x

প্রকাশিত ৯৬তম সংকলন

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

কোয়েলী ঘোষ

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৭ |
 রাজায় প্রজায়

কলেজের করিডোর দিয়ে সিক্তা হেঁটে আসছিল । তার মুখে এক কাঠিন্য, চলায় ব্যক্তিত্ব তাকে কিছুটা আলাদা করেছে । আজ সে বেশ চিন্তিত ,কিছুটা উত্তেজিত । দেখা হল শ্রীময়ীর সাথে । 

চল ,বাড়ি ফিরবি না কি ? আমিও যাব । আজ কলেজে যা হল আর এ ভাবে কতদিন চাকরি করবো জানি না ।

সিক্তার মুখ আরও কঠিন হল । হ্যাঁ -- আমি তো ওই হলেই ছিলাম । একসাথেই পরীক্ষার গার্ড দিচ্ছিলাম । অনুরাধাদি যখন ছেলেটার খাতা কেড়ে নিলেন কি তড়পানি সে ছেলের ! কোন ভয় নেই ! মোবাইল থেকে গুগুল সার্চ করে টুকছিল । খাতা আর মোবাইল কেড়ে নিতেই সে ছেলে বলে কি না ---চলুন , প্রিন্সিপ্যালের কাছে -- এতদূর স্পর্ধা ! আমিও গেলাম -- সাথে সাথে আরও টিচাররা , আর সবার সামনে ওই পুঁচকে ছেলের কাছে ক্ষমা চাইতে হল । এমন হবে ম্যাম ভাবেন নি, আমিও ভাবতে পারিনি । রাগে অপমানে মুখটা কালো হয়ে গেল দিদির।এত বড় একজন সিনিয়র টিচার !ছি ছি, ভাবতে পারি না । লজ্জায় বেরিয়ে এলাম । 

হ্যাঁ শুনলাম কোন নেতার ছেলে । চাকরি যাবার ভয়ে -- বুঝলি না ?

কিন্তু এমনি করে আর কতদিন চলবে ? সেদিন অর্কর নাক মেরে ফাটিয়ে দিয়েছে মোটরসাইকেল নিয়ে ইচ্ছে করে --কি জন্য যেন একটু শাসন করেছিল । 

পরিস্থিতি খুব খারাপ । কিন্তু এ ভাবে মুখ বুজে সব মেনে নিলে ... কথা শেষ হল না । 

বাস চলে এসেছে বলে সিক্তা উঠে পড়ল । ভিড় বাস, রড ধরে ভেতরে ঢুকে সোজা হয়ে দাঁড়াল । চিরকাল সে এইভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় । কাল আবার গার্ড দিতে হবে । যদি কাল আবার ... চোয়াল শক্ত হল ।


#

পরের দিন । ছেলেটা পরীক্ষা দিতে বসেছে একেবারে লাস্ট বেঞ্চে । খাতা ,প্রশ্নপত্র দেওয়া শেষ । ছেলেটার দিকে নজর রাখল । মোবাইল বার করে লিখছে আবার । সিক্তার আর সহ্য হল না , মুখের সামনে ভেসে উঠল অনুরাধাদির কালো হয়ে যাওয়া মুখটা। সে গিয়ে ডানহাত চেপে ধরল ।তারপর খাতা নিয়ে একেবারে সামনের বেঞ্চে বসিয়ে দিল । 

এখানে বসে লেখো । তোমার মোবাইল আমার কাছে জমা রইল । পরীক্ষার শেষে ফেরত পেয়ে যাবে । 

ম্যাম ,ভাল হচ্ছে না কিন্তু ।আপনি চলুন প্রিন্সিপ্যালের কাছে । জানেন আমার বাবা কে ? 

সিক্তা কোন উত্তর না দিয়ে বসে রইল । কান লাল , কঠিন মুখ । এমন ভুল সে করবে না । 

দেখে নেব আপনাকে । এই কলেজের বাইরে ...  একবার বের হন ...

চুপ একেবারে ,চুপ । বাকিদের ডিস্টার্ব করবে না । 

না কোনভাবেই আর প্রশ্রয় নয় । ছেলেটা আর একটা অক্ষর লিখতে পারেনি । এরপরের দাবী হল ...  পাশ করিয়ে দিতে হবে। কক্ষনো নয়  ... কিছুতেই নয় ।

পরীক্ষা শেষ । গেটের কাছে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে । ও কি কিছু ক্ষতি করবে ? 

অনেকটা পথ একা যেতে হবে ,তারপর বাসরাস্তা। ছেলেটা পিছু নিয়েছে । সিক্তা জোরে পা চালাল । 

ঘ্যাঁচ করে একটা অটো সামনে এসে দাঁড়াল । সিক্তা উঠে পড়ল । 

ছেলেটা আপনাকে ফলো করছিল দিদি । সাবধানে যাবেন । 

সারাদিনের ক্লান্ত মুখে হাওয়া এসে ঝাপটা মারছে। ছুটে চলেছে অটো । না , বার বার ভয় পেয়ে হেরে যাওয়া নয় । দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাবার আগে একবার অন্তত ঘুরে দাঁড়াতেই হয় । 




Comments
1 Comments

1 টি মন্তব্য:

  1. পড়তে গিয়েও কি ভয় করছিল ! যদি ছেলেটা কিছু করে ! এরা তো এমনই বেপরোয়া ! পথ খুঁজে বের করতেই হবে

    উত্তরমুছুন

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.