খাওয়াটাও হয়েছিল ধ্রুবদাদার বাড়িতেই। তারপর থেকেই দুইবাড়ির মানুষগুলো যেন একটা পরিবারের মতন হয়ে গেছিল। শিঞ্জিনী অঢেল ভালবাসা আর প্রশ্রয় পেয়ে এসেছে ওই বাড়িতে। বাবা মার কাছে আবদার পূরন না হলে তার ভরসা ছিলেন সুধাকাকিমা। শুধু সুধাকাকিমা নয় ধ্রুবদাদাও ছিল তার খুব আপনজন। সন্ধ্যেবেলা পড়া শেষ করে ধ্রুবদাদার বাবা অর্পণকাকু ধ্রুবদাদাকে নিয়ে ছাদে আসতেন, সাথে আসত শিঞ্জিনী। তখন দুজনেই ছোট, ধ্রুবদাদা তো শিঞ্জিনীর থেকে মোটে দুবছরের বড়! কাকু আকাশে তারা চেনাতেন। ধ্রুবদাদা খুব মন দিয়ে শুনত, প্রশ্ন করত। শিঞ্জিনীর বেড়ানতেই আনন্দ ছিল, তেমন কিছু বুঝত না, কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার মধ্যেও জন্ম নিল আকাশের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ। রাতের কালো আকাশে গ্রহনক্ষত্রের সংসার মুগ্ধ করত তাকে। কাকুর কাছ থেকে সে নক্ষত্রদের, বিভিন্ন নক্ষত্রমন্ডলীদের চিনতে শিখেছিল, বন্ধু ভেবে তাদের ভালবাসতে শিখেছিল। ছয় বছর পর অর্পণকাকু হঠাৎ হার্টফেল করে মারা যান।

তখন শিঞ্জিনীর বয়স ১৫, আর ধ্রুব ১৭। মৃত্যুকে প্রথম এত কাছ থেকে দেখেছিল শিঞ্জিনী। ওই বয়সেই বাবাকে হারিয়ে ধ্রুবদাদা কেমন যেন গুটিয়ে নিয়েছিল নিজেকে। কাকিমাও কেমন মনমরা হয়ে থাকতেন সবসময়। শিঞ্জিনীর ওই বাড়িতে যাতায়াত অনেকটাই কমে যায় সেইসময় থেকে। ধ্রুবদাদাও নিজের লেখাপড়া জগতে ডুব দিয়েছিল। কাকুর সপ্ন সত্যি করে বড় ডাক্তার হওয়াটাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। শিঞ্জিনীর সাথে তার ছোটবেলার বন্ধুত্ব ক্রমশ ক্ষীণ হতে আরম্ভ করে তখন থেকে। তারপর ডাক্তারি পড়ার জন্য কোলকাতা চলে যায় ধ্রুব। কালেভদ্রে বাড়ি আসত ধ্রুব। খুব কম দেখা হত শিঞ্জিনীর সাথে। আর দেখা হলেও দাদাসুলভ শাসন থাকত কথোপকথনে। শিঞ্জিনী যেন ভাল করে পড়াশোনা করে, বন্ধুদের সাথে মিশে গোল্লায় না যায়, বড় হয়ে চাকরি করে যেন স্বাবলম্বী হয় এইসব জ্ঞানমূলক উপদেশ বর্ষিত হত তার উপর। অর্পণকাকুর কথা, আকাশের প্রতি তাদের ভালোবাসার কথা তুলতে দিত না ধ্রুবদাদা। এই নীরবতার মানে ধরতে পারত শিঞ্জিনী। সেও চুপ করে এড়িয়ে যেত সেই প্রসঙ্গ। সেও আজ কতদিন আগেকার কথা। ধ্রুবদাদার সাথে তার শেষ দেখা হয়েছিল দুবছর আগে যখন ধ্রুবদাদা লন্ডন গেল পড়তে তখন।

ক্যাঁচ…! শব্দ করে দরজাটা খুলে গেল। শিঞ্জিনী আগ্রহের সাথে এগিয়ে গেল কার্নিসের দিকে। হ্যাঁ ! যা ভেবেছিল তাই। ধ্রুবদাদা ছাদে এসেছে। ছাদের দরজার পাশে সুইচবোর্ডে হাত দিয়ে সুইচটা অফ করে দিল সে। বোঝাই যাচ্ছে ধ্রুবদাদা এখন একটু একা থাকতে চায়। কিন্তু শিঞ্জিনীর এখন অত ভাববার সময় নেই।

“ধ্রুবদাদা !”

