x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

রুমকি রায় দত্ত

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৭ |
ভ্রমণ ডায়েরির পাতা থেকে


ভ্রমণ ডায়েরির পাতা থেকে

দূরে দেখলাম মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ত্রিকূট পাহাড়। পাথরের খাঁজে খাঁজে ঝোপ। টাঙ্গা পাহাড়ের পাদদেশের কাছাকাছি এসে থেমে গেল নির্দিষ্ট স্থানে। আমরা নেমে দাঁড়ালাম, দেখলাম একটা রাস্তা সোজা সামনের দিকে এগিয়ে পাহাড়ের পায়ের কাছে মিশেছে। দুই পাশে অসংখ্য খাবারের দোকান। দেখলাম রোপওয়ে চেপে অনেকেই পাহাড়ের উপর যাচ্ছে। আমরা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলাম। পাহাড়ের তিনটি চূড়া থেকে এ পাহাড়ের নাম হয় ত্রিকূটাচল। ২৪৭০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই পাহাড়ের উপর ত্রিকূটাচল শিব মন্দির অবস্থিত। দেখলাম অজস্র ভক্ত কাঁধে বাঁক নিয়ে গেরুয়া বসনে কোন অমোঘ টানে যেন ছুটছে মহাদেবের দর্শনে। কিছুটা সময় পাহাড়ের কোলে কাটিয়ে আবার ছুটে চললাম অন্য পথে বেশ কিছুটা দূরে। ঘোরা ছুটে চলেছে কোথাও পিচের রাস্তায়, কোথাও ধুলো ওড়ানো লাল মাটির রাস্তায় আবার কখনো ফাঁকা মাঠের মাঝ দিয়ে। চলতে চলতে দূর থেকে দেখতে পেলাম, তপোবন পাহাড়। নিচ থেকে উপরে তাকালে মনে হয় ধ্যানমগ্ন কোনো মুণির শ্রীচরণে দাঁড়িয়ে আছি। বেশ উঁচু। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠে গেছে সিঁড়ি। একটা একটা সিঁড়ি বেয়ে আমরাও উঠছি উপরে, কিছুক্ষণ পর অনুভব হলো দু’পায়ের পেশিতে তীব্রটান ধরেছে।নাহ্‌, একটু বিশ্রাম না নিলে আর উপরে ওঠা যাবে না। তৃষ্ণায় গলা প্রায় শুকিয়ে কাঠ। সঙ্গে জলের বোতল নিতে ভুলেছি সেটা ত্রিকূট পাহাড় ছেড়ে আসার পথেই টের পেয়েছিয়াম। দেখলাম, সিঁড়ির ডানদিক ও বাঁ দিকে কিছুদূর অন্তর অন্তর বড় বড় হাঁড়ি নিয়ে বসে আছে কিছু মহিলা, পুরুষ। এগিয়ে গিয়ে জানতে পারলাম, লেবুজল। এভাবে এই পাহাড়ে ঘুরতে আসা মানুষজন কে জলপান করায়। যদিও পয়সার বিনিময়ে তবুও কোথাও কি সেবা লুকিয়ে নেই? উপরে উঠে দেখলাম একটা মন্দির। ভক্তের অবিরাম আসা যাওয়ায় সেখানে পুরোহিতের বিশ্রাম নেওয়ার সময় পর্যন্ত নেই। দূর থেকে দর্শন করে ফিরতেই যাবো, দেখলাম মন্দিরের ভিতর অনেক মানুষ একে একে যাচ্ছে কিন্তু আসছে না তো! ঢুকে দেখলাম ভিতরে একটা সিঁড়ি নিচে নেমে গেছে সেই পথে একে একে মানুষ জন নিচে নেমে যাচ্ছে। আমরাও কি আছে জানার আকাক্ষ্মায় ওদের সাথে নিচে নামতে লাগলাম। দেখলাম সিঁড়ি দিয়ে আমরা একটা গর্তের মত গুহায় এসে পড়েছি। একটা শিবলিঙ্গে সিঁদুর মাখানো। দেবতা মানেই তো পয়সা দান...মন থেকে হোক বা না হোক। এক জন লোক আমাদের যে পথে নিয়ে যাচ্ছে আমরাও সেই পথেই চলেছি। বেশ খানিকটা গুহার মত গভীরে প্রবেশ করার পর একটু বাইরে বেরিয়ে আসতেই দেখলাম ঝলমলে সূর্য, কিন্তু একি! আমরা তো চূড়া থেকে অনেক নিচে নেমে এসেছি। প্রায় পাহাড়ের মাঝখানে। কিন্তু চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম, কোনো পথ তো নেই নিচে নামার! ঠিক তখনই সেই পথপ্রর্দশক এসে জানালো আমাদের আরো কিছুটা যেতে হবে সিঁড়ির কাছাকাছি পৌঁছাতে। এবার পথ চলা কোনো মন্দির নয়, পুরো পাথুরে গুহার মধ্য দিয়ে। ঘন অন্ধকার ফাঁক দিয়ে চিলতে আলো, চলতে চলতে পাথরের সূক্ষ্ণ খাঁজের ভিতর দিয়ে হাঁটা এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। কিছু কিছু জায়গা এতো সরু যে ওটার মাঝে আটকে পড়বো না তো! এমন ভাবনায় নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার অবস্থা। এমন কিছু কিছু স্থান পেরিয়ে আসার পর প্রতিবারই মনে হচ্ছিল তখন এযাত্রায় বেঁচে গেলাম। শুধু তো আটকে পড়ার ভয় নয়, বারবার মনে হচ্ছিল, পথপ্রদর্শক যদি চোখের আড়ালে চলে যায় তবে সেখানেই বন্দি থাকতে হবে আমাদের। সেখান থেকে নিজেরা ফিরে আসা অসম্ভব। ভিতরে ভিতরে হাঁটার ফলে বেশ অনেকটাই আমরা নিচে নেমে এসেছিলাম।ওঠার সময় যতটা সিঁড়ি উঠতে হয়েছিল, নামার সময় সিঁড়ির সামনে এসে দেখলাম, খুব বেশি পথ বাকি নেই। 

