x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

ঝুমা চট্টোপাধ্যায়

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৭ |
রসগোল্লা

দীর্ঘ ছ ছটা বছর কাঞ্চনের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই । ও ফোন করলে আমি ধরি না । ফেসবুক হোয়াটস্ অ্যাপে ওকে ব্লক করে রেখেছি । আজ সক্কালবেলা বলা নেই কওয়া নেই মালটা দেখি এসে হাজির । মুখে নিম পাতার স্বাদ নিয়ে এক কাপ লিকার চা সামনে ধরে দিলাম । দিতেই হল । নাহলে শুঁড়িখানায় নিজের মান জলের দামে বিকোবে । চা টা খাচ্ছে ও তারিয়ে তারিয়ে । বিস্কুটগুলো ছোঁয়নি । ঠিক করলাম চলে গেলে ডাস্টবিনে ফেলে দেবো ওগুলো। ঠিক তখনই বাবির ফোন ।

- আমার লাল ড্রেসিং গাউনটা কোথায় রেখে গেছিস দিদি ? খুঁজে পাচ্ছি না । ’ 

দ্যাখ না সবুজ ব্রীফকেশটায় রেখে এসছি মনে হয়  ...

দেখলাম । নেই ওখানে ।

তাহলে খুঁজে নে নিজে ! আমি ব্যস্ত ।

আড়চোখে কাঞ্চনকে দেখি চা শেষ করে ও একমনে জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে । বিরক্তিতে গা জ্বলে যায় । রাগে মাথা দপদপ করে । জিভ শুকনো । কতক্ষণ বসবে কে জানে ? উটকো আপদ ! চড়াম করে সব রাগটা গিয়ে পড়ে বাবির ওপর । লাল গাউন পরে উনি যাবেন পার্টি অ্যাটেন করতে । সুখের চোদ্দ পোয়া । এদিকে বড়দিদি সুগার প্রেশার কোলেস্টরল অ্যালঝাইমার সব নিয়ে কয়েদী সেজে বসে । কি করলি তুই দিদির জন্য ? না অফিস থেকে বড় প্যাজেরোটা পাঠিয়ে ফোন করে বলে দিলি , দিদি ডাক্তারখানা চলে যা ...... ড্রাইভারকে বলাই আছে ! ’ 

কিচেনে প্রেশার কুকারটায় হুশহুশ করে পরপর তিনটে সিটি পড়ে গেল । দৌড়ে গিয়ে একটা চামচ দিয়ে হুইশলটা তুলে ধরলাম । কিছুটা স্টীম বের না করে দিলে খাবার সময় ভেতরের বস্তুটা আর চেনা যাবে না । গলার কাছে হৃৎপিন্ডটা লোফালুফি করছে । হঠাৎ দৌড়ে আসার ফল । চোখের দৃষ্টিও ঝাপসা । নির্ঘাৎ সুগার ফল করেছে । স্নায়ু উত্তেজনাকে কোনো রকমে বাগে রেখে কেঠো স্বরে কাঞ্চনকে বললাম , আজ এসো ।

হঠাৎ ভীষণ ঘাম হচ্ছে । হাত পাগুলোও কেমন যেন ঝিমিয়ে আসছে । হায় আল্লা ! স্ট্রোক ফোক হবে না তো ? ডক্টর বলেই রেখেছিলেন এমন সিমটম দেখলে মিস্টি বা মিস্টি জাতীয় খাবার যা হোক কিছু খেয়ে নেবেন । 

কাঞ্চনের এঁটো কাপটা দেখে মনে পড়ল ও চায়ে চিনি খায়নি । কিন্তু কাপের পাশে ওটা কি ? কে আনল ? স্বচ্ছ পলিথিনের প্যাকেটের ভেতর গোটা ছয়েক বড় রসগোল্লা । নতুন গুড়ের ।



Comments
0 Comments

-

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন


বিজ্ঞপ্তি
■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.