x

প্রকাশিত

অর্জন আর বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মানুষ সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচলে।সেখানে প্রতিবাদও ভঙ্গুর।আর যথার্থ প্রতিবাদের থেকে উঠে আসে টায়ার পোড়ার গন্ধ।আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝখানে জন্মদাগও মুছে যায়।সংশোধনাগার থেকে ঠিকানার দূরত্ব ভাবেনি কেউ।ভাবেনি হাজার চুরাশির মা’র প্রয়াণ কোন কঠিন বাস্তবকে পর্যায়ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত করেছে।একটা চরিত্র কত বছর বেঁচে থাকে ?কলম যাকে চরিত্রের স্বীকৃতি দেয় তেমন পোস্টমর্টমের পড়ও আরও কয়েকযুগ বাঁচিয়ে রাখতে পারে কলমই। অভয়ারণ্যেও ঘেরাটোপ! সেই আপ্তবাক্য -

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

“মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়” – স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – প্রকৃত সারসই তাহলে উৎকৃষ্টতর।

ভাববার সময় এসেছে। প্রতিবাদটা কোথা থেকে আসে—বোধ ?মস্তিষ্ক ?মুঠো? না বাহুবল?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

বিদিশা সরকার

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৭

নাসির ওয়াদেন

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
" বিন্দু বিন্দু চাহিদা সময়ের স্রোতে "

রাজায় রাজায় যুদ্ধ হলে / উলু খাগড়ার প্রাণ গলে -ঐতিহাসিক এক প্রবচনকে স্থির বিন্দুতে রেখে আমার নিজস্ব বার্তা দিয়ে বলতে চাইছি ।পাঠক মার্জনা করবেন, ঐতিহাসিক তথ্যের বিভ্রান্তি ছড়ানো আমার অভিপ্রায় নয়, উদ্দেশ্য "রাজায় প্রজায়" কী রকম সম্পর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়, কি উপায়ে বিপরীতধর্মী দ্বান্দ্বিক বস্তুকে পারস্পরিক বন্ধনে আবদ্ধ করে এক সংবৃত্তন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করা। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে অতীতের রাজা আর প্রজার মধ্যে সম্পর্কের তিক্ত চিত্র, ' রাজা ' যদি প্রশাসনিক প্রতীক এবং 'প্রজা' আমজনতার প্রতিবিম্ব হয়ে থাকে, তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যেতেই পারে , সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ দুই যুযুধান যোদ্ধার পরস্পরের প্রতি যে বিদ্বেষ, জ্বালা, অসংবৃত্ত ক্ষেত্রভূমির জরিপ চিহ্নিত হয়ে আসছে, একবিংশ শতকের আধুনিকতার সৌর উত্তাপে এবং মনন সংস্কৃতির আবহ সংগীতে মিলনের ঐক্য সুর ধ্বনিত হোক ।যখন রাজা নিজে চক্রবেষ্ঠিত পরিজনের সুখ সমৃদ্ধির জন্য অগণিত জনতার শৌর্য বীর্য লুণ্ঠন করে, কষ্টার্জিত শ্রমের উপার্জিত অর্থ বিলুণ্ঠন করে, তখনই স্বৈরাচারী, স্বার্থপর, ক্ষমতালিপ্সু, হিংসাত্মক বাদী , পরম অর্থগৃধ্ন , সাম্রাজ্যবাদী, আত্মকেন্দ্রিক রূপে তিনি প্রতিভাত হয়ে পড়েন এবং অপরদিকে নিরীহ ,সহজ, সরল গ্রাম্য অশিক্ষিত জনতা মেষের মতো হাঁড়িকাঠে আত্মবলিদান দিতে থাকে ।এতে সমাজের কোনদিন উন্নতি সাধন ঘটে নি ।