নিচে নেমে সামান্য জলযোগ সেরে আবার টাঙ্গায়। এবার ফেরার পথের দিকে ছোটা। তখনো দুটো জায়গা বাকি। ঘড়িতে দেখলাম, ২ঃ৩০ বাজে। ঘোড়া ছুটে চলেছে। পথ তার জানা হলেও আমাদের অজানা তাই চোখে আমাদের বিস্ময়ের ঘোর। প্রায় ঘন্টা খানেক ছোটার পর এসে দাঁড়ালাম ‘নওলাক্ষা মন্দিরের’ সামনে। মন্দিরে প্রবেশের আগে জুতো খুলে রাখার নিয়ম তাই আমরা জুতো টাঙ্গাতেই খুলে মন্দিরের প্রধান প্রবেশ দ্বারে ঢুকলাম। বেশ কিছুটা পথ খালি পায়ে হাঁটার পর দেখলাম সামনে দাঁড়িয়ে অপূর্ব এক স্থাপত্য। মন্দিরটির নামকরণের পিছনে একটি কাহিনি আছে। ১৪৬ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই মন্দিরটি নির্মাণের সমস্ত খরচ বহন করে কোলকাতার পাথুরিয়াঘাটার রাজ পরিবারের রাণী চারুশীলা। শোনা যায় রাণী চারুশীলা অসময়ে নিজের স্বামী অক্ষয় ঘোষ ও পুত্র যতীন্দ্র ঘোষের মৃত্যুতে অত্যন্ত শোকাহত হয়ে দেওঘর এ আসেন। তপবনে তাঁর সাথে দেখা হয় স্বামী বালানন্দ ব্রম্ভচারীর সাথে। তিনিই রাণীকে এই মন্দির নির্মাণের পরামর্শ দেন। এরপর রাণী চারুশীলা নয় লক্ষ টাকা ব্যয় করে বেলুরের রামকৃষ্ণ মন্দিরের আদলে এই মন্দিরটি নির্মাণ করান তাই মন্দিরের নামকরণ হয় ‘নওলাক্ষা’। মন্দিরের আরাধ্য দেবতা হলেন রাধা- কৃষ্ণ।




Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.