“কে?” এদিক ওদিক তাকাল ধ্রুব। তারপর শব্দের উৎস অনুসরণ করে তাকাল শিঞ্জিনীদের বাড়িটার দিকে।

“শিনু তুই !”

“হ্যাঁগো ধ্রুবদাদা , আমি।

“কখন এলি ? আমি গতকাল তোদের বাড়ি গেছিলাম। তুই ছিলি না। কত জিজ্ঞাসা করলাম তোর কথা ! কাকিমা তো কিছুই বললেন না। শেষে কাকু বললেন তুই নাকি কোন মাসির বাড়ি গেছিস। এখন আসতে পারবি না। ছাড়। কখন এলি ? কেমন আছিস শিনু ?”

“ভাল আছি গো ধ্রুবদাদা। এই একটু আগে এলাম।”

“খুব রাগ হচ্ছিল জানিস তোর উপর। তুই আসবি না ভেবে।”

“নাগো ধ্রুবদাদা। তোমার বিয়ে। আমরা না এসে পারি!”

“আর কে এসেছে রে শিনু?”

“আর কেউ না তো। ও এমনি বললাম। তুমি এখন এই সময়ে ছাদে কেন ?”

“এমনি রে।” উদাস গলায় বলল ধ্রুব।

“আমি জানি কেন! অর্পণকাকুকে মিস করছ তাই না?”

“তোর কাছে ধরা পড়ে গেলাম পাগলি?” সস্নেহে বলল ধ্রুব। “বাবা একটা কথা মজা করে প্রায়ই বলতেন তোর মনে আছে শিনু?”

“মনে আছে ধ্রুবদাদা। কাকু বলতেন আমি মারা গেলে ধ্রুব তুই আমাকে ওই ধ্রুবতারার মধ্যে খুঁজিস। ওখানেই আমাকে পাবি। আর তুমি খুব রাগ করতে ওই কথাটা শুনে।”

“হ্যাঁ। বাবার মৃত্যুর পর বাবার উপর অভিমান করে আর কোনদিন রাতের আকাশের দিকে তাকাই নি। শুধু মনে হত বাবার তারা হয়ে যাওয়ার এত কি তাড়াতাড়ি ছিল! একবারও আমার কথা ভাবল না পর্যন্ত। সত্যি সত্যি চলে গেল।”

“কাকুর উপর আর অভিমান করে থেকো না ধ্রুবদাদা। কাকু তো এখানেই আছে। দেখ আকাশটা আজ কি পরিস্কার ঝকঝকে। মনে হচ্ছে যেন একটা বেনারসী জরি দিয়ে কাজ করা কালো রং এর চাদর। ধ্রুবতারাটা আজ কি সুন্দর টুইঙ্কল করছে দেখ !” শিঞ্জিনী ধ্রুবর দিকে তাকিয়ে একটু জোর দিয়ে বলল, “একবার তাকিয়েই দেখ না!”

ধ্রুব আস্তে আস্তে মুখ তুলল আকাশের দিকে। উত্তর আকাশে একটুকরো হীরের মত উজ্জ্বল ধ্রবতারা। সেই দিকে তাকিয়ে তার মনে হল বাবা যেন সত্যিই ওই তারার ভিতর থেকে তার দিকেই চেয়ে আছেন। আজ বুঝতে পারছিল ধ্রুব, কেন বাবা বলতেন হঠাৎ মৃত্যু এলে তিনি আশ্রয় নেবেন ধ্রুবতারার মাঝে। যুগযুগ ধরে যেমন এই নক্ষত্র মানুষকে সঠিক দিক নির্ণয়ে সাহায্য করেছে তিনিও মৃত্যুর অলঙ্ঘনীয় বাধা উপেক্ষা করে ছেলের সাথে বাঁচতে চেয়েছিলেন, ছেলেকে বড় হতে দেখতে চেয়েছিলেন, তার হাত ধরে তাকে সঠিক দিশা দেখিয়ে জীবনের পথে এগিয়ে চলতে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। ধ্রুবর নিজের অন্যায় জেদ আর অভিমান সেই প্রত্যাশাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দুই চোখ জলে ভরে এল ধ্রুবর। কষ্ট হচ্ছিল তার।

“শুনি থ্যাংক ইউ রে। তোর জন্য বাবাকে আরেকবার ফিরে পেলাম। বাবার স্মৃতিকে অস্বীকার করে আমি বাবাকেই অস্বীকার করছিলাম একথা আজ তুই আমাকে বুঝিয়ে দিলি।” চোখ মুছে শিঞ্জিনীর দিকে তাকাল ধ্রুব।

আরে! মেয়েটা গেল কোথায়! এক্ষুণি তো এখানেই ছিল। দস্তুরমত অবাক হল ধ্রুব। কার্নিসের কাছে গিয়ে পাশের বাড়ির ছাদটা ভাল করে দেখল ধ্রুব। যদিও পূর্ণিমা নয় তবুও অষ্টমীর চাদের আলোয় মোটামুটি স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে চারপাশ। কোথায় গেল মেয়েটা? কিন্তু ওকে থ্যাংকস্ না জানালেই নয়। কাল আর সময় পাওয়া যাবে না। সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে ধ্রুব ছাদ থেকে নেমে এল।

#

“আরে ধ্রুব তুই ?এত রাতে ! সব ঠিক আছে তো বাবা ?”

