x

প্রকাশিত বর্ষপূর্তি সঙ্কলন

দেখতে-দেখতে ১০ বছর! শব্দের মিছিলের বর্ষপূর্তি সংকলন প্রকাশের সময় এ খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অজস্র লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনে আমরা অনায়াসেই পেরিয়ে এসেছি এই দশটি বছর, উপস্থিত হয়েছি এই ৯৫ তম সংকলনে।

শব্দের মিছিল শুরু থেকেই মানুষের কথা তুলে ধরতে চেয়েছে, মানুষের কথা বলতে চেয়েছে। সাহিত্যচর্চার পরিধির দলাদলি ও তেল-মারামারির বাইরে থেকে তুলে আনতে চেয়েছে অক্ষরকর্মীদের নিজস্বতা। তাই মিছিল নিজেও এক নিজস্বতা অর্জন করতে পেরেছে, যা আমাদের সম্পদ।

সমাজ-সচেতন প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে শব্দের মিছিল   প্রথম থেকেই নানা অন্যায়, অবিচার, অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। এই বর্ষপূর্তিতে এসেও, সেই প্রয়োজন কমছে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী বিভিন্ন হিংসাত্মক কাণ্ড আমাদের যথারীতি উদ্বিগ্ন করছে। যেখানে বিরোধী দলের হয়ে কাজ করা বা বিরোধী দলকে সমর্থন করার অধিকার এখনও নিরাপদ নয়, সেখানে যে গণতন্ত্র আসলে একটি শব্দের বেশি কিছু নয়, সেকথা ভাবলে দুঃখিত হতেই হয়। ...

চলুন মিছিলে 🔴

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৭

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

sobdermichil | জানুয়ারী ২৬, ২০১৭ | | মিছিলে স্বাগত
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

1111
 ভয় 

১।

ভেবে সে খাটের নীচে
ঘরের কোণে
কিংবা মাটির তলার ঘরে
চাপ কিন্তু থেকেই যায়
রেললাইনে ফেলে এলেও
বুকের উপর ট্রেনের আওয়াজ
ধরা না পড়লেও সে আসলে ধৃতই
নিজেকে দেখলেই আতঙ্ক
একটা বিরাট বাদুড় তাকে
তুলে নিচ্ছে  ঠোঁটে
অন্যের রক্তপাতের পর সে প্রস্তুত ছিল না
অন্য কেউ তার রক্ত শুষে খেতে
পারে .....

২।

শহীদ বেদী ভেঙে ফেলবার পর
একটা অন্ধকারের তর্জনী
শাসালেও তুমি ভাবছো
এখন সবই তো মুঠোয়
তবুও জানালা দরজা বন্ধ
পিছন ফিরে তাকাতেই চাইছো না
বাতাসে হা হা হাসি না হুংকার
রক্তের ভেতর শুধু ব্যর্থতা নয়
সফলতাও ভাবিয়ে তুলেছে ...

৩।

ঠোঁটকে বলাচ্ছে বেহায়া বড়ো
মেয়ে জন্মের দোষ
ফোঁস করে ওঠে পেটে
শিক্ষা পড়লেই স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ
কলরব তাড়া করতে করতে
মুখ খারাপ করে দিচ্ছে
এতো কাক ঠুকরে দিতে দিতে .....

৪।

রোগ রুগী করে তোমার সব
চুল ছিঁড়ে নিতে চাইছে
আঙুলের মহিমা অপার
ট্রিগার টানার আগে তুমিও ভাবো নি
রক্ত দেখার পর সফেদ  ভাত
মাংসের পাশে নাড়া দেবে
যেন দামী পাথর আটকে আছে গলায়
কোনো কাজেই আর না এলে
কেটে ফেলার কথা ভাবতে ভাবতে শিরার শরীরে ব্লেড
এ গল্পের কথাও  তোমার মনে এসেছিল ......

৫।

বিদ্যুৎ চমকালে
নিজের ভিতর চিরে যায়
অন্ধকার গুহায় অসহায়
শব্দ একটা অন্য হাতের জন্য হাতড়ায়
পাহাড়ের গায়ে মাদল
বাজে বুকের গভীর অরণ্যে
তুমি শুধু বিষাক্ত তীর রেখে গেছো
গুছিয়ে নেবো ভেবেও সব
অগোছালো
গুহা দেবতা সূর্য ফোটাও মেঘলা
শরীরে ......

৬।

নিহতের সঙ্গে চাইনিজ
খাওয়ার পর
সে আর কোনদিন কাঁটাচামচ
ধরে নি কিংবা ফেরেনি রেঁস্তোরায়
বান্ধবী বোঝে নি ছুরি ধরে
তার অসম্ভব কাঁপুনি আর জ্বর
না সে পারছে না হাতের সাথে
বোঝাপড়া করে নিতে
ছায়াযুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই
ছায়ার ভিতর থেকে উঠে আসছে
রক্তমাখা নাড়িভুঁড়ি
গলায় প্যাঁচ কষছে লঘু সঙ্গীতের সাথে
ভোরের ভিতর একটা অস্ফুট গোঙানি
আর ঠিকরে আসা চোখ
সমস্ত অস্বীকার তাকে শিকার করে ফিরে যাচ্ছে ...

৭।

মোড়ের মাথায় সুধন্যবাতাস নেই
শুধু কিছু মৃত পালকে রক্ত গন্ধ
বর্ষায় ফোটা কদম ফুলের গায়ে
সূর্য কিছুটা কর্কশ এবং হৃদয়ও
সে চেয়েছে কিন্তু সে না বুঝেই
নাটকের শেষ অঙ্কে পৌঁছে দিয়েছে
কখন সে নিজেই শত্রু নিজের
সুপারি কিলার আর ক্রমশ আতঙ্ক
ব্লেডে আঙুলের সামান্য রক্তপাত
আর সে অসহায় নিহতের মুখ
রঙ্গমঞ্চের পর্দা টেনে দেয়
পাটিগণিতের সমস্যা সমাধাণ না হলেও
আরেকটা অংক শূন্য রয়ে যায়

৮।

অন্ধকারের ভিতরে হাঁটতে পারি না
কাল সাপ ফণা উঁচিয়ে আছে
মোবাইল হারিয়ে গিয়েছে
হাতড়াতেও ভয় পাচ্ছি
কিংবা হঠাৎ বৃষ্টি নেমে মুছে গেছে
সমস্ত পরিচয় ও শংসাপত্র
অথবা সজোরে কোনো অটো
উড়িয়ে নিয়ে চলে গেল দেহটাই
অমূলক এইসব মৃত্যু চিন্তার মধ্যে
বেঁচে থাকার ষোলো আনা ইচ্ছে
তোমার কাছে দাঁড় করায়
ভয়ের বাইরে বেরনোর প্রাণপণ চেষ্টা
একটা জীবনকে তুমি দেয়


Comments
1 Comments

1 টি মন্তব্য:

সুচিন্তিত মতামত দিন

পাঠক পড়ছেন

 

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

■ আপডেট পেতে,পেজটি লাইক করুন।
সার্বিক অলঙ্করণে : প্রিয়দীপ | আহ্বায়ক : দেবজিত সাহা
Website Published and © by sobdermichil.com

Proudly Hosting by google

Blogger দ্বারা পরিচালিত.