রাজ্যে, দেশে,মহাজাগতিক বিচরণ ক্ষেত্রে রাজা প্রজার সম্পর্কে নৈকট্য না আসবে, এবং ভেদাভেদ, বিচ্ছিন্নতা থাকবে, ততদিন কাল্পনিক রাষ্ট্র Utopia সমতুল বাস্তব রাষ্ট্র (Real State )গড়ে উঠবে না ।আমি কোনদিনই ইউটোপিয়া সাম্রাজ্যে বিশ্বাসী নই, বিশ্বাস করি না কর্মহীন ব্যক্তির সুখ অট্টালিকা গড়ে তোলার সুখস্বপ্ন । স্বপ্ন দেখা ভালো, কিন্তু স্বপ্নের মোহে মুগ্ধ হয়ে দিবানিদ্রা একরকম অলসতা বহিঃপ্রকাশ । যখনই দেখি বা শুনি যে, গণতন্ত্র ধুলো ভূলুণ্ঠিত, বিস্মিত হই গণতন্ত্র কি লুঠের পণ্য, গণতন্ত্র কি শুধুই মানুষের মনের বাহ্যিক প্রকাশ ।স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণা, ঐহিক চিন্তা ভাবনার ফসল যখন ফুলে ফলে পল্লবীত হয়ে ওঠে, গণতন্ত্র যখন বাঁচার গান নিয়ে ঘোরে, পাখির কুজনে গলা মেলায়, বাতাসের ঢেউ এ তরঙ্গিত হয়, তখনই মানবতার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে ভাসে আকাশে বাতাসে ।কোন প্রশাসনিক যন্ত্র যখন মানুষের বাক্ স্বাধীনতা, কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতা, সর্বোপরি মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে, তখনই বুঝতে হবে, তার পায়ের তলার মাটি ক্রমাগত আলগা হচ্ছে । ধীরে ধীরে অপসৃত আলোর মতো গতি হারিয়ে যাচ্ছে আঁধারে, সমুদ্রের অতলে; তলিয়ে যাবে একদিন, কোন এক মুহূর্তে যে, মুহূর্ত অপেক্ষা করছে উল্লম্বত্ববাদে ।"আমি "(I)ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তার অবসান ঘটে গেছে অনেক আগেই, তবুতবুও আমরা এখনও '' আমিত্ব ''কে আঁকড়ে রাখার চেষ্টা অনবরত করে চলেছি ।

গণতন্ত্রকে হত্যা করার যথার্থ অর্থে বলা যেতে পারে যে, গণতান্ত্রিক চেতনাবোধকে জোর করে আটকে দিয়ে অন্যপথে বিপথে জনগণের একাংশকে ঠেলে দেওয়া । যেকোন সময়ে, যে কোন সাম্রাজ্যে, যে কোন স্থান ,কাল.পাত্রে গণতন্ত্রকে টুঁটি চেপে ধরার অপকৌশল হয়েছে, তখন তারই পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসসন্ত্রাসবাদ ও সমান্তরাল স্বৈরতন্ত্রবাদের পথ উন্মুক্ত হয়েছে । যদি কোন ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথা চাড়া দেয়, তাহলে তৎক্ষণাৎ সেই রাজন পরিগ্রহমণ্ডলীকে গভীরে গিয়ে তার অনুসন্ধান করে যোগ্য বিশল্যীকরণ মহৌষধ প্রয়োজন, নতুবা অচিরে বিষবৃক্ষের পর্ণ প্রস্ফুটিত ও পল্লবীত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে । চারিত্রিক দৃঢ়তা, সততা, স্বচ্ছতা, সর্বোপরি জনগণের নেতা হতে হলে জোরজবস্তি বা হুঙ্কার দিয়ে নয়, বরং প্রয়োজন সদিচ্ছা ও সহানুভূতির । ভালবাসা পারে মানুষের মনের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন আর এক সুস্থ পরিবেশের বি-নির্মাণ ।