“হ্যাঁ কাকু। সব ঠিক আছে। আমি শুধু পাঁচ মিনিট শিনুর সাথে দেখা করব। ওকে একটিবার ডেকে দাও প্লিজ।

“শিনুর সাথে। এত রাতে! কাল সকালে বরং ওকে নিয়ে যাব তোর বাড়ি। আজ থাক। ”

“না কাকু। কাল আর হবে না। আমি বেশী সময় নেব না। প্লিজ কাকু ওকে ডেকে দাও। ও যে আমার কত বড় উপকার করেছে তুমি জান না!”

“উপকার করেছে! কি উপকার করেছে ও তোর?”

“এক্ষুনি যখন ওর সাথে ছাদে দেখা হল……”

“শিনুর সাথে তোর দেখা হল!”

“হ্যাঁ। ছাদে দাড়িয়ে ছিল তো ও।”

“আয় ধ্রুব আমার সাথে ,এই যে আমার মেয়ে।”

কাকু ধ্রুবকে নিয়ে এসেছেন দোতলার দক্ষিণ দিকের ঘরটায়। এটা শিঞ্জিনীর ঘর জানে ধ্রুব। ঘরের দেওয়ালে শিঞ্জিনীর একটা বড় বাঁধানো ছবি। ছবিটাতে কোন মালা নেই কিন্তু সামনে টেবিলে একটা ধুপদানিতে ধুপকাঠি জ্বলছে। ধ্রুব বোকার মত চোখে সমরকাকুর দিকে তাকাল।

“গত বছর হঠাৎই শিনুর লাং ক্যান্সার ধরা পড়ে। তিনটে মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছিল। খুব কষ্ট পেয়েছিল জানিস মেয়েটা! তারপর ভগবানের কোলে চিরকালের মত শান্তি পেয়েছে।” সমরকাকু স্বাভাবিক সুরে কথাগলো বললেও বলার সময় তাঁর ঠোঁট কাঁপছিল। “কি আশ্চর্য জানিস ধ্রুব শেষ সময়টায় শিনু তোর কথা খুব বলত। তোকে একবার দেখার খুব সাধ ছিল। প্রায়ই বলত ধ্রুবদাদা এলে, আমার চিকিৎসা করলে আমি ঠিক আবার ভাল হয়ে যাব। সুধা তোকে খবর দিতেও চেয়েছিল। আমিই নিষেধ করি। ভেবেছিলাম যা হওয়ার তা হবেই মাঝখান থেকে তোর পড়াশোনার ক্ষতি আর করা কেন! কাল যখন তুই এলি এই আনন্দের দিনে আর তোকে এই খবরটা দিয়ে তোর মন খারাপ করতে চাইনি। কিন্তু পাগলি দেখছি তার ধ্রুবদাদাকে মরেও ভুলতে পারেনি।”

শেষটায় সমরকাকুর গলাটা হাহাকারের মত শোনাচ্ছিল। ধ্রুবর চোখেও জল। চোখের জলের মধ্যে দিয়েই ঝাপসা দৃষ্টি মেলে সে ছবিতে হাসতে থাকা মেয়েটাকে দেখছিল। এই মেয়েটা বহুদূর থেকে, মৃত্যুর ওপার হতে শুধু একবার তাকে চোখের দেখা দেখতেই ছুটে আসেনি, তার বাবাকে নতুন করে তার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। ধ্রুব মনে মনে বলল , “চিরকাল এই ভাবে আমাকে, তোর ছেলেবেলার সাথীকে পথ দেখাস শিনু। কোনো ভুল করলে এরকম করেই সংশোধন করে দিস। জীবনের পথে একলা যখনই এগিয়ে চলব তুই আমার সাথে ধ্রুবতারা হয়ে সঠিক পথ দেখাস বোন। আমার বুকের মধ্যে আমৃত্যু এইভাবেই আমি বহন করে যাব তোর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতাবোধকে, তোকে না বলতে পারা থ্যাংক্ ইউ টাকে। ”



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.