x

প্রকাশিত

​মহাকাল আর করোনাকাল পালতোলা নৌকায় চলেছে এনডেমিক থেকে এপিডেমিক হয়ে প্যানডেমিক বন্দরে। ওদিকে একাডেমিক জেটিতে অপেক্ষমান হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।​ ​দীর্ঘ সাতমাসের এ যাপন চিত্র মা দুর্গার চালচিত্রে স্থান পাবে কিনা জানি না ! তবে ভুক্তভোগী মাত্রই জানে-

​'চ'য়ে - চালা উড়ে গেছে আমফানে / চ'য়ে - কতদিন হাঁড়ি চড়েনি উনুনে / চ'য়ে - লক্ষ্মী হলো চঞ্চলা / চ'য়ে - ধর্ষিতা চাঁদমনির দেহ,রাতারাতি পুড়িয়ে ফেলা।

​হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষটি লালমার্কার দিয়ে গোল গোল দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায়, চোদ্দদিন যেন চোদ্দ বছর। হুটার বাজিয়ে শুনশান রাস্তায় ছুটে যায় পুলিশেরগাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর শববাহী অমর্ত্য রথ...। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেকটা জল, 'পতিত পাবনী গঙ্গে' হয়েছেন অচ্ছুৎ!

এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা?

ছবিতে স্পর্শ করুন

শব্দের মিছিল

অতিথি সম্পাদনায়

সমীরণ চক্রবর্তী

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৭

কোয়েলী ঘোষ

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৭ | | মাত্র সময় লাগবে লেখাটি পড়তে।
 রাজায় প্রজায়

কলেজের করিডোর দিয়ে সিক্তা হেঁটে আসছিল । তার মুখে এক কাঠিন্য, চলায় ব্যক্তিত্ব তাকে কিছুটা আলাদা করেছে । আজ সে বেশ চিন্তিত ,কিছুটা উত্তেজিত । দেখা হল শ্রীময়ীর সাথে । 

চল ,বাড়ি ফিরবি না কি ? আমিও যাব । আজ কলেজে যা হল আর এ ভাবে কতদিন চাকরি করবো জানি না ।

সিক্তার মুখ আরও কঠিন হল । হ্যাঁ -- আমি তো ওই হলেই ছিলাম । একসাথেই পরীক্ষার গার্ড দিচ্ছিলাম । অনুরাধাদি যখন ছেলেটার খাতা কেড়ে নিলেন কি তড়পানি সে ছেলের ! কোন ভয় নেই ! মোবাইল থেকে গুগুল সার্চ করে টুকছিল । খাতা আর মোবাইল কেড়ে নিতেই সে ছেলে বলে কি না ---চলুন , প্রিন্সিপ্যালের কাছে -- এতদূর স্পর্ধা ! আমিও গেলাম -- সাথে সাথে আরও টিচাররা , আর সবার সামনে ওই পুঁচকে ছেলের কাছে ক্ষমা চাইতে হল । এমন হবে ম্যাম ভাবেন নি, আমিও ভাবতে পারিনি । রাগে অপমানে মুখটা কালো হয়ে গেল দিদির।এত বড় একজন সিনিয়র টিচার !ছি ছি, ভাবতে পারি না । লজ্জায় বেরিয়ে এলাম । 

হ্যাঁ শুনলাম কোন নেতার ছেলে । চাকরি যাবার ভয়ে -- বুঝলি না ?

কিন্তু এমনি করে আর কতদিন চলবে ? সেদিন অর্কর নাক মেরে ফাটিয়ে দিয়েছে মোটরসাইকেল নিয়ে ইচ্ছে করে --কি জন্য যেন একটু শাসন করেছিল । 

পরিস্থিতি খুব খারাপ । কিন্তু এ ভাবে মুখ বুজে সব মেনে নিলে ... কথা শেষ হল না । 

বাস চলে এসেছে বলে সিক্তা উঠে পড়ল । ভিড় বাস, রড ধরে ভেতরে ঢুকে সোজা হয়ে দাঁড়াল । চিরকাল সে এইভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় । কাল আবার গার্ড দিতে হবে । যদি কাল আবার ... চোয়াল শক্ত হল ।


#

পরের দিন । ছেলেটা পরীক্ষা দিতে বসেছে একেবারে লাস্ট বেঞ্চে । খাতা ,প্রশ্নপত্র দেওয়া শেষ । ছেলেটার দিকে নজর রাখল । মোবাইল বার করে লিখছে আবার । সিক্তার আর সহ্য হল না , মুখের সামনে ভেসে উঠল অনুরাধাদির কালো হয়ে যাওয়া মুখটা। সে গিয়ে ডানহাত চেপে ধরল ।তারপর খাতা নিয়ে একেবারে সামনের বেঞ্চে বসিয়ে দিল । 

এখানে বসে লেখো । তোমার মোবাইল আমার কাছে জমা রইল । পরীক্ষার শেষে ফেরত পেয়ে যাবে । 

ম্যাম ,ভাল হচ্ছে না কিন্তু ।আপনি চলুন প্রিন্সিপ্যালের কাছে । জানেন আমার বাবা কে ? 

সিক্তা কোন উত্তর না দিয়ে বসে রইল । কান লাল , কঠিন মুখ । এমন ভুল সে করবে না । 

দেখে নেব আপনাকে । এই কলেজের বাইরে ...  একবার বের হন ...

চুপ একেবারে ,চুপ । বাকিদের ডিস্টার্ব করবে না । 

না কোনভাবেই আর প্রশ্রয় নয় । ছেলেটা আর একটা অক্ষর লিখতে পারেনি । এরপরের দাবী হল ...  পাশ করিয়ে দিতে হবে। কক্ষনো নয়  ... কিছুতেই নয় ।

পরীক্ষা শেষ । গেটের কাছে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে । ও কি কিছু ক্ষতি করবে ? 

অনেকটা পথ একা যেতে হবে ,তারপর বাসরাস্তা। ছেলেটা পিছু নিয়েছে । সিক্তা জোরে পা চালাল । 

ঘ্যাঁচ করে একটা অটো সামনে এসে দাঁড়াল । সিক্তা উঠে পড়ল । 

ছেলেটা আপনাকে ফলো করছিল দিদি । সাবধানে যাবেন । 

সারাদিনের ক্লান্ত মুখে হাওয়া এসে ঝাপটা মারছে। ছুটে চলেছে অটো । না , বার বার ভয় পেয়ে হেরে যাওয়া নয় । দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাবার আগে একবার অন্তত ঘুরে দাঁড়াতেই হয় । 




1 টি মন্তব্য:

  1. পড়তে গিয়েও কি ভয় করছিল ! যদি ছেলেটা কিছু করে ! এরা তো এমনই বেপরোয়া ! পথ খুঁজে বের করতেই হবে

    উত্তর দিনমুছুন

সুচিন্তিত মতামত দিন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Support : FACEBOOK PAGE.

সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ ,আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা

Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.