বিন্দু বিন্দু চাহিদা সময়ের মহাসাগরের স্রোতে জাঁকিয়ে ধরে আছে সমাজকে । সমাজের প্রতিটি স্তরে মানুষের চাহিদা মতো প্রয়োজন পুষিয়ে দেওয়া এই মুহূর্তে সম্ভব না হলেও, রাষ্ট্র নায়কদের মনে সদিচ্ছা থাকলে আপামর জনসাধারণের কল্যাণকর, জনহিতকর কর্মসূচী গ্রহণের মধ্য দিয়েই জাতির কিছু ভালো করা সম্ভব । কিন্তু আমরা দেখছি, আজ জাতিভেদ, বর্ণভেদ, ভাষাবিভেদ যেভাবে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, তাতে মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কে যে প্রগাঢ় মধুর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তা অতি ভঙ্গুর -কাচের গ্লাসের মতো চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে সময়ের অপেক্ষা । রাষ্ট্রনায়ক যদি কল্পিত ধর্মীয় উন্মাদনা জাগিয়ে তোলে, জাতি দাঙ্গাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তা আত্মঘাতী এবং অবিলম্বে তা বন্ধ করা উচিত । ধর্ম নিরপেক্ষতা যদি রক্ষা করা না যায়, তাহলে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তা দূর করা সম্ভব হবে না ।ভাল কাজে পুরস্কার ও মন্দ কাজে তিরস্কার মাথায় রেখে যদি মনে করি, পারলৌকিক জীবনে স্বর্গীয় সুখ বা বেহেশতের সুষমা লাভের জন্য পূর্ণ্যি করি, তার যদি এক শতাংশ ইহলোকে সমাজের ভেতর প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করি, তাহলে রাজা - প্রজার মধ্যে যে মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা, তা অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলতে পারে । আমাদের মনে যে লোভ, লালসা মোহ, রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে, সেই পথ থেকে সরে এসে নতুনতর দিকের উন্মেষ ঘটাতে হবে । আমি সমাজতন্ত্রী সমাজ, বা আদিম সাম্যবাদী সমাজের কিংবা উত্তরাধুনিকতার নব্যসমাজ ব্যবস্থার কথা বলছি না, চাইছি পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য কিছু করতে ,পৃথিবীর সব রাষ্ট্র প্রধানগণ যদি 'একমন, এক জাতি, এক মতাদর্শ 'কে সামনে রেখে মানব জাতির কল্যাণে সহমত পোষণ করে সুখী সমাজের চিন্তা করেন, তা কি অন্যায়ের হবে? কোন এক ক্ষুধার্ত প্রাণী আজ না খেতে পেয়ে মারা যান, মৃত্যুর পর রাশি রাশি খাবার তাঁর সমাধি বা অন্তিম কক্ষে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়, তাহলে তাঁর কি উপকার হবে? আমরা কি এই কথা মনে ভাবতে পারি না? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তাও সম্ভব না হলে, গনতন্ত্রের নামে মিথ্যা, প্রতারণা দিয়ে জনগণকে ভাঁওতা দিয়ে নিজেদেরকে ঠকাচ্ছি না? আমেরিকা প্রেসিডেণ্ট মূল্যবান সংজ্ঞা : of the people, for the people, of the people কে সরিয়ে ফেলি ।মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, ষড়যন্ত্র, হিংসা , বিদ্বেষ ও জিঘাংসা কেন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে? কেন আজও একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিয়ে বলতে হচ্ছে " আমিই " শেষ কথা বলবো , বিরোধী কেউ থাকবে না । যদি এই কথাতেই শিলমোহর দিতে হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা এই রকম হলে -আমরা বলতেই পারি Democracy means off the people, far the people, buy the people. অর্থের দাম্ভিকতা, বাহুবলী শক্তি প্রদর্শন , শঠতা ও ধৃষ্টতার যাঁতাকলে পরে মানব জাতির অসহায় , সহজ সরল, পরম সহিষ্ণু, সদাচারী আম-আদমি তার শেষ হাতিয়ার গণতন্ত্রকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠবে, বলা বাহুল্য , স্বৈরাতান্ত্রিক শাসন ধূলিসাৎ হবে, বুক ফুলিয়ে বীরের মতো বলবে আমি নই আমরাই গণতন্ত্র ।

" রাজায় প্রজায় " আলোচনা করতে গিয়ে দেখি প্রাচীন কাল থেকে আধুনিক সময় পর্ব পর্যন্ত যে মিথ (myth ) জনগণের মনে প্রোত্থিত ছিল তাকে টেনে বের করে উন্মুক্ত উঠোনে দাঁড়িয়ে আজ ঘোষণা করা হোক, আমরা পুরাতন মিথ ভেঙে নতুন পথে যাত্রা করতে চাই । রাজা-প্রজার লড়াই না, গড়ে উঠুক সৌহার্দ্য, সৌভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে, প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রজাদের হিতার্থে নতুন পথ খুঁজে নিতে ।প্রজার মনের তিমির আকাশে শত শত নক্ষত্রের আলো প্রজ্বলিত হোক, জীবন তরঙ্গে জেগে ওঠুক অগণিত জনতার সৌহার্দ্যের প্রীতি বন্ধনে, অবসান ঘটুক নেতিবাচক চিন্তার-ফুটে উঠুক সাম্যের, স্বাধীনতার, ধর্ম আচরণের পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ।

শেষে Eleanor Roosevelt 'র কথায় বলি :YouTube wouldn't worry so much about what others think of you realized how seldom they do. •••.




Comments
0 Comments
 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.